ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৩৫৯৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার পরনির্ভর বাজেট ঘোষণা করেছে ডিএসসিসি

গতকাল বুধবার নগর ভবনে বাজেট ২০১৮-২০১৯ বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জন্য তিন হাজার ৫৯৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার পরনির্ভর বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গতকাল বুধবার নগর ভবনে বাজেট ঘোষণা করেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এটি তার তৃতীয় বাজেট।
২০১৭-১৮ অর্থ বছরে তিন হাজার ৩৩৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল ডিএসসিসি। সংশোধনের পর যা দুই হাজার ১৪ কোটি ৩১ লাখ টাকায় দাঁড়ায়।
এবার নিজস্ব উৎস থেকে ৯০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ডিএসসিসি। এরমধ্যে গৃহকর থেকে ৩৩০ কোটি টাকা, বাজার সালামি থেকে ৩০৫ কোটি টাকা, সম্পত্তি হস্তান্তর কর থেকে ১০০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছে ডিএসসিসি।
সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তামূলক প্রকল্প খাতে দুই হাজার ৪৮ কোটি ৬২ কোটি টাকা সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে বলে বাজেট বক্তৃতায় জানান মেয়র সাঈদ খোকন।
এছাড়া সরকারি মঞ্জুরি ৭০ কোটি, সরকারি বিশেষ মঞ্জুরি ৪৩৮ কোটি ৮৬ লাখ, ট্রেড লাইন্সেস ফি বাবদ ৮০ কোটি টাকা, বিজ্ঞাপন কর বাবদ ৫ কোটি টাকা, বাস-ট্রাক টার্মিনাল থেকে ৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, অস্থায়ী পশুর হাট থেকে ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, রাস্তা খনন ফি বাবদ ২০ কোটি টাকা, যন্ত্রপাতি ভাড়া বাবদ ৫ কোটি টাকা, শিশু পার্ক থেকে ৫ কোটি টাকা, পেট্রোল পাম্প ভাড়া বাবদ ২ কোটি টাকা পাওয়ার আশা ডিএসসিসির।
বাজেটে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ৭৪২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা বলেছে ডিএসসিসি। এছাড়া শিশু পার্ক ও খেলা মাঠ উন্নয়নে ১৪৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানান মেয়র।
এছাড়া ৩৪০ কোটি টাকা বেতন ভাতা বাবদ, ভৌত অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ৩৯৫ কোটি ২৬ লাখ, মশক নিয়ন্ত্রণে ২৬ কোটি, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম বাবদ ৭৫৬ কোটি ১৬ লাখ, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বাবদ ৬ কোটি ৫০ লাখ, নতুন বাজার নির্মাণ বাবদ ২০০ কোটি, জবাইখানা নির্মাণ বাবদ ৬৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় করবে।
গত বছর রাজস্ব আয় এক হাজার ৬৪ কোটি টাকা ধরা হলেও তার অর্ধেকেরও কম মাত্র ৪৫৮ কোটি টাকা আয় করতে পারে ডিএসসিসি। এর মধ্যে বিভিন্ন কর থেকে ৫১৫ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আয় করতে পারে মাত্র ১৮০ কোটি টাকা। এছাড়া আয়ের সবচেয়ে বড় খাত সরকার ও বিদেশী সহায়তা থেকে দুই হাজার ১২৮ কোটি টাকা ধরা হলেও সহয়তা পাওয়া গেছে মাত্র এক হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। এ কারণে বাজেট পুরো বাস্তবায়ন করতে পারেনি ডিএসসিসি। তারপরও এবছর গত অর্থবছরের চেয়ে প্রায় আড়াইশো কোটি টাকার বেশি বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছরও বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে ডিএসসিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এবারের বাজেটের উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের খাতগুলো হল- বেতন ভাতা বাবদ ৩৪০ কোটি, সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন খাতে ৭৪২.৮৩ কোটি, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ/উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ৩৯৫.২৬ কোটি, বিদ্যুৎ, জ্বালানী, পানি ও গ্যাস বাবদ ১০৯ কোটি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ২৭.৭৫ কোটি, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাবদ ২৬ কোটি, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সরবরাহ বাবদ ৭৫৬.১৬ কোটি, বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প খাতে ১৫ কোটি, অপ্রত্যাশিত উন্নয়ন খাতে ব্যয় ৫ কোটি, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় ৬.৫০ কোটি, ফিস বাবদ ১৪.৭০ কোটি, কবরস্থান/শশ্মানঘাট সংস্কার ও উন্নয়ন খাতে ৪২.৫০ কোটি, নাগরিক বিনোদনমূলক সুবিধাদি উন্নয়ন খাতে ১৪৩.৭৫ কোটি, পরিবেশ উন্নয়ন খাতে ১৩৮.৯৪ কোটি, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন সংস্থার চাঁদা বাবদ ২.৬০ কোটি, ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন খাতে ১৭৪.২৮ কোটি, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ বাবদ ৫.৭৬ কোটি, ল্যান্ডফিল রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন বাবদ ১২১.৭২ কোটি, বাস্তবায়িত প্রকল্পের বকেয়া ম্যাচিং ফান্ড বাবদ ৪৩৯.৮৬ কোটি, নতুন বাজার নির্মাণ বাবদ ২০০ কোটি, জবাইখানা নির্মাণ বাবদ ৬৬.৫৬ কোটি, পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিবাস নির্মাণ বাবদ ৬৪.৫০ কোটি, মাতৃসদন খাতে ৫.২০ কোটি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিশেষ উদ্যোগ খাতে ১০.৭০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এবারের বাজেটে ধনী গরীব নির্বিশেষে সকল প্রকার নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করপোরেশনের কবরস্থানে দাফন এবং শ্মশানঘাটে শেষকৃত্যানুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এছাড়া নাগরিকদের অনেকেই শেষ বয়সে এসে পরিবার থেকে পরিত্যক্ত হয়ে অথবা পরিবার-পরিজনহীন নিঃস্ব অবস্থায় আশ্রয়স্থল হারিয়ে পথে-ঘাটে, রেলস্টেশনসহ নানাস্থানে মানবেতরভাবে জীবন-যাপন করতে বাধ্য হন। এটি খুবই হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পশী। এ বিষয়টি উপলব্ধী করে করপোরেশনের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র বৃদ্ধদের জন্য অস্থায়ীভাবে একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের পরিকল্পণা গ্রহন করা হয়েছে।
বাজেট ঘোষণাকালে মেয়র বলেন, নগর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনয়নের লক্ষ্যে বাসরুট র‌্যাশনালাইজেশন ও কোম্পানীর মাধ্যমে বাস পরিচালনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হচ্ছে। আশা করা যায় এ কমিটির মাধ্যমে নগর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। যারফলে যানজট আরো কমে আসবে বলে আশা করা যায়।
সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বদলে গেছে। উন্নয়ন কাজ ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা থেকে আলোকউজ্জ্বল সড়কবাতি, খানাখন্দে ভরা সড়ক মেরামত করা, নতুন সড়ক ও ফুটপাত নির্মাণ, বেদখলে থাকা অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হওয়া পার্ক, খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে বিশ্বমানের আদলে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে যেসব উন্নয়ন বিগত তিন বছরে সম্পন্ন করা হয়েছে তা বিগত এক দশকেও করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এখন উন্নয়নের স্রোতধারায় বদলে যাওয়া নগরী। এ নগরী পুরোপুরি বাসযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এজন্য তিনি নগরবাসীসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে মেয়র বলেন, “দুই ঘণ্টা বৃষ্টি হলে শহর তলিয়ে যায়। রাজধানীবাসী মেয়রের কাছে এর সমাধান চায়। কিন্তু এর সমাধান করবে ঢাকা ওয়াসা। নগরের যানজট সমস্যা আমার কাছে চায়। কিন্তু এটা তো আমার দায়িত্ব নয়।”
বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করতে সভার আয়োজন করলেও সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ করেন সাঈদ খোকন।তিনি বলেন, “এজন্য অনেক সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না। কারা সমন্বয় সভায় উপস্থিত থাকে না তাদের নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব বরাবর একটা চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, সচিব মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন খান,প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা খাদেমুল করিম ইকবাল, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ