ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ‘ ভেঙে ফেলছে’ উত্তর কোরিয়া

২৪ জুলাই, বিবিসি : উত্তর কোরিয়া তাদের অন্যতম প্রধান একটি রকেট উৎক্ষেপন কেন্দ্র ভাঙার কাজ শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা থার্টি এইট নর্থ জানিয়েছে, সোহায়ে উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটির একাংশ ধ্বংসে কাজ শুরু করেছে পিয়ংইয়ং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তরের শীর্ষ নেতা কিম জং উনের মধ্যে জুনে হওয়া ঐতিহাসিক বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এ রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি ভাঙা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের বৈঠকে কিম উত্তর কোরিয়ার একটি রকেট ইঞ্জিন পরীক্ষা কেন্দ্র ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন; যদিও ঠিক কোন কেন্দ্রটি ভেঙে ফেলা হবে, তা উল্লেখ করেননি। 

উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত এ সোহায়ে কেন্দ্রটিকে পিয়ংইয়ং উপগ্রহ উৎক্ষেপণের কাজে ব্যবহার করত। এটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষায়ও ব্যবহৃত হতো বলে সন্দেহ মার্কিন কর্মকর্তাদের।  সানতোসা দ্বীপের শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতা ‘কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত’ করার সমঝোতায় স্বাক্ষর করলেও কখন ও কিভাবে এই নিরস্ত্রীকরণ হবে সে সম্বন্ধে বিস্তারিত না থাকায় সিঙ্গাপুরের বৈঠকের ফল নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। ওয়াশিংটনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পিয়ংইয়ং আগ্রহী কীনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার মধ্যেই সোহায়ে উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি ভাঙার এ খবর মিলল।  এর আগে সোমবার টুইটারে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি এবং গত নয় মাসে পিয়ংইয়ং কোনো পারমাণবিক পরীক্ষা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র না ছোড়ায় ‘খুব খুশি’ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। 

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে কোনো ‘সময়সীমা নেই’ এবং এজন্য তাড়াহুড়ার দরকার পড়ছে না বলেও গত সপ্তাহে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পিয়ংইয়ং তাদের পুঙ্গি রি পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ভেঙে ফেললেও গোপনে অস্ত্র কর্মসূচি সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রেখেছে বলে মনে করছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। 

ফাঁস হওয়া এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়া তাদের ইয়ংবিয়নের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রটির সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে; অন্যান্য গোপন কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়াতেও কাজ চলছে। মার্কিন এ গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও তার তথ্যগুলো সঠিক কীনা, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পশ্চিমা পর্যবেক্ষকদের অনেকেই এ ধারণার সঙ্গে একমত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ