ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি ‘অনর্থক’

২৫ জুলাই,ইয়েনি সাফাক : যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তিকে অনর্থক বললেন জাতিসংঘের নিযুক্ত ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রদূত। এই চুক্তিতে জেরুসালেম বা শরণার্থীদের বিষয়ে কিছু না বলায় এটা কোনও কাজেই আসবে না বলে মন্তব্য তার। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মানসুর বলেন, ‘তারা যে প্রস্তাব করতে যাচ্ছে আমরা তাতে আগ্রহী নই। আলোচনায় জেরুসালেম ও শরণার্থীদের বিষয়গুলো বাইরে রাখা হয়েছে’।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের একক রাজধানীর স্বীকৃতি দেন। বিশ্বজুড়ে নিন্দা আর তুমুল প্রতিবাদের মধ্যেও দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যেই ১৪ মে জেরুসালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে যুক্তরাষ্ট্র।জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনকে বর্জনের ঘোষণা দেয় ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষ। তারপরও ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রস্তাবের বিষয়বস্তু জানার পর তা মানতে রাজি হচ্ছে না ফিলিস্তিনী নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত এই মন্তব্য করলেন।

মানসুর আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বরাদ্দ কমানোয় ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘ ত্রাণ ও উদ্ধার এজেন্সি ধ্বংস হতে চলেছে, ইহুদি বসতি কমবেশি গ্রহণযোগ্য আর দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আচরণ করা হয়, তাহলে আর আলোচনার কী বাকি থাকে?

মানসুর বলেন, এই কারণে আমরা এমন অনর্থক কিছুর সঙ্গে জড়াতে চাই না। কারণ তারা একতরফাভাবে যে প্রস্তাব ঘোষণা করেছে তা শান্তি ও উন্নতির পথ নয়।

১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরাইলের দখলদারিত্ব থেকে নিজেদের মাতৃভূমির দখল ঠেকাতে বিক্ষোভে নামলে ইসরাইলী সেনাদের হাতে ৬ ফিলিস্তিনী নিহত হন। ওই ঘটনার স্মরণে এই বছর ৩০ মার্চ থেকে প্রতি শুক্রবার অধিকৃত গাজা সীমান্তে ভূমি দিবস পালনে ফিলিস্তিনীরা ‘গ্রেট রিটার্ন অব মার্চ’ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। আর প্রতি সপ্তাহে ফিলিস্তিনীদের অবস্থান কর্মসূচিতে গুলি চালিয়েছে ইসরাইল। মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনীদের সংখ্যা অন্তত ১৪০ জন। গত ১২ বছর ধরে অবরুদ্ধ রয়েছে গাজা উপত্যকা। সেখানে বসবাসরত প্রায় ২০ লাখ মানুষকে বিদেশি ত্রানের ওপর নির্ভর করতে হয়।

বন্দী ফিলিস্তিনীদের মৃত্যুদণ্ড দিতে আইন প্রস্তাব ইসরাইলী মন্ত্রিসভায় : দখলদার ইসরাইল ফিলিস্তিনী ভূখন্ড থেকে জোরপূবর্ক আটককৃত বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দিতে আইনী প্রস্তাব পেশ করেছে মন্ত্রীসভায়। দেশটির যুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেবারমান বলেন, আশা করছি মন্ত্রিসভা দ্রুতই অনুমোদন দিবেন। ইসরাইলী গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিরাপত্তা বিষয়ক ছোট মন্ত্রিসভায় বুধবার প্রস্তাবনাটি পেশ করা হয়েছে আলোচনার জন্য। লেবারম্যান জানিয়েছেন, আমি নিশ্চিত, আমার সহযোগী মন্ত্রীরা বুঝতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়টি অনুধাবন করবেন। যাতে করে যুক্তরাষ্ট,জাপানের চেয়েও সন্ত্রাসবাদ দমনে উজ্জ্বল হতে পারি।প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে লেবারম্যানের দল পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাবনা পেশ করে যাতে ছিল , ইসরাইলীদের হত্যার কারণে ফিলিস্তিনীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া যায়। পার্লামেন্ট প্রাথমিক পর্যায়ের শুনানিও করেছিল।প্রস্তাবনা মোতাবেক, কোন সামরিক আদালতের দুইজন বিচারকের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে বন্দি ফিলিস্তিনীদের মৃত্যুদণ্ড দিতে পারবেন। এরআগে সকল বিচারকের অনুমোদন জরুরি ছিল।এ প্রস্তাবনার প্রবল বিরোধীতা করেছে দেশটির আইনমন্ত্রী আফেখা ম্যান্ডেলেবেল্ট।

ফিলিস্তিনের বন্দী বিষয়ক সংস্থা এক পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, ইসরাইলী কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনীর সংখ্যা ৬৫০০ তে পৌছেছে। এদের মধ্যে ৩৫০ জন শিশু ,৬২ জন নারী, ৬ জন ফিলিস্তিনের পার্লামেন্টের সদস্য, ৫০০ জন অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতার, ১৮০০ জন রোগী যাদের ৭০০ জনের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। ইসরাইলীদের হত্যার অভিযোগে শত শত ফিলিস্তিনীকে যাবজ্জীবন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনীরা এ আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং তা বাতিল করতে আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ করতে আহ্বান জানিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ