ঢাকা, সোমবার 24 September 2018, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

১৩ বছর বয়সে বড় ব্যবসায়ী

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বিবিসি সাপ্তাহিক 'বস' সিরিজে প্রতি সপ্তায় সারা পৃথিবী থেকে বাছাই করে একজন ব্যবসায়ী নেতাকে হাজির করা হয়।কিন্তু এ সপ্তায় তারা হাজির করেছে মাত্র ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরীকে।

যে বয়সে পড়াশোনা ও খেলাধুলা করার কথা সেই বয়সে ব্যবসায়ী বনে গিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এক কিশোরী। তার নাম মিকাইলা উলমার। বয়স মাত্র ১৩ বছর। সে তার প্রতিষ্ঠিত লেমোনেড কোম্পানি মি অ্যান্ড দ্য বি’স এর সিইও। তার প্রতিষ্ঠানের পণ্য কিনছে লাখ লাখ মানুষ।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ৫০০’র বেশি সুপারশপে বিক্রি হয় মিকাইলার লেমোনেড। ব্যাবসা সামাল দিয়ে স্কুলের পড়াশোনায় ঠিকমতো সময় দিতে পারে না সে। তাই এবছরের পরীক্ষায় গণিতে সে ‘সি’ পেয়েছে। সে নিয়মিত বড় বড় ব্যবসায়িক সম্মেলনে ভাষণ দিয়ে থাকে। সেখানে বড় ব্যবসায়ী হবার উপায় ও কিভাবে নিজে এই পর্যায়ে এসেছে সে ব্যাপারে বক্তব্য রাখে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উদ্যোক্তা সম্মেলনেও বক্তা হিসেবে সে নিয়মিত মুখ।

বিবিসিকে এই কিশোরী বলে, ‘পড়াশোনায় বেশি সময় দিতে পারি না। পত্রিকা সাংবাদিকদের সাক্ষাতকার দিতে হয়, বড় বড় টিভি চ্যানেলে টকশো’র জন্য যেসব আমন্ত্রণ আসে সেগুলো রক্ষা করতে হয়। আর একের পর এক সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ার আমন্ত্রণ আসে। কষ্ট হলেও সবগুলো আমন্ত্রণ রক্ষা করতে হয়। ’

মিকাইলা জানায়, তার প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর সাড়ে ৩ লাখ ৬০ হাজার বোতল লেমোনেড বিক্রি করে। তার কোম্পানির পণ্যের জন্য যে মধু প্রয়োজন হয় সেই মধু চাষ সে নিজ হাতেই তদারক করে। পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজারজাত করনের অংশটিও নিজের দায়িত্বে রেখেছে সে। যুক্তরাষ্ট্রের কনিষ্ঠতম ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম এই কিশোরী আসলে তার ব্যবসা শুরু করেছিল চার বছর বয়স থেকেই। 

বাবা-মায়ের সহযোগিতায় ২০০৯ সালেই সে তার লেমোনেড উত্পাদন ও বিক্রি শুরু করেছিল। দাদীর কাছ থেকে সে ১৯৪০ এর দশকের   একটা রেসিপি পেয়েছিল। সেই ফর্মুলায় তৈরী পন্য নিজের বাড়ির সামনে একটি টেবিল বসিয়ে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করত। মানুষের আগ্রহ যখন বেড়ে গেল তখন সে মজা পেয়ে উত্পাদন বাড়িয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে কোম্পানি খুলে বসল। এর পরের অংশ কেবল সফলতার গল্প। মুলধন শ থেকে হাজারে, হাজার থেকে লাখ পেরিয়ে এক পর্যায়ে কোটি ছাড়িয়ে গেল।

তার শরবতের প্রধান উপাদান মধু এবংমিকালিয়া জানায় মধু সংগ্রহ করতে যেয়ে তাকে প্রতি দুই সপ্তায় অন্তত দুটি মৌমাছির দংশন সহ্য করতে হয়।তবে তার পিতা-মাতা তাকে প্রতিটি মৌমাছির সাইটে পড়ে না থেকে মৌমাছির পরাগায়ন ও বৃহত্তর ইকো-সিস্টেমের উপর গবেষণায় বেশি মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। 

মিকালিয়ার মা-বাবা দুজনই বিজনেস স্কুল থেকে গ্রাজুয়েট করা এবং তারা তাদের মেয়ের ব্যবসায়িক কাজে সক্রিয়ভাবেই অংশগ্রহণ করেন। তবে তারা অকপটেই জানালেন, ফুড সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই।

তারা মার্কেটিং সাইট দেখাশোনা করেন এবং মেয়েকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।তবে, মিকালিয়াও স্বীকার করে, ‘আমি যেহেতু ছোট মানুষ, তাই আমি আমার আব্বু-আম্মুর পরামর্শকে গুরুত্ব দেই।’

মধু সংগ্রহ করছে মিকালিয়া

তবে মৌমাছি নিয়ে কাজ করার কারণে যেসব সংগঠন মৌমাছির সংরক্ষণে কাজ করে মিকালিয়া সেসব সংগঠনকে অর্থ প্রদান করতে উৎসাহ বোধ করেন।

খুব শীঘ্রই তার পন্য পিজা শপগুলোতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ব্যাবসায়ের অর্থ সে কেবল নিজে খরচ করে না। অন্যান্য ধনকুবেরদের মতো সে বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানেও প্রচুর দান করে। দুঃস্থদের জন্য তার আলাদা তহবিল আছে। আমেরিকার বড় বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার নিয়মিত দেখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়ার অভিজ্ঞতাও তার আছে। সূত্র: বিবিসি

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ