ঢাকা, বুধবার 25 July 2018,১০ শ্রাবণ ১৪২৫, ১১ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গৃহকর্তৃর নির্মম নির্যাতনে চোখ হারালো কাজের মেয়ে

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের মহেশপুরে গৃহকর্তৃর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে চোখ হারালো কাজের মেয়ে জুলিয়া খাতুন (১৬)।
পারিবারিক সূত্রে প্রকাশ, উপজেলার ফতেপুর গ্রামের ডালিম হোসেনের কন্যা জুলিয়া খাতুন অভাবের তাড়নায় ঢাকার সাভারে কাজের বুয়া হিসাবে কাজ করতো। জুলিয়ার মা জানায়, জীবননগর থানার হাসাদাহ গ্রামের মুন্নি খাতুনের সাথে সাভারের কামাল উদ্দিনের বিয়ে হয়। মুন্নি তার মেয়েকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে কাজের বুয়া হিসাবে সাভারে নিয়ে যায়। বছর খানেক কাজ করার পর একদিন একটি গ্লাস ভাঙ্গার অপরাধে মুন্নি তাকে প্রেসার কুকার দিয়ে তার চোখে আঘাত করে। বিনা চিকিৎসায় তাকে ঘরের মধ্যে দীর্ঘদিন আবদ্ধ করে রাখে। পরিবারের লোকজন সংবাদ পেয়ে বাড়ীতে নিয়ে এসে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কিছুদিন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা তাকে ঢাকায় রেফার করে। স্থানীয় লোকজন হাসাদাহ এলাকার সার্জিক্যাল ডাক্তার সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে ঢাকার একটি হাসাপাতালে চিকিৎসা করায় এবং ডাক্তাররা অপারেশন করে তার বাম চোখ তুলে ফেলে। ডাক্তাররা জানায়, এই চোখটি তুলে না নিলে ২টি চোখই অন্ধ হয়ে যাবে। এই ঘটনায় জুলিয়ার পরিবার বিভিন্ন জায়গায় বিচার চেয়েও ব্যর্থ হয় মুন্নির পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে জুলিয়ার পরিবার ভয়ে কিছু করতে পারেনি। শনিবার সকালে জুলিয়া ও তার মা মহেশপুর প্রেসক্লাবে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তারা এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তারা বর্তমানে ফতেপুর গ্রামে বসবাস করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ