ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আজ পাকিস্তানে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন

সংগ্রাম ডেস্ক : আজ বুধবার পাকিস্তানে পার্লামেন্ট (জাতীয় পরিষদ) ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন। আজকের অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। প্রশ্ন উঠেছে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। বলা হচ্ছে, তারা রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছে। এক্ষেত্রে তাদের পছন্দের প্রার্থী পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান। শীর্ষ নিউজ।
বিরোধী দলগুলোর এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে সেনাবাহিনী। কিন্তু চারদিকে যে পরিবেশ তাতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আসলেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন। তার সামনে এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশাও করছেন তেমনটা। এ ঘটনাটি যখন ঘটতে যাচ্ছে তখন দুর্নীতির অভিযোগে জেলে বন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)সহ নওয়াজ শরীফের দল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুত্বর অভিযোগ তুলেছে। একজন বিচারপতি সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। পাকিস্তানে সর্বশেষ সামরিক শাসনের অবসান হয়েছে মাত্র এক দশক। তারপর মোটামুটিভাবে গণতান্ত্রিকভাবে চলছিল দেশটি। এরপরই এবার জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে। নওয়াজ শরীফের দল অভিযোগ করছে, পাকিস্তানে শক্তিধর সেনাবাহিনী সমর্থন করছে ইমরান খানকে। তাকে নির্বাচনে বিজয়ী করতে তাদের এমন ব্যবস্থা।
দেশজুড়ে নির্বাচনে মোতায়েন করা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার সেনা সদস্যকে। তাদেরকে দেয়া হয়েছে বিচারিক ক্ষমতা। এমনই এক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের এক কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে পাকিস্তানে। এ মাসেই নওয়াজ শরীফকে দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি দেয়ার প্রশংসা করেছেন ইমরান খান। নওয়াজ শরীফ রাজনীতিতে নিষিদ্ধ হয়েছেন। এখন জেলে তিনি। তার দলের হাল ধরেছেন এখন তারই ছোটভাই, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। এ দলের নেতাকর্মীদের দাবি, নওয়াজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ বা শাস্তি দেয়া তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ইঞ্জিনিয়ারিং করে তা ঘটিয়েছে সেনাবাহিনী।
পাকিস্তানে এমন এক সময়ে নির্বাচন হচ্ছে যখন অর্থনীতি সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রুপির মূল্যমান কমে গেছে শতকরা ২০ ভাগ। দেখা দিয়েছে মুদ্রাস্ফীতি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও টান পড়েছে। এমন অবস্থায় সম্প্রতি দেশজুড়ে যে জনমত জরিপ করা হয়েছে, তাতে দেখা গেছে নির্বাচন হবে হাড্ডাহাড্ডি। একটি জরিপে শতকরা ৩০ ভাগ মানুষ সমর্থন করছিলেন ইমরান খানের দলকে। নওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) কে সমর্থন করছিলেন শতকরা ২৭ ভাগ মানুষ। আরেকটি জরিপে নওয়াজ শরীফের দল পিএমএলএন এগিয়ে ছিল শতকরা মাত্র এক ভাগে। পিএমএলএনকে সমর্থন করেছেন শতকরা ২৬ ভাগ মানুষ। ইমরান খানের পিটিআইকে সমর্থন দিয়েছেন শতকরা ২৫ ভাগ। আর তৃতীয় অবস্থানে ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ও তার স্বামী, সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি (২৯) নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পিটিআই এবং পিএমএলএন কোনো দলই দৃশ্যত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে না নির্বাচনে। তখন কদর বেড়ে যাবে পিপিপির এবং এক্ষেত্রে পিপিপি হয়ে উঠবে কিংমেকার। জোট সরকার গঠন করার জন্য তাদের সমর্থন ভীষণভাবে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে। তবে এমন কোনো জোট গঠনের পক্ষে নন ইমরান খান। তিনি বলেছেন, যদি প্রধান দু’টি দলের কাউকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে জোট গঠন করতে হয় তার অর্থ হবে যে, আমরা কোনো বড় সংস্কার করতে পারবো না। তাই এমন কোনো দলকে নিয়ে জোট করার মূল্য কতটা হবে সেটা একটি বিস্ময়।
ওদিকে নির্বাচনের আগেই ভোট জালিয়াতির যে অভিযোগ তুলেছেন পিএমএলএন দলের নেতারা তার সঙ্গে সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন পিপিপির নেতারা।
বলা হয়েছে, তাদের প্রচারণায় বাধা দেয়া হয়েছে। মিডিয়ায় রিপোর্ট কভারেজ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রার্থীদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে সামরিক কর্মকর্তারা। তাদেরকে দল ইমরান খানের সঙ্গে জোট গড়তে চাপ দেয়া হয়েছে। প্রায় ৭১ বছর হলো পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছে। এর প্রায় অর্ধেক সময় দেশটি শাসন করেছে সেনাবাহিনী। এবারও কি পর্দার আড়ালে আসলে তারা কলকাঠি নাড়ছে? তাদের জবাব না। নির্বাচনে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ