ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস শুক্রবার শুরু

স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রথম মিট ঢাকা সিটি এফসি সামার অ্যাথলেটিকস শুরু হচ্ছে শুক্রবার। ৩৬টি ইভেন্টে অংশ নেবেন জেলা, বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বাহিনীর ক্রীড়াবিদরা। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু। এ সময় সভাপতি এএসএম আলী কবির এবং ঢাকা সিটি এফসির সম্পাদক সামসুদ্দোহা উপস্থিত ছিলেন।

ছয় আসরে দ্রুততম মানবের খেতাব জিতে আসছেন মেজবাহ আহমেদ। পাঁচ আসরে দ্রুততম মানবীর মুকুট ধরে রেখেছেন শিরিন আক্তার। কিন্তু তারা কেউই সাবেকদের রেকর্ড অতিক্রম করতে পারেননি। বরং দু’চার সেকেন্ড কমিয়ে নিজেদের রেকর্ডই ভাঙ্গছেন। তাইতো বছরের পর বছর ধরে প্রত্যেকটি মিটে বইয়ের পাতায় সেই নাজমুন নাহার বিউটি, জাকিয়া সুলতানা, শর্মিলা রায়, সুমিতা রানী, ফৌজিয়া হুদা, মাহবুব আলম, গোলাম আম্বিয়া, মিলজার হোসেন, মোস্তাক আহমেদের নাম এখনও ছাপা হচ্ছে। ২০০৯ সালে ১০০ মিটার হার্ডলসে রেকর্ড গড়া সুমিতা রানী আজও এই ইভেন্টের বড় রানী। সেখানে জায়গা করে নিতে পারছেন না নতুনরা। এখানেই অ্যাথলেটিকসের দৈন্যতা ফুটে ওঠছে। তবে এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা নাকি করছে ফেডারেশন। মন্টুর কথায়, ‘আমরা চেষ্টা করছি অ্যাথলেটদের মান বৃদ্ধি করতে। তাইতো ঘরোয়া আসর বাদেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছি।’ কোচ কিতাব আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ও শুটিং ফেডারেশন গুলী আনার অনুমোদন দেয়নি। তাই কাঠ দিয়েই স্টার্টারের কাজ সারতে হবে এবারও। সেপ্টেম্বরে দু’দিনের জুনিয়র মিট এবং ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী সিনিয়র অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। এবার ইলেক্ট্রোনিক্স টাইম না থাকলেও ফটোফিনিশিং থাকবে বলে জানানো হয়। পৃষ্ঠপোষক ঢাকা সিটি এফসি একটি ফুটবল ক্লাব। দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণের মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাই করে ১২ বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ দেবে। আগামীতে বিশ্বকাপ বাছাইয়েও খেলার জন্য দেশকে সহায়তা করতে চায়। এর জন্য ইউক্রেন থেকে দু’জন কোচও আনবে তারা।  

২০১০ সালে ঢাকা এসএ গেমসের পর আন্তর্জাতিক কোনো আসরের আয়োজন করতে পারেনি অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। ফি বছর জাতীয় সিনিয়র, জুনিয়র ও সামার মিট হয়েছে। বিদেশের মাটিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক আসরেও অংশ নিয়েছে। কিন্তু দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক আসর গড়াতে পারেনি। আগামী বছর অক্টোবরে ঢাকায় বসবে বঙ্গবন্ধু সাউথ এশিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ। যে টুর্নামেন্টে অংশ নেবে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ।

আগামী বছরের মার্চে নেপালে অনুষ্ঠিত হবে সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমস। ওই গেমসে কি স্বর্ণখরা ঘুচতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় কোচ কিতাব আলীর কথা, ‘র্স্বণের আশা করতে দোষ নেই। তবে সম্ভব নয়। কারণ এই আক্ষেপটি ঘুচাতে হলে ভালো মানের বিদেশী কোচ প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের দরকার। উদাহরণ হিসেবে বলবো, গৌহাটিতে শ্রীলংকা বিশাল বহর নিয়ে অ্যাথলেটিকসে এসেছিল। যে বহরে কোচই ছিলেন ২২ জন। একজন কোচের তত্বাবধানে থাকেন মাত্র দু’থেকে তিনজন অ্যাথলেট। চার বছর অনুশীলন করিয়েছেন তারা। যার ফলটাও অ্যাথলেটরা এনে দিয়েছেন। তবে আমরা আশা ছাড়ছি না। নেপালে ছেলে মেয়েরা চেষ্টা করবে স্বর্ণ জিততে।’ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু বলেন, ‘তাইওয়ানের সঙ্গে দু’জন কোচের বিষয়ে কথা হয়েছে। আমি আরও চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা বলেছে, ফেডারেশন পর্যায়ে এরচেয়ে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়। সরকারী পর্যায়ে যোগাযোগ করা হলে আমরা অনেকজন কোচ দিতে পারবো। সঙ্গে সরঞ্জামাদিও দিতে পারবো। কিন্তু কীভাবে সরকারকে আমরা সম্পৃক্ত করবো বুঝতে পারছি না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ