ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিচার না পেয়ে খুলনা মহানগর জাপা নেতা-কর্মীরা হতাশ

খুলনা অফিস: একের পর এক নব্য নেতা-কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছে খুলনা মহানগর জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা। নির্যাতিত এ সব নেতা-কর্মীরা বিচার না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছে। এতে করে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে পড়ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে অসাংগঠনিক এসব নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন প্রবীণ নেতারা।
খুলনায় জাতীয় পার্টির যারা গোড়াপত্তন করেছিলেন তাদের মধ্যে একজন শাহ লায়েক উল্লাহ। তিনি জাপা চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের অন্ধ ভক্ত। অনেকে গ্রুপিং আর মান অভিমান করে দল ত্যাগ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তিনি সম্মানজনক পদ-পদবি না পেলেও কখনও দল ত্যাগ করেননি। খুলনার নেতাদের চেয়ারম্যান ঢাকায় ডাকছে। কেউ তাকে খবর না দিলেও তিনি একা একা গিয়ে ওই সভায় হাজির হন। তার খুব বেশি চাওয়া পাওয়া নেই। জাপার চেয়ারম্যান তাকে ভালবাসে। এটাই তার জন্য বড় পাওয়া। এ জন্য তিনি শত প্রতিকূল পরিবেশেও দল ত্যাগ করেননি। অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ করা যেন তার চিরাচরিত স্বভাব। মুশফিক দলে যোগদান করলে কেউ তার ব্যাপারে প্রকাশ্যে নেতিবাচক কথা বলতে সাহস না পেলেও এ নেতা বলেছেন। এ জন্য তাকে হুমকি ধামকি শুনতে হয়েছে। কিন্তু মুশফিক থাকা অবস্থায় তিনি কখনই দলীয় কার্যালয়ে আসতেন না।
তিনি বলতেন, অরাজনৈতিক লোকদের সাথে রাজনীতি করা যায় না। এছাড়া মুশফিক সাংগঠনিক ছেলে নয়। তাই তার সাথে রাজনীতি করা যায় না। যখন মহানগর জাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোল্যা মুজিবর রহমান দলীয়ভাবে খুবই কোণঠাসা, তখনই তিনি মুজিবর রহমানকে ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। যখন মহানগর জাপা অভিভাবকহীনতায় ভুগছে। ঠিক তখনই তিনি মহানগর দিশাহীন কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নব্য ও কর্মীবান্ধব নয় এমন লোকেরা আবারও মহানগর জাপার শীর্ষ পদে আসার বিষয়টির প্রতিবাদ করায় তিনি লাঞ্ছিত হন। যা খুবই দুঃখজনক বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। গত ১৫ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন দৌলতপুর থানা জাপার যুগ্ম আহবায়ক ইস্রাফিল মোল্যা।
তিনি বলেন, নব্য নেতা মোল্যা শওকত হোসেন বাবুলের নির্দেশে ভাড়াটিয়া গুন্ডারা তার ওপর হামলা চালায়। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন জাপার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে সুশৃঙ্খলভাবে রাজনীতি করে আসছি। কিন্তু নব্য নেতারা নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য দলে আসে আর স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে দলকে ক্ষতি করে চলে যায়। যেমনটি করেছেন মুশফিক। তার কারণে খুলনার শীর্ষ নেতারা পদত্যাগ করেন। ওই পদত্যাগী নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনতে না পারলে মহানগরে রাজনৈতিকভাবে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা কখনও পূরণ হওয়া সম্ভব নয়।
এছাড়া শাহ লায়েক উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কার কাছে নালিশ করবো। এসব অনিয়মের বিচার বিগত দিনে হয়নি আজও হবে বলে তার মনে হয় না। কারণ বিষয়টি তিন কেন্দ্রীয় নেতার সামনে ঘটেছে। ঘটনার দু’দিন অতিবাহিত হলেও কেন্দ্রীয় নেতারা হামলাকারী নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এতে করে হামলাকারীরা আরও উৎসাহিত হবে আর নির্যাতনের শিকার নেতা-কর্মীরা ক্রমে হতাশ হয়ে পড়বেন বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া খুলনা মহানগর যুবসংহতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল কাদির উৎসবকে মারধর করেছে দলের নব্য নেতারা। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টায় ডাকবাংলাস্থ জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে যুবসংহতির নেতা উৎসবসহ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। এমন সময় সদ্য দলে যোগদানকারী কয়েকজন তাকে দলীয় কার্যালয়ে ফেলে মারধর করে। দুর্বৃত্তরা তাকে কিল, ঘুষি মেরে, ফেলে জখম করে। এ সময় তার চিৎকারে দলীয় অন্য কর্মীরা ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা তাকে হুমকি দিয়ে দলীয় কার্যালয় ত্যাগ করে।
তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সদর থানায় জোবায়ের ও নুরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় জিডি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও দীর্ঘদিন জাপার রাজনীতির সাথে জড়িত শহিদুল কাদির উৎসবকে নব্য দলে যোগদানকারী একটি চক্র মারধর করলেও দায়িত্বশীলরা সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
দৌলতপুর থানা জাপার আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম সেলিম বলেন, ১৫ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার চেয়ে শিগগিরই তারা সভা আহবান করবেন। বিশেষ করে দৌলতপুর থানা জাপা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায়। একই সাথে হামলাকারী ও মদদদাতা নব্য নেতার বিচার দাবি করেন তিনি।
তবে, মোল্যা শওকত হোসেন বাবুল ওই সময় বলেছিলেন, তার ছেলেরা ছাত্র সমাজ করে। বহিরাগত কোন লোক অফিসে ছিল না। মতপার্থক্য নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতারা মীমাংসা করে দিয়েছে। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় বলেন, ১৫ জুলাইয়ের ঘটনায় এখনও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ