ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চিরিরবন্দরে রোপা আমন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

চিরিরবন্দরে বৃষ্টির অভাবে এভাবেই আমন জমিতে পানি সেচ দিয়ে হালচাষ করা হচ্ছে। ছবিটি গতকাল উপজেলার দুর্গাপুর গ্রাম থেকে তোলা

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বর্ষার ভরা মৌসুমেও নেই বৃষ্টির দেখা। এ অঞ্চলের প্রধান ফসল রোপা আমন ধান খরার কবলে পড়ার আশংকা করছেন কৃষকরা। ফলে বর্ষার ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে আমনের আবাদ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে উফসী জাতের ২২ হাজার ২৭৫, স্থানীয় জাতের ৫৮০ ও হাইব্রিড জাতের ২০০ হেক্টর মোট ২৩ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমি আমন চাষের জন্য নির্ধারণ করা হলেও বৃষ্টির অভাবে জমিতে পানি না থাকায় এখন পর্যন্ত ২০ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন লাগাতে পারেনি প্রায় ২৫ হাজার কৃষক। ফলে আমন উৎপাদন অনেকটাই ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

উঁচু জমিতে পানি না থাকায় বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন ও বিভিন্ন ধরনের সেচযন্ত্র বসিয়ে পানি দেয়া হচ্ছে জমি তৈরি থেকে চারা রোপন করা পর্যন্ত। আবার কিছু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক আমন চাষের জন্য বৃষ্টির অপেক্ষা করছেন। এ দিকে কৃষকরা যাতে খরার কবলে পড়ে আমনের আবাদ পিছিয়ে না যায় সে জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ তাদেরকে সেচ দিয়ে জমি তৈরি করে চারা রোপণ করার পরার্মশ প্রদান করছেন।

মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিচু জমিতে আমনের চারা রোপণ করলেও উচু ও মাঝারি জমিগুলো পানির অভাবে আমনের চারা লাগানোর জন্য অপেক্ষা করছেন কৃষকরা। কিছু কিছু রোপণকৃত ক্ষেতের চারা জমিতে পানি না থাকায় মরে যাচ্ছে। অনেক স্বচ্ছল কৃষক শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে জমি তৈরি করছে এবং রোপণকৃত চারা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

নশরতপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম (৫৫) আজগার (৫০) ধোলু (৪৫) ও সাতনালা ইউনিয়নের জাকির হোসেন (৩০) শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে আমন রোপনের জন্য জমি তৈরী করছেন। তারা আরও জানান, এ অঞ্চলের প্রধান ফসল আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর ফসল হিসাবে পরিচিত। এই ফসল আমরা যুগ যুগ ধরে বৃষ্টির পানি দিয়ে আবাদ করে আসছি। কিন্তু এখন আবহাওয়া বিপর্যয়ের কারণে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তারা। তাই বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে রোপনকৃত চারা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন এবং চারা লাগানোর জমি তৈরী করছেন।

বৃষ্টির দেখা না মেলায় আমনের আবাদ করতে দেড়ি হওয়ায় উপজেলার নালীপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল, বেলাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, কৃষকের কোন কালে ভাল নেই বাহে। আগাম আমন ধান আবাদ করিবার না পারলে ররিশস্য (আলু, শাক-সবজি, গম) এর আবাদ দেরি হইবে বাহে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গত তিন-সপ্তাহ ধরে এ উপজেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও তাপদাহ বিরাজ করছে। ফলে বর্ষার ভরা মৌসুমেও তেমন বৃষ্টিপাত নেই বললেই চলে। তবে সঠিক সময়ে কৃষক জমিতে পানি পেলে রোপা আমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ