ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় তার কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৮ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন -পিআইডি

সংগ্রাম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশীশক্তি, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে তিনদিন ব্যাপী জেলা প্রশাসকদের সম্মেলন উদ্বোধনকালে বলেন, জেলা প্রশাসকদের শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য-পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘœ করতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমি বলতে চাই- বিনা দ্বিধায় আপনারা এই টেন্ডারবাজী, পেশী শক্তি, সন্ত্রাস এবং মাদক নির্মূল করবেন। এখানে কে কোন দল করে, কে কি করে সেগুলো দেখার কোন দরকার নেই। যদি কেউ বাধা দেয়, আপনারা সরাসরি আমার সঙ্গে বা আমার অফিসে যোগাযোগ করতে পারবেন।’
‘সরকার প্রধান হতে পারি- আমি কিন্তু জাতির পিতার কন্যা, আপনাদের সেটাও মনে রাখতে হবে’ বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সমাজ থেকে এসব অশুভ তৎপরতা নির্মূল করে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং মুখ্য সচিব মো.নজিবুর রহমান বক্তৃতা করেন। মন্ত্রী পরিষদ সচিব অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
এতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পক্ষে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো.মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক বেগম শায়লা ফারজানা এবং রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো.নূর-উর-রহমান বক্তৃতা করেন।
সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি মত বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টির জন্যই এই সম্মেলনের আয়োজন। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমস্যাসমূহ এবং সেগুলোর সমাধানের পথ ও কৌশল নির্ধারণে এ সম্মেলন কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। এ নিয়ে পঞ্চম বারের মত এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিববৃন্দ, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, সকল জেলার জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার অভিশাপমুক্ত একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক, জ্ঞান-নির্ভর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের অতীতের ধ্যান ধারণা পরিহার করে সেবার মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাবার আহবান জানান। তিনি বলেন, ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা পরিহার করে আপনাদের সেবার মনোভাব নিয়ে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবেই, দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’
প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। আমি বিশ্বাস করি যে, আপনাদের মাঝে অনেক উদ্ভাবনী শক্তি আছে। আপনারা এই উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
একটি দেশের উন্নয়নে দেশে গণতন্ত্র বিদ্যমান থাকা এবং সরকারের ধারাবিহিকতা বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটানা দুই মেয়াদে প্রায় সাড়ে ৯ বছর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। এরফলে আমরা অনেক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। আর্থ-সামাজিক খাতে আজ বাংলাদেশের যে অভাবনীয় অগ্রগতি, তা সম্ভব হয়েছে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকার জন্য।
জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থ-সামাজিক সূচকের ক্ষেত্রে আমরা শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিকে নয়, অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে যেতে পেরেছি।
 শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র নিরসন এবং বৈষম্য দূর করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে তাঁর সরকার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি এ সময় ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সালের বাংলাদেশকে আমরা কেমন দেখতে চাই সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকদের এসব পরিকল্পনা প্রণয়নে তাঁদের অভিজ্ঞতালব্দ জ্ঞানের সন্নিবেশন ঘটানোর আহবান জানান।
সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা এবং চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখাসহ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকদের ২৩ দফা নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী ।
২৩ দফা নির্দেশনা ছাড়াও জাতীয় গৌরব, মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আগামী প্রজন্মকে জানানোর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, ট্রাফিক রুল সম্পর্কে গণসচেতনতা গড়ে তোলা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ