ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা অঞ্চলে বিনিয়োগে আশানুরূপ অগ্রগতি নেই

 

খুলনা অফিস : খুলনা অঞ্চলে কাক্সিক্ষত হারে বিনিয়োগ বাড়েনি। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে বিনিয়োগের হার প্রায় অর্ধেক। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে। তবে বিগত ১০ বছরের তুলনামূলক বিবরণীতে খুলনা অঞ্চলে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য হার আশা জাগিয়েছে। ব্যবসার নির্বিঘœ পরিবেশ তৈরি হলে এ হার দ্বিগুণ হবে বলে আশা করছেন অর্থনৈতিক  বোদ্ধারা।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ) খুলনা বিভাগীয় অফিস  থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ২০১৭ সালে খুলনায় বিনিয়োগ হয়েছে ১১৫ কোটি ৫২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। আর ২০১৬ সালে হয়েছে ২১৪ কোটি ৭৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে ২০১৮ সালের গত ৬ মাসে বিনিয়োগ করেছে মাত্র ৬টি প্রতিষ্ঠান। টাকার অংকেও এর পরিমাণ বেশী নয়।

বিআইডিএ’র খুলনা বিভাগীয় অফিসের সদ্য বিদায়ী পরিচালক নিরঞ্জন মন্ডল জানান, এক বছরের হিসেব দেখে বিনিয়োগ কমেছে বলার উপায় নেই। পদ্মা সেতুর কাজ দৃশ্যমান হওয়ার পর থেকে খুলনায় বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে ২০১৬ বছরেই শুধু ৪৪টি ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে খুলনা ও বাগেরহাট এলাকায়। আর বিনিয়োগের হার এ অঞ্চলে প্রায় ৯১৯ শতাংশ। ইতোমধ্যে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট হাউস নামে তৈরি পোশাক রফতানিকারক, বিজি ব্লক টাইগার নামে দেশের সবচেয়ে বড় আধা নিবিড় চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপিত হচ্ছে খুলনার নতুন বাজার লঞ্চঘাট এলাকায়। এ ছাড়া সুপার এক্স লেদার লিমিটেড নামে চামড়া প্রক্রিয়াজাত ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সিরামিক কারখানার মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানও স্থাপিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিতে হবে। কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং পণ্য আনা নেয়ায় সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলে তারা সহজেই এ অঞ্চলে বিনিয়োগ করবে।

খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র সভাপতি কাজি আমিনুল হক বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলে শিল্প বিপ্লব ঘটবে। এখানে সহজ শ্রম যেমন পাওয়া যায়, তেমনি এখানে শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলাও সহজ হবে। নদী এবং স্থল পথে পণ্য আনা নেয়ার সহজ পথ রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা সহজেই আকৃষ্ট হবে।

বিআইডিএ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, একজন শিল্প বিনিয়োগকারী খুলনা অফিস ছাড়াও ঢাকাতেও বিনিয়োগের জন্য তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম নিবন্ধিত করতে পারেন। এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে খুলনায় বিনিয়োগ কমে গেছে। এছাড়া বিনিয়োগের জন্য একজন বিনিয়োগকারী সহজ যোগাযোগ, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, স্বল্পমূল্যে জমি ও শ্রমিক পাওয়ার আশা করেন। উল্লিখিত সুযোগ সুবিধা খুলনা অঞ্চলে ইতোমধ্যে রয়েছে যা দেখে বিনিয়োগকারীরা প্রতি বছর বিনিয়োগে আকৃষ্ট হচ্ছেন। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান জানান, জ্বালানি সমস্যার সমধান, তারপর যোগাযোগ অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা দানের পর বিনিয়োগকারি আকৃষ্ট হয়। জ্বালানি সংকটের কারণে খুলনায় কোন কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ হয় না এবং শিল্প কলকারখানা স্থাপনে যারা বিনিয়োগকারী তারা এখানে শিল্প স্থাপন করতে চায় না। খুলনায় পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হলে বিনিয়োগ বাড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ