ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইসরাইলের হাতে ফিলিস্তিনী নারী সাংবাদিক গ্রেফতার

লামা খাতার

২৫ জুলাই, আল জাজিরা : অধিকৃত পশ্চিম তীরের হিব্রোণ শহরের বাসিন্দা লামা খাতার। তিনি পেশায় একজন লেখক ও সাংবাদিক। গত মঙ্গলবার কমপক্ষে ২৫ জন ইসরাইলী সৈন্য তার হেব্রোনের বাড়ি ঘিরে ফেলে এবং তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

এসময় তার দুই বছরবযসী ছেলে ইযাহিযা তার পিছু নেয় এবং তাকে সৈন্যদের কাছ থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছিল।

অন্ধকারের মধ্যে বাড়ির বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা জীপে তোলার জন্য সৈন্যরা লামা খাতারকে হাঁটিয়ে নেয়ার সময় তিনি থেমে যান, তারপর হাঁটু গেড়ে বসে তার আদরের শিশুকে জড়িয়ে ধরেন এবং অনবরত তার গালে চুমো খেতে থাকেন। তার মা তাকে ছাডা চলে যাচ্ছে দেখে ইয়াহিয়া কাঁদতে শুরু করে এবং তার বড বোন বীসান তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত¦না দেবার চেষ্টা করে। ১৮ বছর বযসী বীসান আল জাজিরাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত প্রায় দেড়টার সময় আমরা আমাদের বাড়ির বাইরে বিশাল গোলমাল শুনতে পাই।’ ইসরাইলী সৈন্যবাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য ওই দিন রাতে তাদের বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এরপর সৈন্যরা ওই পরিবারকে জানিয়ে দেয় যে তারা লামা খাতারকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে এসেছে। ১৪ বছরের ইয়ামান ছাড়া তাদের পরিবার সব সদস্যকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। ব্যাগ গুছিয়ে দেয়ার জন্য ইযামানকে তার মায়ের কাছে থাকার অনুমতি দেয়া হয়। বীসান বলেন, ‘মাকে নিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের সবাইকে চুমো খান এবং আমাদের একে অপরে যতœ নেওযার পরামর্শ দেন। আমাদের বলেছে, সে খুব শিগরিই ফিরে আসবে।’

পাঁচ সন্তানের জননী ৪২ বছর বযসী লামা খাতার একজন লেখক হিসেবে অধিক পরিচিত। ইসরাইলী দখলদারিত্বের অধীনে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ ও লঙ্ঘনের বিষয়ে ‘নুন পোস্ট’ ওয়েবসাইট তার একাধিক নিবন্ধ প্রকাশ করে। দুই বছর আগে ইয়াহিয়ার জন্ম দেওয়ার এক মাস পর তিনি আরো একবার গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং একই দিনে মুক্তি পাওযার আগে তার লেখা সম্পর্কে তাকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয।তার স্বামী হাজেম আল-ফারুকি মঙ্গলবার জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিন আগে তাকে ইসরাইলী বাহিনী ডেকে নিয়েছিল। ওই সময় ইসরাইলী বাহিনী তাকে সতর্ক করে দিযিেছল যে, তিনি যদি তার স্ত্রীকে লেখালেখি বন্ধ করতে চাপ না দেন, তবে খাতারকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।তিনি বলেন, ‘আমার ভাবতে পারিনি যে দখলদার শক্তি তাদের হুমকি সত্যি সত্যি বাস্তবায়ন করবে। কোনো কারণ ছাড়াই লামাকে গ্রেপ্তারের জন্য মধ্য রাতে ইসরাইলী সৈন্যরা আমাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। এটি আমাকে এবং আমার সন্তানদের অবাক করেছে।’তিনি আরো বলেন, ‘সে (লামা) এই ঘর-বাড়ি, আমাদের পরিবারে ভিত্তি এবং আমরা সবাই তার ওপর নির্ভরশীল। আমরা জানি না কিভাবে এখন আমরা আমাদের জীবন চালিযে যাব।’ হাজেম জানান, তার স্ত্রী রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন এবং এজন্য তাকে ওষুধের পাশাপাশি সম্পূরক খাবার গ্রহণ করতে হয়।তিনি বলেন, ‘আমরা লামা সম্পর্কে খুবই উদ্বিগ্ন। ইসরাইলীরা তার ওষুধ কাছে রাখতে এবং তা নিযমিত গ্রহণের অনুমতি দেকে কিনা তা আমরা জানি না।’ বীসান চলতি বছর উচ্চ বিদ্যালযরে পড়াশুনা সম্পন্ন করেছেন এবং হেব্রোনের উত্তরে রামাল্লার কাছাকাছি বিরাজিত বিশ্ববিদ্যালযে ভর্তি হন। এই অবস্থায় সে এখন তার পডাশোনার বন্ধ করে দেয়ার কথা ভাবছেন। সে এখন নার্সিং করার পরিকল্পনা করছে এবং বাড়িতে তার ভাইবোনদের দেখভালের দায়িত্ব নিতে চান।তিনি বলেন, ‘যতদিন আমার মা নেই ততদিন পর্যন্ত আমি বাডি থেকে দূরে থাকতে পারব না। আমাকে বাডেিত থাকতে হবে এবং আমার ভাই ও বোনদের যত্ন নিতে হবে। এটা এখন আমার দাযত্বি।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে গ্রেফতার আ আটক হওয়া লামা খাতারই একমাত্র নারী সাংবাদিক নয়। গত মাসে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সুজান ওউইভি (৩৯) কে হেব্রোনে তার বাডি থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ