ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যশোরে তিন দিনে ছয় লাশ উদ্ধার

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরে গত সোম, মঙ্গল ও বুধবারে ছয় জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে চারজন গুলীবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন এবং বাকি দুইজনকে হত্যার পর ট্রেন লাইনের ওপর রেখে যাওয়ায় ট্রেনে কেটে লাশ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। নিহত ছয় জনের মধ্যে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। জানাযায়, ২৩ জুলাই সোমবার সকালে যশোর সদর উপজেলার বারীনগর-মথুরাপুর মাঠপাড়া এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত দুজনের ছিন্ন-ভিন্ন লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত দুইজনের মধ্যে একজনের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা পায়নি রেল পুলিশ (জিআরপি)। তাদের ধারণা, কেউ এই দুজনকে হত্যার পর রেললাইনেরে ওপরে ফেলে গেছে। ভোরে খুলনামুখী কোনো ট্রেনে কাটা পড়ার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যশোর জিআরপি ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মনির হোসেন জানান, সকাল ছয়টার দিকে হৈবতপুর ইউপি সদস্য শাহজাহান তাকে জানান যে, রেললাইনের ধারে দুজনের ছিন্ন-ভিন্ন লাশ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং ঘটনা সত্য বলে দেখেন। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, তাদের হত্যা করে লাশ দুটি রেললাইনের পরে ফেলে যাওয়া হয়েছে। এতে একজনের ধড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন এবং অপরজনের শরীর থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন এবং মগজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এদের একজনের পরনে জিন্সের প্যান্ট এবং অপরজনের পরনে সাদা চেক লুঙি রয়েছে। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ দুটো উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে যশোর কোতয়ালী থানার ওসি অপূর্ব হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে ২৪ জুলাই মঙ্গলবার ভোর বেলা মনিরামপুর থানার পুলিশ পুলেরহাট রাজগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে দুটি গুলীবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চারটি দা, দুটি রশি ও একটি করাত উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ বলছে, দুই দল ডাকাতের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে এরা নিহত হয়েছেন। নিহত দুইজনের মধ্যে একজনের বয়স ৫৫ বছর। তার পরনে শার্ট প্যান্ট রয়েছে। অপরজনের বয়স হবে ৪৫ বছর। তার পরনে আছে শার্ট-লুঙি। এদের মাথায় একটি করে গুলীর চিহ্ন রয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন তার পুত্র সুজন। তিনি হলেন লক্ষ¥ীপুর সদর উপজেলার মালগাজী পাটারীবাড়ি এলাকার সৈয়দ আহমদের ছেলে নুর নবী (৪৫)। নিহতের ছেলে সুজন ও শ্যালক মোহাম্মদ সিরাজ বুধবার দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে তার লাশ সনাক্ত করেন। তিনি মঙ্গলবার রাতে যশোরের মনিরামপুরে গোলাগুলীতে নিহত হন। মনিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন দাবী করেন দুইদল ডাকাতের বন্দুকযুদ্ধে ঐদিন দুইজন নিহত হন। নিহতের ছেলে সুজন দাবী করেন তার পিতার নামে কোন মামলা নেই এবং তিনি ঢাকার ফার্মগেটে একটি দোকানের কর্মচারি ছিলেন। তার হতভাগ্য পিতা কীভাবে যশোরে এসে খুন হলেন তা তিনি জানেন না। মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, ‘রাত দুইটার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী একটি বাস পুলিশ পাহারায় পার করে দিয়ে আসার পর গাঙ্গুলিয়া আমতলা মোড়ে এলে গুলির শব্দ শুনতে পান খেদাপাড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আইনুদ্দিন। তখন তিনি রোহিতা বাজারের দিকে খানিকটা এগিয়ে দেখেন কিছু লোক পালিয়ে যাচ্ছে। এসময় ঘটনাস্থলে রাস্তার দুই পাশে দুটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে আমাকে বিষয়টি জানান আইনুদ্দিন। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে সকাল ছয়টার দিকে মর্গে পাঠিয়েছে।’ওসি মোকাররমের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে চারটি দা, দুটি রশি ও একটি করাত উদ্ধার হয়েছে। দুই দল ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলিতে এরা নিহত হয়েছেন বলে ওসির ধারণা। এদিকে ২৫ জুলাই বুধবার যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ অজ্ঞাত দুই ব্যক্তির গুলীবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলীতে তাদের মৃত্যু হতে পারে।’ জানা গেছে, বুধবার ভোর রাতে যশোর-মণিরামপুর সড়কের কানাইতলা এলাকা থেকে ওই দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় সেখানে তিনটি হেসো, একটি করাত, কিছু দড়ি ও এক জোড়া স্যান্ডেল পাওয়া গেছে। যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই কাইয়ুম মুন্সী বলেন, ‘রাত ২ টা ৫৫ মিনিটে টেলিফোনে খবর পাই, কানাইতলা যাত্রী ছাউনির পাশে ডাকাতরা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি লাশ পড়ে থাকতে দেখি। পাশেই হেসো, করাত, কিছু দড়ি ও স্যান্ডেল ছিল। এগুলো উদ্ধার করে লাশ হাসপাতালে রেখে আসি। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এসব লাশ উদ্ধারের তিনদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও তাদের পরিচয় পাওয়া যাছেনা। পুলিশ বলছে কেউ লাশ দাবি না করলে অজ্ঞাত হিসেবে লাশ দাফন করা হবে।’ এদিকে প্রতিদিন রাতে বন্দুকযুদ্ধে বিভৎস লাশ উদ্ধার হতে দেখে আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মাঝে। তারা কোন কিছু শুনেও না শুনার ভান করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ