ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই রুগ্ন

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন

এম,এ,জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই রুগ্ন তাই প্রয়োজনীয় ম্বাস্থ্য সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার জন্য অনুকূল পরিবেশ না থাকায় ধুঁকে ধুঁকে চলছে এর কার্যক্রম। সরেজমিনে ঘুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর বেহাল অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। এখানকার ৩টি অ্যাম্বুলেন্সের দুটি বিকল হয়ে থাকলেও তা সংস্কার না করায় ১টি দিয়ে চলছে কার্যক্রম। হাসপাতালের ভিতরে খোলা আকাশের নীচে স্থান পাওয়া অ্যাম্বুলেন্স দুটি প্রায় ২ যুগ ধরে (১৯৯০ সালে) বিকল হলেও সচল করার কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা।
নির্দিষ্ট বাউন্ডারী দেয়াল না থাকায় হাসপাতালের পরিত্যক্ত রুমগুলোতে প্রতিনিয়ত চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। এছাড়াও হাসপাতালের বিভিন্ন কোয়ার্টারে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনাতো ঘটছেই। বর্তমানে শাহজাদপুর উপজেলার ৬ লাখ ১১ হাজার ১৫৭জন জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবাদানকারি এই হাসপাতালে ২৪জন ডাক্তারের মধ্যে সার্বক্ষণিক আরএমওসহ ৫ জন মেডিক্যাল ডাক্তার কর্মরত আছেন। হাসপাতালে নার্স ১৭জনের স্থলে ১৩জন। তয় শ্রেণীর কর্মচারী ১৭০জনের স্থলে ১৩৬জন, ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ২৭জনে ২০জন কর্মরত এবং নাইটগার্ড ২জনের স্থলে ১জন কর্মরত রয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জোবায়দা মেহেরনাজ জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জড়িত। এখানকার স্থানীয়রা এটাকে পৈত্তিক সম্পত্তি মনে করে সর্বদা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। এখানকার সবচেয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা নিরপত্তার অভাব। কারণ হাসপাতালের ভিতর দিয়ে একটি রাস্তা থাকায় এখান দিয়ে রাত-দিন ২৪ ঘন্টা হাজারও লোক চলাচল করে। এর নির্দিষ্ট কোন বাউন্ডারী নেই। উত্তর-পশ্চিম-পূর্ব সাইডে যে বাউন্ডারী রয়েছে তাও পর্যাপ্ত নয় তিনি আরও জানান, এখানে ২৪ জন ডাক্তার থাকলেও কোয়ার্টার রয়েছে ২টি যা জরাজীর্ণ সংস্করাধীন, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের থাকার পরিবেশ নেই। ডিজিটাল মেশিন না থাকায় আধুনিক মানের চিকিৎসা সেবা দেওয়াও সম্ভব হচ্ছেনা। নেই আধুনিক মানের অ্যাম্বুলেন্স, আল্টাসনোগ্রাফি মেশিন, ই,সি,জি ও ডিজিটাল এক্সরে, প্যাথলজিক্যাল সুযোগ সুবিধা। এখানে নিজস্ব স্টোর,মালি, পরিছন্ন কর্মি নেই। ফলে জনৈক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসে বলেছেন,এটাকে কোন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বলা যায়না। বাংলাদেশের সবচেয়ে দূর্বল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এটি। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটি ২০১৬ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জোবায়দা মেহেরনাজ সম্পূর্ণ নতুন ধাচে এটিকে সাজানোর চেষ্টা করছেন। নানা অনিয়ম দূর করে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে নানা সমস্যা বিদ্যমান থাকায় সার্বিকভাবে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর তাই বঞ্চিত হচ্ছে শাহজাদপুর উপজেলার লাখ লাখ নারী-পুরুষ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা থেকে। এই হাসপাতালকে আধুনিক মানের করে গড়ে যুগোপযোগী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ