ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এবার কুরবানীর পশু জবাইয়ের জন্য কেসিসির নির্ধারিত স্থান থাকবে বেশি

খুলনা অফিস : এবার কুরবানির সময় উন্মুক্ত রাস্তায় যত্রতত্র পশু কুরবানি রোধ করতে কাজ করবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। না শুনলে এ অবস্থা থেকে সমাজকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে ঈদের দিন থাকবে দুই জোনে (ক ও খ অঞ্চল) দুইটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বছরের চেয়ে এবার পশু জবাইয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান বেশি থাকবে।

গত বছর কেসিসির নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই দেয়ার ব্যাপারে তাগাদা থাকলে এবার সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে সরকার সে জায়গা থেকে কিছুটা সরে এসেছে। গত বছর নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে সাড়ে ১০ হাজার পশু জবাই হলেও তার মধ্যে যত্রতত্র হয়েছিল ২৭২টি পশু জবাই হয়। নির্ধারিত স্থানে হয়েছিল ৪ হাজার ৭২৮টি পশু। আর বাসাবাড়িতে হয়েছিল সাড়ে ৫ হাজার পশু জবাই। যা টার্গেটের প্রায় অর্ধেক কেসিসি অর্জন করেছিল। কেসিসির সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রেজাউল করিম এ তথ্য জানান।

এ সংক্রান্ত কেসিসির পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির সভা সোমবার দুপুরে নগরভবনে কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর এস এম খুরশিদ আহমেদ টোনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে কেসিসির পক্ষ থেকে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই নিয়ে গণসচেতনতা প্রোগ্রাম করায় নগরবাসীর মাঝে সাড়া পড়েছে। নগরবাসীর মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার কেসিসির নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইদাতার আগমনের হার বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইদাতা অনেক সুযোগ সুবিধা পাবে। চলমান বৃষ্টি মওসুমকে মাথায় রেখে কুরবানির পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থান বৃষ্টি রোধ উপযোগী করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। গত বছর টার্গেটের প্রায় ৬০ ভাগ অর্জন হলেও এবার তার চেয়ে বেশি হবে। বিগত কয়েক বছর আগে কুরবানির পর পশু জবাইয়ের পরিত্যক্ত ময়লা আবর্জনার গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা ছিল কষ্টকর। কিন্তু গত তিন বছর ধরে এ দুর্গন্ধ নগরবাসীর নাকে আসে না। কারণ জবাই দেয়ার সাথে সাথে তা কেসিসির পরিচ্ছন্ন কর্মীরা পরিষ্কার করে ফেলে। পরে ছিটানো হয় ব্লিচিং পাউডার। নগরবাসীকে যত্রতত্র পশু জবাই থেকে বিরত রাখার জন্য ঈদের আগের দিন পর্যন্ত নগর জুড়ে চলবে সচেতনতামূলক নানা প্রচার-প্রচারণা। এরপরও যদি কুরবানিদাতা যত্রতত্র উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাই করেন তার জন্য ঈদের দিন থাকবে দু’জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কেসিসির তত্ত্বাবধানে ম্যাজিস্ট্রেটরা ১-১৫নং ওয়ার্ড পর্যন্ত একজন ও ১৬-৩১নং ওয়ার্ড পর্যন্ত থাকবে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট। সাথে থাকবে কেসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া সভায় অংশ নেন প্যানেল মেয়র-৩ রুমা খাতুন, কাউন্সিলর আশফাকুর রহমান কাকন, আব্দুস সালাম, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মাহমুদা খাতুন, রাবেয়া ফাহিদ হাসনা হেনা, মনিরা খাতুন, আনজিরা বেগম, সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রেজাউল করিম, সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার এসকেএম তাছাদুজ্জামান, কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ আব্দুল্লাহ, এস্টেট অফিসার নূরুজ্জামান তালুকদার প্রমুখ।

খুলনা নগরের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত ও দূষণমুক্ত রাখতে গত বছর নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ১৭২টি পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়। এবার তার চেয়ে বেশি করা হবে। নির্ধারিত কেন্দ্রসমূহে সুষ্ঠু ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পশু কুরবানি নিশ্চিত করার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে সভাপতি, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরকে জ্যেষ্ঠ সদস্য, ওয়ার্ড সচিবকে সদস্য সচিব এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ৩১টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হবে। 

এ ব্যাপারে জনমত গঠন ও প্রচারণাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই সংক্রান্ত ১০টি প্রস্তাবনা সভায় পেশ করা হবে। গত ২৭ জুন এ সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কেসিসিকে চিঠি দেয়া হয়। সে আলোকে কেসিসির পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার সকালে নগরভবনে অনুষ্ঠেয় কেসিসির বিশেষ সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে বলে সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রেজাউল করিম এ তথ্য জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ