ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শক্তির সমন্বয়ে এ ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটবে

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএফইউজে ও ডিইউজের উদ্যোগে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর নগ্ন হামলার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

# মাহমুুদুর রহমানের রক্তমাখা মুখ লজ্জিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি -মিয়া গোলাম পরওয়ার
স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জাতীয়তাবাদী ধর্মীয় মূল্যবোধের শক্তির সমন্বয়ে এ ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটবে। সরকারের এ দু:শাসন জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সময় আসছে জনগণই বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাবে। এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, মাহমুুদুর রহমানের রক্তমাখা মুখ শুধু মাহমুদুর রহমানের মুখ নয়, এটা লজ্জিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। দেশের মানুষ ক্ষমতালোভী এ সরকারের পতন ঘটিয়ে মাহমুদুর রহমানের রক্তের বদলা নেবে।  
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের ওপর কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তারা এসব কথা বলেন।
বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ও ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএফইউজের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা লস্কর মুহাম্মদ তসলিম, দিগন্ত টিভির উপ-নির্বাহী পরিচালক মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিএফইউজে’র সহ-সভাপতি নূরুল আমিন, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।   
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, একটি স্বাধীন দেশের আদালতে একজন সম্পাদকের ওপর হামলা হবে এটা কল্পনাও করা যায়নি। পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আর পুলিশ তাদেরকে হামলা করার সুযোগ করে দিয়েছিল। তা না হলে পুলিশ হামলার সময় দূরে অবস্থান নিয়েছিল কেনো? এটা মেনে নেয়া যায় না। আজকে শুধু মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা নয়, এটা গণতন্ত্র, স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের ওপর হামলা।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার না করে সরকার প্রমাণ করেছে তারাই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। সরকার বিচার করার কথা শুধু বলার জন্য বলছে। আসলে তারা বিচার করবে না। অন্যায়কারীদের পুলিশ খুজে পায় না। রিজার্ভ চুরি সাথে জড়িতদের খুজে পায় না। শেয়ারবাজার লুটকারীদের খুজে পায় না। সাগর-রুনি হত্যাকারীদের দেখতে পায় না। পুলিশ পায় না এ জন্য যে তারা সরকারের লোক। অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে ব্লেম গেইম খেলা সরকারের নতুন কিছু নয়। তারা আগেও এ খেলা খেলেছে এখনও খেলছে। স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া ও এরশাদ যেমন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি তেমনি বর্তমান সরকারও পারবে না।
তিনি বলেন, কোটা আন্দোলন থামানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের মতো জায়গায় দাড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে। শিক্ষার্থী ও জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। এটাই ফ্যাসিবাদীদের আচরণ। তারা যা বলে তা করে না। যাদের নির্দেশে হামলা করা হয়েছে রাজনীতির হাওয়া পাল্টে গেলে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবে। কিন্তু যারা হামলা করেছে তাদের এ দেশেই থাকতে হবে। তখন এই পুলিশই তাদের খুজে খুজে বের করে বিচার করবে। 
তিনি বলেন, সরকার তাদের ফ্যাসিবাদী আচরণের কারণে জনগণকে ভয় পাচ্ছে। আর জনগণের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও সরকার ভয় পায়। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি জামিন পাওয়ার পরেও নানা অজুহাতে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাদের একটাই উদ্দেশ্য তারা এদেশে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে রাখতে চায়।  এই সরকারের কবল থেকে জনগণ মুক্তি চায়। দেশের মানুষ বার বার প্রতারিত হতে চায় না। জনসাধারণ এই সরকারের শাসন মেনে নেবে না। জাতীয়তাবাদী ধর্মীয় মূল্যবোধের শক্তির সমন্বয়ে এ ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটবে।
মোশাররফ বলেন, সরকার গোয়েবলসের মতো মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুট ও স্বর্ণ গায়েবের ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের লোকেরাই জড়িত। বাংলাদেশে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর তাদের রেহাই হবে না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের গণতন্ত্র উদ্ধার, স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইসলামের জন্য আমি একাই জীবন দেবো। এ কথা দ্বারা তিনি দেশের গণতন্ত্র উদ্ধার ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার কথা বলেছেন। সকল অন্যায় রক্ত দিয়ে রুখে দেয়ার কথা বলেছেন। মাহমুদুর রহমানের এই দর্শনেই এ সরকারের পতন ঘটবে। জাতীয়তাবাদী ধর্মীয় মূল্যবোধের শক্তির সমন্বয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটনোই মাহমুদুর রহমানের দর্শন।
তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার কারণ হলো তিনি দেশপ্রেমিক এক লড়াকু কলম সৈনিক। সত্য ও ন্যায়ের কথা বলেন। মিথ্যার কাছে মাথা নত করেন না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা বলেন। ভারতের দালালদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। আর এটাই সরকারের কাছে অপছন্দের কারণ। এ জন্য তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমনু করা হয়। দেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মাহমুদুর রহমানের দর্শনের কথা মাথায় রেখে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এ ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়ে তার রক্তের বদলা নিতে হবে। 
রুহুল আমিন গাজী বলেন, মাহমুদুর রহমান একটি আন্দোলনের নাম। একটি আদর্শের নাম। বাংলাদেশের পবিত্র ভূমিতে মাহমুদুর রহমানের রক্ত ঝরেছে। তার রক্ত বৃথা যাবে না। হামলা নির্যাতন ও রক্তাক্ত করে দেশের মানুষের হৃদয় কন্ট্রোল করা যাবে না। এ ন্যক্কারজনক হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ৭৫ সালে একদলীয় বাকশাল কায়েমের সময়ও একশ্রেণির সাংবাদিকরা দালালি করেছিল। এখনো একদলীয় বাকশাল যারা কায়েম করতে চাচ্ছে তাদের পক্ষেও একশ্রেণির সাংবাদিক অবস্থান নিয়েছে। এটা একটি জঘন্য কাজ। সাংবাদিকদের কাজ দালালি করা নয়, তাদের কাজ হলো সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখনির মাধ্যমে প্রতিবাদ করা।
শওকত মাহমুদ বলেন, মাহমুুদুর রহমানের রক্ত দেখে সরকার ভয় পেয়ে গেছে। মাহমুদুর রহমানের রক্ত ঝরিয়ে সরকার সাংবাদিক সমাজকে ভয় দেখাতে চায়। আমরা বলতে চাই ভয় দেখাবেন না। আমরা আপনাদের ভয়ে ভীত নয়। আমাদের ঈমানের সাথে মাঠে নামতে হবে। শপথ নিতে হবে জীবন দিয়ে হলেও আমরা দেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষা করবো।
তিনি বলেন, বিশ দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতির মুক্তির জন্য আন্দোলন করছে। আমরাও পেশাজীবী হিসাবে জাতির মুক্তির আন্দোলনে শামিল হবো। মাহমুদুর রহমানের রক্তের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে। 
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস বলে আওয়ামী লীগ নিজেদের ছাড়া অন্য কোনো মত ও সমালোচনা সহ্য করে না। তাদের মতের বিরুদ্ধে গেলেই নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সরকারের অন্যায় অপকর্মের প্রতিবাদ করায় মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ দেশ আওয়ামী লীগ পরিবারের কাছে ইজারা দেয়া হয়নি। এ দেশের মালিক এ দেশের প্রত্যেকটি জনগণ। জবরদখলকারী সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষ এখন ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। এমনকি মায়ের পেটের সন্তানও নিরাপদ নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সরকার এখন লেন্দুক দর্জির ভূমিকায়। দেশ বাঁচাতে হলে অবশ্যই এ সরকারের পতন ঘটাতে হবে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষের অধিকার আজ ভূলুণ্ঠিত। অত্যাচার সহ্য করতে করতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। পিছনে যাওয়ার আর কোনো রাস্তা নেই। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে সামনে যাওয়াই হবে এখন আমাদের লক্ষ্য। এ সরকারের পতন ঘটানোর মধ্য দিয়ে মাহমুদুর রহমানের রক্তের বদলা নিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ