ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আর ক্লিনিক

এফএ আলমগীর, (চুয়াডাঙ্গা): চিকিৎসার নামে ব্যাঙের ছাতার মত বাড়ছে চুয়াডাঙ্গায় ক্লিনিক আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার। লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা প্রশাসনের নাকের ডোগায় ব্যবসা চালিয়ে গেলেও দেখার যেন কেউ নেই। যে গুলোর স্বীকৃতি সনদ বা লাইসেন্স আছে সেগুলোর অধিকাংশের বিরুদ্ধেই রয়েছে নানান অভিযোগ। এ সমস্ত সেবামূলক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অসংখ্য জীবন হারানোর ঘটনা ঘটলেও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে নীরব দর্শকের ভূমিকায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী চুয়াডাঙ্গা জেলায় ক্লিনিক প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১২৪। এর মধ্যে লাইসেন্স আছে ৯২টির। আবেদনের প্রেক্ষিতে লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ২০টি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল রোডের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সেন্ট্রাল মেডিকেল সেন্টার,অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সরোজগঞ্জের সালেহা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আলমডাঙ্গার আনন্দধাম রোডের সুবর্ণা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মাহবুবুল আলম আর এম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আলমডাঙ্গার সোনাপট্টির জ্যোতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাজি মোড়ের প্যানরোমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আলমডাঙ্গা হারদী এমএম ডায়াগনস্টিক সেন্টার,জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আলমডাঙ্গা কলেজ রোডের বিসমিল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দামুড়হুদার বাসস্ট্যান্ডের মা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দর্শনার ডা. তরিকুল ইসলমের মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দর্শনা বাজারের সেবা প্যাথলজি, জীবননগর হাসপাতাল রোডের ক্রিসেন্টের ক্লিনিক ও ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,মিতু ডায়াগনস্টিক সেন্টার,সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টার,ফাইভ স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আন্দুলবাড়িয়া বাজারের মেঘনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এর বাইরে লাইসেন্সবিহীন রয়েছে অসংখ্য, যদিও এর মধ্যে মাত্র ১১টিকে চিহ্নিত করেছে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ। এগুলো হলো- আলমডাঙ্গার হারদীর খান লাইফ কেয়ার, হারদী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আলমডাঙ্গা কলেজ রোডের খোন্দকার প্যাথলজি, দামুড়হুদা কার্পাসডাঙ্গার রোজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আটকবরের আটকবর ডায়াগনস্টিক সেন্টার, জীবননগর হাসপাতাল রোডের নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসাদহ বাজারের হাসাদাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আলমডাঙ্গা হাউসপুরের পদ্মা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কার্পাসডাঙ্গা কাস্টমস মোড়ে হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কার্পাসডাঙ্গা পেট্রোল পা¤প মোড়ের সাউন লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাব ওয়ান ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
সূত্রে জানা গেছে, হিসাব অনুযায়ী জেলায় রয়েছে ১২ লাখ মানুষ। আর এই ১২ লাখ মানুষের জীবন নিয়ে খেলছেন ডজনখানেক লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক। সরকারি নিয়মানুযায়ী লাইসেন্সধারী প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বাথরুম, সার্টিফিকেটধারী টেকনোলজিস্ট থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তা নেই। এছাড়াও একটি ক্লিনিকে ১০ বেডের জন্য ৬জন ডিপ্লোমা নার্স ও ৩ জন এমবিবিএস ডাক্তার থাকা বাধ্যতামূলক হলেও কোনো ক্লিনিকেই তা নেই। স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে ক্লিনিক প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিদর্শনে গেলে প্রক্সি দেয়ার ডাক্তার ও নার্সদের রাখা হলেও পরবর্তীতে তাদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এছাড়াও এমবিবিএস ডাক্তার ও নার্স না থাকলেও ক্লিনিক প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাদের সার্টিফিকেট জমা আছে। এভাবে চোখ ফাঁকি দিয়ে ক্লিনিক প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. মো. খায়রুল আলম জানান, যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই তাদের গত ৩ মাস আগে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। তারপরও তারা তোয়াক্কা না করায় রোজার ঈদের আগে জেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থার নেয়ার জন্য সুপারিশ করেছি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ জানান, আমি ছিলাম না, তাই কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আশা করছি ২-১ দিনের মধ্যেই লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান নামানো হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ