ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাম জোটকে নির্বাচনে আনতে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ

স্টাফ রিপোর্টার: জোট গঠনের ৫দিনের মাথায় হঠাৎ করে সিপিবি কার্যালয়ে হাজির হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ঢাকা মহনগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদকে সাথে নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে যান তিনি। এ সময় সিপিবি সভাপতি মুজহিদুল ইসলাম সেলিমের সাথে বৈঠক করেন।
সিপিবি নেতারা বলছেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অনেকটা আকস্মিকভাবে আমাদের কার্যালয়ে এসেছিলেন। এই সাক্ষাৎ সৌজন্যমূলক। এই সাক্ষাতে জোট গঠন ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
গত ১৮ জুলাই বামপন্থী আটটি দল মিলে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। রাজধানীর পল্টনে মুক্তি ভবনে জোটের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে জোট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাম জোটের নেতারা। নতুন জোটের পক্ষ থেকে তিনটি কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। ২৪ জুলাই বিক্ষোভ মিছিল, ৪ আগস্ট মতবিনিময় সভা, আগামী ১০ ও ১১ আগস্ট দেশের ছয়টি বিভাগীয় শহরে জনসভা ও মিছিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জোটের নেতারা বলেন, ‘নির্বাচনকে যে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে এর বিরুদ্ধে আমরা একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচন কমিশনসহ যেসব জায়গায় প্রয়োজন সেখানে আমরা লাগাতার অবরোধসহ শক্তিশালী আন্দোলন করবো।’
সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন ও বাসদ (মার্ক্সবাদী) এই আট দল মিলে বাম গণতান্ত্রিক জোট গঠন করেছে। জোটের সমন্বয়ক করা হয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে। জোট গঠনের পর সিপিবি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছিলেন, ‘নির্বাচনকে যে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে এর বিরুদ্ধে আমরা একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচন কমিশনসহ যেসব জায়গায় প্রয়োজন সেখানে আমরা লাগাতার অবরোধসহ শক্তিশালী আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এসব কর্মসূচি শুধু ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সারাদেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেবো।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার চাই। সেখানে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু করতে চাই। নির্বাচনে টাকার খেলা, পেশিশক্তি, প্রশাসনিক কারসাজি থেকে নির্বাচনকে মুক্ত করতে চাই।’
বর্তমান সরকারের অধীনে কোনও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না অভিযোগ করে সেলিম বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনকালে যাতে প্রকৃত নিরপেক্ষ সরকার এবং নির্বাচন কমিশন উভয়ের ক্ষেত্রে যাতে নিরপেক্ষ কর্তৃত্ব এই দেশের ওপরে থাকে সেই জন্য সংবিধান সংশোধন করে হলেও সেই ব্যবস্থা অবিলম্বে চালু করতে হবে।
সিপিবি নেতাদের এমন বক্তব্য এবং জোট গঠনের পর তাদের সাথে অনানুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। তারই ধারাবহিকতায় ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার সকালে তোপখানা রোডে সিপিবি কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমসহ অন্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী নির্বাচন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে, বৈঠকের বিষয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জরুরি বৈঠক রয়েছে বলে পরে ফোন করতে বলেন।
আওয়ামী লীগ ও বাম রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ওবায়দুল কাদের আরও কিছু বাম দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দুই-একদিনের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি সিপিবি। নির্বাচনের আগে গণভবনে সিপিবির সঙ্গে বৈঠক করে তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিএনপিসহ বিরোধী দলবিহীন ওই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করে সিপিবি। এবার সম্প্রতি আটটি বাম দল নিয়ে একটি জোট করেছে সিপিবি।
অন্যদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪–দলীয় জোট ও নির্বাচনী মহাজোট বৃদ্ধির তৎপরতা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এমনকি বিএনপি না এলেও যত সম্ভব বেশি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসারও তৎপরতা আছে সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের সঙ্গে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদার বিএনএসহ নয়টি কম পরিচিত রাজনৈতিক দল বৈঠক করে।
আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম গণমাধ্যমকে বলেন, সিপিবিকে নির্বাচনে আনার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের আগ্রহ আছে। আট দলীয় জোট করার পর তাদের প্রতি আগ্রহ আরও বেড়েছে। তাদের সঙ্গে প্রাথমিক একটা কর্ম সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য থেকে ওবায়দুল কাদের সিপিবি কার্যালয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে সিপিবির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওবায়দুল কাদেরের আগমন অনির্ধারিত। এটাকে সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছে সিপিবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ