ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে আবারো পচুর বৃষ্টিপাত ॥জনদুর্ভোগ চরমে

প্রবল বর্ষণে ডুবলো চট্টগ্রাম। ছবিটি গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর মুরাদপুর থেকে তোলা -সংগ্রাম

চট্রগ্রাম ব্যুরো : চট্রগ্রাম মহানগরী ও আশেপাশের এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার থেমে থেমে আবারও প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রামে ৭১ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ১০২ মিলিমিটার, ফেনীতে ১১০ মিলিমিটার, বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
এদিকে ভারী বর্ষণে মঙ্গলবার চট্রগ্রাম মহানগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, শুলকবহর, কাপাশগোলা, কে.বি.আমান আলী রোড, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ সিডিএ, এক্সেসরোড, প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, হালিশহর বড়পুল, ছোটপুল, হালিশহরসহ প্রায় এলাকা নিচু এলাকার মধ্যে কোথাও হাটু সমান ও কোথাও কোমর সমান ও কোথাও বুক সমান পানি হয়েছে। পানি জমে রাস্তাগুলো খালে পরিণত হয়েছে। পানির স্্েরাতে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রয়োজনের তাগিদে হাটা-চলা করেছে মানুষ। নিচু এলাকায় বসবাসকারী খেটে খাওয়া মানুষের ঘরে পানি উঠেছে। এতে পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহর মুরাদপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সবর্এ পানি আর পানি। সাধারণ মানুষ বুক সমান পানি ভেংগে রাস্তা পার হচেছ।যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে রয়েছে। চাকুরীজীবি,শিক্ষার্থী সকলের ভোগান্তি ছিল চরমে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, উত্তরপশ্চিম ঝাড়খ- এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর-পশ্চিম মধ্য প্রদেশ এবং তৎসংলগ্ন উত্তর প্রদেশে অবস্থান করছে। মওসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তরপূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বির্স্তত রয়েছে। দক্ষিণপশ্চিম মওসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় বিরাজ করছে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দম্কা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেছেন, অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিম্নাঞ্চল পানিবদ্ধতার ফলে নগরবাসীর জনদূর্ভোগ এবং যানজট ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। অবিলম্বে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং বিদ্যুতের লোডশেডিং ও যানজন কমানোর মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি দূর করার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্রগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এক যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যায় ফলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি প্রবেশ করায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়নে এবং জলাবদ্ধতা দূরী করণে, লোডশেডিং বন্ধে চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্রগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি করার কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর জনগণের ভোগান্তি ও দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, সিটি কর্পোরেশন ও চট্রগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার জন্যই জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং যানজট ও আইন-শৃংখলার অব্যবস্থা বন্ধ হচ্ছেনা। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং লোডশেডিং বন্ধসহ সকল অব্যবস্থার অবশানে পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চট্রগ্রাম মহানগরীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, “চট্রগ্রাম এখন দুর্ভোগের নগরী। বাণিজ্যিক রাজধানী পরিণত হয়েছে জলাবদ্ধতা, জলজট, যানজট ও জনদুর্ভোগের রাজধানীতে। নগরবাসী আজ এসকল দুর্ভোগে নাকাল। একটুখানি বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের শ্রমিক-মজুর, বস্তিবাসী মানুষেরা চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে। ডুবে যাচ্ছে বস্তিবাসী ঝুপড়িবাসীদের থাকার জায়গা, চুলায় জ্বলছে না আগুন, সঙ্কট দেখা দিচ্ছে খাবারপানির। অথচ নগরবাসীর এসকল সমস্যা সমাধানে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তাঘাট সংস্কার ও খাবারপানি সঙ্কট দূর করতে সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, ওয়াসাসহ সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।”
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চট্রগ্রাম মহানগরী সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের খান ও সেক্রেটারি এস এম লুৎফর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। নেতৃদ্বয় আরও বলেন, অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা এবং ক্ষমতাসীন মহলের সাথে সংশ্লিষ্টদের সীমাহীন লুটপাটই জলাবদ্ধতা ও রাস্তাঘাটের বেহাল দশার জন্য প্রধানত দায়ী। প্রতিবছর বিশাল বাজেট হচ্ছে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে। হচ্ছে গালভরা নানান সভা-সেমিনার। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সিডিএ ও সিটি কর্পোরেশন পরস্পরকে দুষছে। ওয়াসা করছে সময়ে অসময়ে খুঁড়াখুঁড়ি। উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের চাঁদাবাজ ও নেতাদের পকেটে। ফ্লাইওভার ইত্যাদি দৃশ্যমান বিলাসী উন্নয়নের দিকেই যত মনোযোগ কর্তৃপক্ষের। কিন্তু জনগণের কষ্ট দূর করা ও প্রয়োজন পূরণে তাদের নজর নেই।  এই চরম অব্যবস্থাপনা ও অরাজক অবস্থার খেসারত দিতে হচ্ছে নগরবাসীকে। দ্রুত এসকল অব্যবস্থা দূর করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নিন। সমন্বিত কাজ করুন। প্রয়োজনে দলমত নির্বিশেষে নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করে সহযোগিতা নিন। জনদুর্ভোগ লাঘবে যে কোন উদ্যোগে কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতা করতে প্রস্তুত শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ