ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানে সেনা পাহারার মধ্যেই সাধারণ নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতায় নিহত ৩৪

আহত একজনকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে

২৫ জুলাই, ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন : পাকিস্তানে রেকর্ডসংখ্যক সেনা প্রহরায় সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোর আশেপাশে তুমুল সহিংসতা ও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার  ভোটগ্রহণ চলার সময় কোয়েটায় একটি ভোটকেন্দ্রের কাছে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছে। এদিন সকালে খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াবি এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে গোলাগুলীতে নিহত হয়েছে একজন। আহত হয়েছে আরও দুইজন। দিঘরি এলাকার মিরপুরখাসে সহিংসতায় একজনের প্রাণহানি হয়েছে। বেলুচিস্তানে একটি ভোটকেন্দ্রে গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছে এক পুলিশ সদস্য। বেলুচিস্তানে লারকানা এলাকার একটি রাজনৈতিক ক্যাম্পের বাইরে পটকা বিস্ফোরণে আহত হয়েছে চারজন। সবমিলে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানে নির্বাচনি সহিংসতায় ৩৪ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। এছাড়া আরও কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতা হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকাল আটটা থেকে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন ও চারটি প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রেকর্ডসংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর ৩ লাখ ৭১ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন থাকছে। একই সঙ্গে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর আরও সাড়ে ৪ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দেশজুড়ে ১৭ হাজার ভোটকেন্দ্রকে ‘স্পর্শকাতর’ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এতো কঠোর নিরাপত্তা সত্তে¦ও ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মাথায় বেশ কয়েকটি জায়গার সহিংসতার খবর মিলেছে।

স্থানীয় পুলিশকে উদ্ধৃত করে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাওয়ান কালি এলাকায় এন-১৯ (সোয়াবি ২) ও পিকে-৪৭ (সোয়াবি ৫) আসনে সহিংসতা হয়েছে। সেখানে ভোটকেন্দ্রের বাইরে পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হয় পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের এক কর্মী। লারকানায় একটি ক্যাম্পের বাইরে পটকা বিস্ফোরণ হয়েছে। ওই ঘটনায় চারজন আহত হয়। তবে কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের পর লারকানার এনএ-২০০ আসন পিএস-১১ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। কোয়েটায় ইস্টার্ন বাইপাস এলাকায় একটি ভোটকেন্দ্রের কাছে বোমা বিস্ফোরণে ৩১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ২০ জন। এর মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচন চলাকালীন পুলিশ ভ্যানকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যরা ছাড়াও বেসামরিকরা রয়েছে। পুলিশকে উদ্ধৃত করে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বুধবার কোয়েটার ‘স্পর্শকাতর’ নির্বাচনি আসন হিসেবে বিবেচিত এনএ-২৬০ এর একটি স্কুলের কাছে বিস্ফোরণ হয়। ওই স্কুলটিতে তখন ভোটগ্রহণ চলছিলো। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ।স্কুলটিতে ভোটগ্রহণ সাময়িক স্থগিত রাখা হয়। পরে আবারও শুরু হয় ভোটগ্রহণ।ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে উদ্ধৃত করে ডন জানায়, বেলুচিস্তানে খুজদার এলাকার কোশক গ্রামের একটি ভোটকেন্দ্রে গ্রেনেড হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত ও তিনজন আহত হয়। নাসিরাবাদে একটি পুলিশ স্টেশনে গোলাগুলিতে দুইজন আহত হয়েছে। এছাড়া মারদান, রাজনপুর, খিপরো ও কোহিস্তানেও সহিংসতার খবর পাওযা গেছে। কোহিস্তানেও ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। দিঘরি এলাকার মিরপুরখাস ভোটকেন্দ্রের বাইরে গোলাগুলির ঘটনায় সিকান্দার নুহানি নামের একজন নিহত হয়েছে।এবারের নির্বাচনে ৩০টিরও বেশি দলের ১২ হাজার ৫৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দি¦তা করছে। পাকিস্তানে এবার নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৬০ লাখ। নির্বাচনের প্রচারণায় পাকিস্তানের শীর্ষ তিন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) একে অপরকে দোষারোপ আর অভিযোগ করে গেছে। তবে তাদের মধ্যে পিএমএল-এন ও বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির দল পিপিপি অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানের ক্ষমতাশালী সামরিক বাহিনী তাদের সমর্থকদের ভয় দেখানোর পাশাপাশি প্রার্থীদের দলত্যাগের জন্য চাপ দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে পিএমএল-এন’র কমপক্ষে ২০ জন প্রার্থী ইমরান খানের দল পিটিআইতে (পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ) যোগ দিয়েছে বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ