ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ও.ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজে ব্যর্থ ছিল বাংলাদেশ দল। তবে টেস্টের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাড়াতে চেয়েছিল টাইগাররা। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশ দলকে প্রথম জয় উপহার দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি। আর এই এক জয়েই পাল্টে গেছে পুরো দলের চিত্র। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। তবে মাঠে নামার আগে টাইগাররা বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছে। কারণ প্রথম ম্যাচের জয়টা অনেক আত্ববিশ্বাসাী করেছে পুরো দলকে। ফলে আজ জয়ের জন্যই মাঠে নামবে মাশরাফি বাহিনী। অবশ্য আজ জয় পেলে এক ম্যাচ হাতে রেখে ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের। তাই এই ম্যাচটাকে আরো বেশি গুরুত্ব দিয়ে আজ মাঠে নামছে মাশরাফিরা। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে বারটায় গায়ানায় প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটিও হয়েছিল একই স্টেডিয়ামে। আর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পায় ৪৮ রানে। গায়ানার এই এই স্টেডিয়ামকে বাংলাদেশের লাকি স্টেডিয়াম মনে করা হয়। তাই আজও এই মাঠে ভালো কিছু করার টার্গেট বাংলাদেশ দলের সামনে। অবশ্য প্রথম ম্যাচে হারা স্বাগতিকরা সিরিজ বাচাতে এই ম্যাচকে কঠিন ম্যাচ হিসেবে নিবে। সিরিজ বাচাতে দলটি প্রাণ-পণ চেষ্টা করবে। তাই এই ম্যাচটি স্বাগতিকদের সিরিজ বাচানোর আর টাইগারদের সিরিজ জয়ের ম্যাচ। ফলে ম্যাচটিতে যে কঠিন লড়াই হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। অবশ্য বাংলাদেশ দল প্রথম ম্যাচ জিতে যে আত্ববিশ্বাসী মুডে আছে তাতে ভালো কিছু করা অসম্ভব নয় মাশরাফিদের জন্য। আর প্রথম ম্যাচে এটার প্রমাণও দিয়েছে টাইগাররা। প্রথম ম্যাচের মতো ব্যাটিং- বোলিং করতে পারলে আজ ম্যাচে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে তামিম-সাকিব, মুশফিকের ব্যাটিং আর মাশরাফি-মিরাজ, মোস্তাফিজের বোলিং দলকে বড় ব্যবধানের জয় এনে দেয়। প্রথম ওয়ানডেতে এক সাথে জ্বলে ওঠেন তামিম-সাকিব ও মাশরাফি। ব্যাট হাতে তামিম-সাকিব ও বল হাতে মাশরাফির পারফরমেন্সে ৪৮ রানের জয় নিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করে বাংলাদেশ। নিজেদের পয়মন্ত ভেন্যু গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ২৭৯ রান করে বাংলাদেশ। ওপেনার হিসেবে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করেছেন তামিম। করেছেন অপরাজিত ১৩০ রান। ১৬০ বলে নিজের ইনিংসটি সাজান তিনি। ধীরলয়ে সেঞ্চুরি করে রেকর্ডও করেছেন তামিম। কিন্তু সেটি ম্যাচ শেষে আসল বিষয় ছিলো না। কারণ বাংলাদেশ যে খাদের মধ্য থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিততে পেরেছে। বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন সাকিব মাশরাফিও। ব্যাট হাতে তামিমের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ২৫৮ বলে ২০৭ রানের জুটি গড়েন সাকিব। বাংলাদেশকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দিয়েও হতাশাগ্রস্ত হয়েছেন সাকিব। কারণ সেঞ্চুরির দোড়গোড়ায় পৌঁছে ৯৭ রানে থামেন সাকিব। তার ১২১ বলের ইনিংসে মাত্র ৬টি চার ছিলো। ম্যাচ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমেরও। মন্থর উইকেটে তামিম-সাকিবের কষ্টের পর শেষদিকে মুশফিকুর রহিমের ১১ বলে ৩০ রানের টর্নেডোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে বাংলাদেশ। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কারণ অধিনায়ক মাশরাফির আগুন ঝড়ানো বোলিং-এ মুখ থুবড়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৭ রানে ৪ উইকেট নেন ম্যাশ। ফলে ১৭২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ উইকেটে শেষ দুই ব্যাটসম্যানের দৃঢ়তায় ৯ উইকেটে ২৩১ রান করে ক্যারিবীয়রা। এতে হারের ব্যবধান কমে স্বাগতিকদের। টেস্ট সিরিজ হারের পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের এমন রোমাঞ্চিত জয় অবাক করার মত। কিন্তু অবাক হচ্ছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ম্যাচ শুরুর আগে দলের সকলকে দেশের কথা চিন্তা করে খেলার অনুরোধ করেন মাশরাফি। এটিই ছিলো মাশরাফির আসল টনিক, ‘ম্যাচের আগে বিশেষ কিছু বলা হয়নি। শুধু বলেছিলাম, দেশের জন্য সব কিছু উজাড় করে খেলতে। টেস্ট সিরিজের কথা ভুলে গিয়ে নতুনভাবে সবকিছু শুরু করতে। শুরুটা ভালো হলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় এবং পরবর্তীতে কাজও সহজ হয়ে যায়। নিজেদের পরিকল্পনাগুলো কাজে লেগেছে। আশা করি, এখান থেকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবো।’ আজ দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পারলে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের পর আবারো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ নিতে পারবে বাংলাদেশ। আর সিরিজ নিশ্চিত করতেই আজ মাঠে নামবে টাইগাররা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ