ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় সহকারী হাইকমিশন অফিস থেকে ভারতীয় ভিসা প্রিন্ট হবে

খুলনা অফিস : সবঠিক থাকলে আগামী মাসের শুরুতে ভারতীয় ভিসা খুলনাস্থ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয় থেকে প্রিন্ট হবে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে বয়রাস্থ সরকারি মহিলা কলেজ রোডের অফিসে। সহকারী হাইকমিশনার রাকেশ কুমার রাইনার নিয়ন্ত্রণে ৯ জন কর্মকর্তা কর্মরত এখানে। কার্যালয়টির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে ভারতে যাতায়াতকারী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ লাঘব হবে এমনটিই প্রত্যাশা সকলের। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গেল মাসখানেক কার্যালয়টির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বিভিন্ন প্রকল্পের মনিটরিং করা হচ্ছে এখান থেকে। নিরাপত্তা বেষ্টনিতে সুরক্ষিত করা হয়েছে কার্যালয়টি। বাইরের অংশের পাহারায় বাংলাদেশী পুলিশ মোতায়েন থাকছে, আর ভিতরে সে দেশটির নয়জন সেনা সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন। কার্যালয়টিতে (ভারতীয়) ভিসা বিভাগের প্রধান দীপক দাশের নেতৃত্বে পরীক্ষামূলকভাবে ভিসা প্রস্তুতকরণের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চলছে মাস খানেক। যদিও এ সব ব্যাপারে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের অনুমতি ব্যতীত সহকারী হাইকমিশন অফিসের কেউ গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে রাজি নন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সহকারী হাইকমিশন অফিস চালু হলে খুলনা থেকেই ভারতীয় ভিসা প্রিন্ট করা সম্ভব। এতে ১০ থেকে ১৫ দিনের স্থলে ভিসা প্রাপ্তির সময় কমে আসবে এক থেকে দু’দিনে। নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান বলছে- গত এক বছরে খুলনা অঞ্চলের চার লাখ ৩২ হাজার মানুষ ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করেছিল। নিয়মিত যাতায়াতকারীরা জানান, প্রতি বছর খুলনা অঞ্চল থেকে কয়েক লাখ মানুষ চিকিৎসা, ব্যবসার কাজে ও ভ্রমণে ভারতে যান। খুলনায় ভারতের একটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র থাকলেও ঢাকা থেকে প্রিন্ট হয়ে ভিসা প্রাপ্তিতে সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন। অনেক সময় ভিসাসহ পাসপোর্ট ফেরত পেতে একমাসও লেগে যায়। বর্তমানে খুলনা ও যশোরের ভিসা আবেদন কেন্দ্রে প্রতি মাসে ৩৬ হাজার আবেদন জমা পড়ে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন থেকেই খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের অফিস চালু করে এখান থেকেই ভিসা প্রসেসিং করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। যাতে খুলনা থেকে ভিসা প্রিন্টিং কাজ শেষে ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই ভিসাসহ পাসপোর্ট ফেরত পায় মানুষ। খুলনার সরকারি মহিলা কলেজ রোডের বাসিন্দা এসএম কামরুল ইসলামের একটি বাড়ি গেল বছরের ডিসেম্বরে বুঝে নেয়। সরেজমিনে ওই বাড়ি ঘুরে দেখা গেছে, দুই তলা ভবনের কাজ শেষ। সীমানা প্রাচীর উঁচু করে নিরাপত্তা বেষ্টনী সুরক্ষিত করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক পুলিশ ও নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত থাকছেন অফিসটিতে। দুই-একদিনের মধ্যে হাইকমিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসবেন কার্যালয়টি। বাড়ির মালিক এসএম কামরুল আলম মিন্টু বলেন, প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুনছি, আগামী মাসের ১ তারিখে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে যাবে। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতি খুলনার সভাপতি কাজি আমিনুল হক বলেন, শিগগিরই কার্যালয়টির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে যাবে খুলনাস্থ সহকারী হাইকমিশন। সকল প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন নয়জন কর্মকর্তা। বাকীরা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পূর্বে চলতি মাসেই চলে আসবেন বলে জানতে পেরেছি। কার্যালয়টি পুরোপুরি চালু হলে ভারতে যাতায়াতকারী বিপুল জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ লাঘব হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ