ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভায় যুবলীগের হামলার ঘটনায় মামলা ॥ গ্রেফতার নেই

খুলনা অফিস : খুলনা  জেলা আইনজীবী সমিতির সদ্য নির্মিত বঙ্গবন্ধু ভবনে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩৫০ টাকা ভুয়া ভাউচার দিয়ে আত্মসাত সংক্রান্ত বিষয়ে সোমবার আহুত সমিতির সাধারণ সভায় যুবলীগের হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলায় আহত সমিতির সদস্য এডভোকেট বিধান চন্দ্র ঘোষ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে খুলনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে গতকাল সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

এদিকে হামলায় ঘটনায় আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অপরদিকে, ঘটনার বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও হামলার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ।

একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার আইনজীবীদের সাধারণ সভায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দিতে যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। হামলায় সাধারণ সভা পন্ড হয়ে যায়। আহত হন এডভোকেট বিধান ও এডভোকেট সোবহানসহ ৮/১০জন আইনজীবী। এ ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশ হয়। ঘটনার পর থেকে আদালত পাড়ায় এটিই আলোচনার মূল বিষয়। বার’র টেবিল, আইনজীবীদের চেম্বার ও আদালতের বারান্দা থেকে শুরু করে চায়ের দোকান ও গাছতলা-সবখানেই চলে একই আলোচনা। সাধারণ আইনজীবীরা এ বিষয়ে হামলাকারীদের প্রতি চরম ক্ষোভ ও ধিক্কার জানান। অনেকেই বলেন, এ ধরনের ঘটনার মধ্যদিয়ে আইনজীবী সমিতিকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। তবে, ঘটনার দুইদিন পরও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সমিতির পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মশিউর রহমান নান্নু বলেন, সমিতির সাধারণ সভায় বহিরাগতদের হামলা এবং সাধারণ সভার বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা আহবান করা হবে। ওই সভায় ঘটনার বিষয়ে নিন্দা প্রস্তাবসহ আইনী বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে হামলায় আহত সমিতির সদস্য ও হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আইনবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট বিধান চন্দ্র ঘোষ জানান, তার ওপর হামলা এবং মোবাইলফোন ভাংচুরের ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে খুলনা সদর থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন। গতকাল সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। দন্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/৩২৩/৪২৭/৩৭৯/৫০৬ ধারায় মামলা হয়েছে। মামলা নং-৪৬ (তাং-২৫/০৭/১৮)।

এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, সমিতির সাধারণ সভা চলাকালে ৩০-৪০ জন বহিরাগত যুবক সেখানে প্রবেশ করে হট্টগোলসহ অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে। এ সময় তিনি মোবাইল ফোন দিয়ে তাদের ছবি তোলার চেষ্টা করলে তারা তিনিসহ অন্য আইনজীবীদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তার মোবাইলফোন হাত থেকে কেড়ে নিয়ে আছড়ে ভেঙে ফেলে। এ সময় তার পকেট থেকে ৪ হাজার ২শ’ টাকাও ছিনিয়ে নেয়া হয়। তিনি হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, মামলায় ১৫/২০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামী করা হয়েছে। পুলিশের উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলমকে মামলার তদন্তভার দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সদ্য নির্মিত বঙ্গবন্ধু ভবনে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩৫০ টাকার ভুয়া ভাউচার দিয়ে আত্মসাতের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা আইনজীবী সমিতি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১১ জুন এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন বারের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেন। এ কমিটির কর্মকর্তারা ছিলেন আহবায়ক এসএম মঞ্জুরুল আলম, সদস্যবৃন্দ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল মালেক, চিশতি সোহরাব হোসেন শিকদার ও এমএম মুজিবর রহমান। তদন্ত কমিটি ছয় মাস বিভিন্ন ভাউচার পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ