ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কয়লা কেলেঙ্কারিতে পাঁচ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

স্টাফ রিপোর্টার: কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনায় দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তার দেশত্যাগ আটকাতে বলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বড় পুকুরিয়া তাপ বিদ্যু কেন্দ্রীয় বন্ধ হওয়াতে উত্তরাঞ্চরে তীব্র লোডশেডিং শুরু হয়েছে।
বিদেশে যেতে যাদের নিষেধাজ্ঞা তারা হলেন- কোল মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মদ, মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তাহের মো. নুর-উজ-জামান চৌধুরী, কোম্পানি সচিব মো. আবুল কাশেম প্রধানীয়া ও উপ-মহাব্যবস্থাপক ( স্টোর বিভাগ) এ কে এম খালেদুল ইসলাম।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর নুরুজ্জামান ও খালেদুলকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পেট্রোবাংলা। হাবিব উদ্দিনকে সরিয়ে আনা হয়েছে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দপ্তরে। কাশেম প্রধানিয়াকে সিরাজগঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
এক লাখ ১৬ হাজার টন কয়লা খোলা বাজারে বিক্রি করে ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের পেয়ে দুদক তার অনুসন্ধানে নামার পর এদের বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
মঙ্গলবার কমিশন থেকে ইমিগ্রেশন বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে অনুরোধ করা হয়, তারা যাতে কোনোভাবে দেশত্যাগ করতে না পারে।
কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেছেন, দুদকের অনুসন্ধান কমিটির প্রধান মো. শামসুল আলম এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এই কমিটিতে দুদকের সহকারী পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন এবং সহকারী পরিচালক এ এস এম তাজুল ইসলাম সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তাদের কাজ তদারক করছেন দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলমকে। কমিটি গঠনের পরপরই সোমবার দিনাজপুরে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র্র ও কয়লা খনি পরিদর্শনে যায় দুদক।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় পেট্রোবাংলায় গিয়ে সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি দুদকে পাঠাতে বলেন কমিটির সদস্যরা।
 কয়লা সংকটে রোববার রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবগুলো ইউনিট বন্ধ করা হয় বলে জানান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান। এর জন্য খনি কর্তৃপক্ষের দুর্নীতিকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। এক লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির এমডিসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে পেট্রোবাংলা।
বড় পুকরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির কয়লা দিয়ে চলে পাশে অবস্থিত ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লা খনির ইয়ার্ডেই থাকত। কিন্তু হঠাৎ করে কয়লা সঙ্কট দেখা দেওয়ায় গত রোববার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন।
অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ১ লাখ ১৬ হাজার টন কয়লা খোলা বাজারে বিক্রি করে আনুমানিক ২০০ কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা সোমবার পরিদর্শনে গিয়ে খনির ইয়ার্ডে দুই হাজার টন কয়লা পান, যদিও কাগজে-কলমে এক লাখ ৪৬ হাজার টন কয়লা মজুদ থাকার কথা। কয়লা কীভাবে উধাও হল, তার ‘পূর্ণ তদন্ত’ করতে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এই কেলেঙ্কারির জন্য কয়লা খনির কর্মকর্তাদের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটির সদস্যরা কয়লা উধাও সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্টদের কাছে গেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডেও দুদক কর্মকর্তারা গিয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুপুর পৌনে ৩টার দিকে তদন্ত কমিটির প্রধান উপ-পরিচালক শামসুল আলম বলেন, আমরা এখনও এখানে (পেট্রো বাংলা) আছি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। কয়লা উধাওয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুদক। কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।
কমিটির প্রধান উপ-পরিচালক শামসুল আলম এবং অপর দুই সদস্য হলেন দুদকের সহকারী পরিচালক এএসএম সাজ্জাদ হোসেন ও উপ-সহকারী পরিচালক এএসএম তাজুল ইসলাম।
কয়লা সংকটে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বেশকটি জেলায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালেও বিভাগের বিভিন্ন কল-কারখানা, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় লোডশেডিং দেখা দেয়। এতে কাজে যোগ দিতে পারছেন না শ্রমিকরা।
প্রচন্ড গরমের সঙ্গে তীব্র লোডশেডিং যোগ হওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কয়লা সংকটের কারণে গত রোববার রাত ১০ টায় দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়। খনিতে এক লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিকটন কয়লা মজুদ থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার মেট্রিকটন। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার জোগান দিতে নতুন করে খনন করে কয়লা উত্তোলনে দেড় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান খনি শ্রমিকরা।
এক ব্যবসায়ী জানান, ‘বিদ্যুতের অভাবে আমাদের কম্পিউটার বন্ধ, ফটোকপি বন্ধ। মাঝেমাঝে আসে, তবে বেশিরভাগ সময়ই থাকে না। আমাদের দোকান প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম।’
আরেক ব্যবসায়ী জানান, ‘গতকাল থেকে বিদ্যুতের সমস্যা একটু বেড়ে গেছে। আমরা সময়মতো কাস্টমারকে ডেলিবারি দিতে পারছি না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ