ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুই মাসের মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে

* স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন ঘটবে। আমরা মাঠে নামব। এ দেশের মানুষ মাহমুদুর রহমানের রক্ত বৃথা যেতে দেবে না। একদিন এর বিচার হবেই। একইসাথে তিনি হামলার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারার ব্যর্থতার জন্য অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) আয়োজিত কুষ্টিয়ায় দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব বলেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সেক্রেটারি আবদাল আহমদ, ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাবের সহ-সভাপতি অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক মোস্তাক রহিম স্বপন, অধ্যাপক রফিকুল কবির লাবলু, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, এগ্রিকালচারিস্টস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এ্যাবের জহিরুল ইসলাম, শামীমুর রহমান শামীম, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সাবেক ছাত্র নেতা মীর শরাফত আলী সফু প্রমুখ।
মওদুদ আহমদ বলেন, মাহমুদুর রহমানের ওপর যে আক্রমণ হয়েছে, তাতে সারা জাতি স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ। এটা জাতির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায়। তাকে যে রাজনৈতিক কারণে হত্যার উদ্দেশ্যে আদালতে আক্রমণ করা হয়েছে তার প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।
তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান আইনে বিশ্বাস করেন বলেই কুষ্টিয়ায় একটি ভিত্তিহীন মামলায় জামিন নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার ওপর যেভাবে পরিকল্পত আক্রমণ হয়েছে তা ন্যাক্কারজনক। পুলিশের সামনে আক্রমণ হয়েছে। পবিত্র আদালত প্রাঙ্গণ মাহমুদুর রহমানের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। কিন্তু সরকার কোনো ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়নি। সুতরাং এ ব্যর্থতার দায়ে আইন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। তাদের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নাই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে মওদুদ বলেন, আমি মনে করি, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- দুইজনের উচিৎ হবে পদত্যাগ করা। কারণ একজন আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। আদালতের সামনে এই ধরনের একটা হত্যার আক্রমণ তার কোনো বিচার বা ব্যবস্থা করতে পারেননি এখন পর্যন্ত।
আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন পর্যন্ত একজনকেও গ্রেফতার করতে পারেন নাই। এই কারণে তাদের ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করার কোনো নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, সংবাদ মাধ্যমের এখন স্বাধীনতা নেই। যেভাবেই হোক, কৌশলে হোক, পরোক্ষভাবে হোক, সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যাতে তাদের বিরুদ্ধে কেউ লিখলে বা কেউ রিপোর্ট করলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কারণ এটা একটি স্বৈরাচারী সরকার।
বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরামের এই নেতা বলেন, আমরা দেশের সকল শ্রেনি-পেশার মানুষদের সাথে নিয়ে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সরকারের পরির্তন আনার জন্য মাঠে নামবো। আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের রাজনীতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। মাহমুদুর রহমানের রক্ত বৃথা যেতে দেবে না দেশের মানুষ। একদিন এর বিচার হবেই। আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার অর্থ হলো দেশের গণতন্ত্রের ওপর হামলা। স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা। আইনের শাসনের ওপর হামলা। মানবাধিকারের ওপর হামলা। মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশদের কি নির্দেশ দিয়েছিলেন তা আমরা জানতে চাইনা। আমরা অবিলম্বে এ ন্যক্কারজনক হামলার বিচার চাই।
তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা কি উন্নয়ন করেছেন তা জাতি ভালো করেই জানে। আপনাদের উন্নয়ন হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনা পরিবর্তন হয়ে তামা হয়ে যাওয়া। বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা হাওয়া হয়ে যাওয়া। সুষ্ঠু নির্বাচন দেন তারপর আপনাদের উন্নয়ন প্রমাণ করুন।
তিনি বলেন, আদালতে হাজিরা দেয়া কি অপরাধ? আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে যদি হামলার শিকার হতে হয় তাহলে মানুষ কীভাবে আদালতে হাজিরা দেবে। আদালতে নিরাপত্তা দিতে অপারগতার জন্য অবিলম্বে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করতে হবে।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার একের পর এক অন্যায় করে যাচ্ছে আর আমরা তার প্রতিবাদ করে যাচ্ছি কিন্তু তার কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। শুধু প্রতিবাদের কারণে সরকার আরও বেশি জনগণের ওপর চড়াও হচ্ছে। দেশের কোথাও এখন আর নিরাপদ নেই। সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। তাই এখন আর প্রতিবাদ নয়, সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, সরকার বিরোধী কণ্ঠরোধ করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ হামলার বিচার করা না হলে নব্বইয়ের স্বৈরতন্ত্র পতন আন্দোলনের মতো নব্য এ স্বৈরাচারী সরকার পতনে পেশাজীবীরা কঠোর আন্দোলন করতে বাধ্য হবে।
অধ্যাপক আখতার হোসেন খান বলেন, ‘মরবো আমি একাই মরবো’ মাহমুদুর রহমানের এ কথা প্রমাণ করে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না। আসুন আমরা সকলে একসাথে সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করি। তাহলেই আমাদের মুক্তি মিলবে।
ডা. রফিকুল কবির লাবলু বলেন, মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে সরকার আতঙ্কে রয়েছে। কেননা তার কণ্ঠ সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ করছে। এটাই সরকারের ভয়ের কারণ। মাহমুদুর রহমান রক্ত দিয়ে শিখিয়ে দিলেন সবাইকে রক্ত দিয়ে হলেও এ জুলুমবাজ সরকারের পতন ঘটাতে হবে।
এম আবদুল্লাহ বলেন, মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার না করায় একটি কথা পরিস্কার হয়ে গেছে যে সরকারের উচ্চমহলের নির্দেশেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ দেশের গণতন্ত্রকামি মানুষ অবশ্যই মাহমুদুর রহমানের রক্তের বদলা নেবে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিবাদী এ সরকারের সাথে সুন্দর সুন্দর কথা বলে কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে না। বরং নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যাবে। অধিকার আদায়ের আন্দোলন জোরদার করে এ সরকারের পতনের মাধ্যমেই জনগণের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, হত্যার উদ্দেশ্যে মাহমুদুর রহমানকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীবাহিনীর কাছে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এরপর তারা মাহমুদুর রহমানের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করে। মন্ত্রীর নির্দেশেও কাজ হয়নি। এতে বুঝা যায় বর্তমান রাষ্ট্র একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
কর্মসূচি: সমাবেশ থেকে বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবিতে আজ বুধবার (২৫ জুলাই) ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি ও সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ১১টায় কর্মসূচি শুরু হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ