ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে অপহৃত দুই ব্যবসায়ী উদ্ধার

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীতে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নগরীর শহিদ শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম এলাকা থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা পাঁচ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, রাজা, সজল, শিমুল, আরমান ও মামুন। এ ঘটনায় খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, গত রোববার পিরোজপুর এলাকা থেকে সেকেন্দার আলী শেখের ছেলে ব্যবসায়ী রনি শেখ (৩০) ও তার বন্ধু মোতালেব হোসেন (৪৫) ব্যবসার কাজে খুলনায় আসেন। দুপুরের দিকে সিএন্ডবি কলোনির আরমান হোসেন, বাগেরহাটের রাজা (৩৪) ও মামুনুর রশিদ (৩০), বড় বয়রা এলাকার শিমুল (২৬), খালিশপুর এলাকার সজল ওরফে ঘড়িসহ আটজনের একদল দুর্বৃত্ত ব্যবসায়ী রনি শেখ ও মোতালেবকে জমি বিক্রির কথা বলে ডেকে নেয়। এরপর বয়রা সিএসডি গোডাউনের মধ্যে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ব্যবসায়ীদের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে অপহরণকারীদের দেয়। এরপর সোমবার সকালে বিষয়টি পিবিআই খুলনা জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে জানালে প্রযুক্তির মাধ্যমে অবস্থান সনাক্ত করে অপহৃত ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় পাঁচজন অপহরণকারীকে। আটকে রেখে দু’ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করে অপহরণকারীরা।
সূত্রটি আরো জানায়, সোমবার সকালে অপহরণকারীরা ওই দুই ব্যবসায়ীকে শহীদ শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে তারা দুই ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন এবং খেজুরের কাঁটা দিয়ে চোঁখ তুলে ফেলার ভয় দেখায়। অপহরণকারীরা ১০লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে দুই ব্যবসায়ীর পরিবারের সদস্যদের নিকট অব্যাহত হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে দুই ব্যবসায়ীর পরিবারের পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা জোগাড় করে তাদের দেয়া হবে বলে জানানো হয়। এরই মধ্যে বিষয়টি খুলনার পিবিআইকে জানায় দুই ব্যবসায়ীর স্বজনরা। পিবিআই মোবাইল ট্র্যাকিং করে তিনজনকে ময়লাপোতা মোড় এলাকা থেকে এবং আরও দুইজনকে আবু নাসের স্টেডিয়াম এলাকা থেকে গ্রেফতার ও দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে। এসময় আরও একজন অপহরণকারী পালিয়ে যায়। অপহরণের সাথে জড়িত ৯ জনের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘অপহৃতদের মারাত্মক নির্যাতন করেছে অপহরণকারীরা। মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনাস্থল থেকেই পাঁচজনকে আটক করতে পারলেও ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আরও চারজন পলাতক রয়েছে।
শিশু জুবায়ের উদ্ধার হয়নি: গত তিনদিনেও অপহৃত তিন বছরের শিশু জুবায়েরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা রিয়াবাজার থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। অপহরণকারীরা জুবায়েরের পরিবারের নিকট ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত শিশু জুবায়েরকে উদ্ধার কিংবা কোন অপহরণকরীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার বিবরণে জানা যায়, খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার শ্রীকণ্ঠপুর গ্রামের মো. আব্দুস ছাত্তার স্ত্রী আসিয়া বেগম ও শিশু পুত্র জুবায়েরকে নিয়ে বসবাস করেন লবণচরা থানাধীন হরিণটানা গ্রামের রিয়াবাজার এলাকার লোকমান সাহেবের ভাড়া বাড়িতে। গত ২১ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে আব্দুস ছাত্তার দুপুর খাওয়া-দাওয়া সেরে রিকশা চালানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আব্দুস ছাত্তার স্ত্রী আসিয়া বেগমের ভাই মো. জাহিদের মেয়ে খাদিজা আক্তার তাদের বাসায় বেড়াতে আসে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসিয়া বেগমকে চায়ের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে জুবায়েরকে নিয়ে পালিয়ে যায়। রাত ৮টার দিকে আসিয়া বেগমের মোবাইলে ফোন আসে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে শিশু জুবায়েরকে মেরে ফেলা হবে। এ ঘটনায় শিশু জুবায়েরের মা আসিয়া বেগম বাদী হয়ে লবণচরা থানায় বাদীর ভাই লবণচরা ধানাধীন হরিণটানা গ্রামের রিয়াবাজার এলাকার মৃত আব্দুল ছাত্তার শেখের ছেলে মোঃ জাহিদ হোসেন (৫০), তার মেয়ে খাদিজা আক্তার (২২), ছেলে মোঃ ইসমাইল হোসেন (২০) ও একই এলাকার মোঃ সাইদ শেখের ছেলে মোঃ আমিন শেখ (২৩) এর নাম উল্লেখ ও আরো ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। যার নং- ১৯।
এ ব্যাপারে লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লিয়াকত আলী জানান, শিশু জুবায়ের অপহরণ মামলার আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। থানার একাধিক টিম কাজ করছে তাদের ধরতে। জুবায়েরকে খুব দ্রুত উদ্ধারসহ অপহরণকারীদের গ্রেফতার করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ