ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই -সুজন

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান। তিনি বলেন, ‘প্রার্থীদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে বলে মনে হয় না। তবে হতাশ হওয়ার অনেক কারণ থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের ও সরকারের সহযোগিতার ফলে আসন্ন রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ‘সুজনÑসুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর নেতৃবৃন্দ।
গতকাল বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সুজন’-এর উদ্যোগে ‘রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন, সুজন-এর সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান। এছাড়াও সুজন নেতৃবৃন্দের মধ্যে ‘সুজন’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ড. তোফায়েল আহমেদ এবং সুজন ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘সুজনের’ কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড স্থাপন করা। সে দায়িত্ব তারা এখন পর্যন্ত পালন করে নাই কোথাও। ‘আসন্ন তিনটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ও সংশয় রয়েছে। এর কারণ হলো নির্বাচন কমিশন সবার জন্য সমান লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারছে না। দেখা যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু এক্ষেত্রে কমিশন কারো বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের। প্রয়োজনে কমিশনকে সরকারের কাছ থেকে সহায়তা চাইতে হবে। একইসঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য সরকারেরও সদিচ্ছা থাকতে হবে।’
ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ট্রেন্ডগুলো অলরেডি সেট হয়ে গেছে। যে ট্রেন্ড সেট হয়ে গেছে, আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, আনএক্সপ্লেইনেবল ট্রেন্ড এবং সেটা জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত কতটুকু করবে, আমি জানি না। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করে তাহলে এটা খুব ভয়ের ব্যাপার। ২০১৮ সালে যে কয়টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সে নির্বাচনগুলোতে এক ধরনের নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রের বাইরে তেমন সহিংসতা নেই, কিন্তু নির্বাচনটি হচ্ছে নিয়ন্ত্রিত। মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখছে যে, তার ভোট দেয়া হয়ে গেছে, কিছু কিছু কেন্দ্রে বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে ভোটের হার বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে এবং যে প্রার্থী এক লাখ বা দুই লাখ ভোট পাচ্ছেন তিনি এজেন্ট দিতে পারছেন না। তার মানে কী? সরকারি দল নির্বাচনে আগ্রাসী আচরণ করছে?’
তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সংসদীয় পদ্ধতিতে, কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতিতে। এরফলে প্রার্থীদের গুণগত মান কমে যাচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থীদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তাই পদ্ধতি সংস্কারের দিকেও আমাদেরকে নজর দিতে হবে। আমি আশা করি, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়গুলোতে নজর দিবেন।’ নির্বাচনী অঙ্গনকে কলুষমুক্ত রাখার জন্য প্রার্থী কর্তৃক প্রদত্ত হলফনামা খতিয়ে দেখা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনকালে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘খুলনা ও গাজীপুরের মতো তিন সিটির নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হলে জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাবে। আগামী ৩০ জুলাই তিন সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি সিটিতেই মেয়র পদে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা। তফসিল অনুযায়ী গত ২৮ জুন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল; ১ ও ২ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই; ৯ জুলাই পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দ ১০ জুলাই ২০১৮ স¤পন্ন হয়েছে এবং পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। তিনটি সিটি কর্পোরেশনের মোট প্রার্থী সংখ্যার দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় যে, মেয়র পদে মোট ১৯ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৩৮১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৪৯ জন; সর্বমোট ৫৪৯ জন এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।’
তিনি লিখিত বক্তব্যে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনটি সিটি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সকল মেয়র, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের তথ্যের বিশ্লেষণ তুলে ধরার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী যে সকল মেয়র প্রার্থী ২০০৮ ও ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের আয়, স¤পদ, নিট সম্পদ ইত্যাদির হ্রাস-বৃদ্ধির চিত্রও উপস্থাপন করেন।
প্রার্থীদের শিক্ষাগত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তিন সিটি মিলে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি না পেরুনো প্রার্থীর হার ৪৪ দশমিক ৭০ শতাংশ (৫৪৮ জনের মধ্যে ২৪৫ জন)। অপরদিকে উচ্চ শিক্ষিতের ২৪ দশমিক ২৭ শতাংশ (৫৪৮ জনের মধ্যে ১৩৩ জন)। তিন সিটির মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায় প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিতের হার বরিশালে (২৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ) এবং স্বল্প শিক্ষিতের হার সিলেটে বেশী (৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ )।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ