ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জাতীয় নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার : জেলা প্রশাসক সম্মেলনের ২য় দিনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রীরা দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের তাগিদ দেন । আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে বর্তমানের মতো নিয়ন্ত্রণে থাকে সেজন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, কোনো চাপের কাছে আপনারা নতি স্বীকার করবেন না এবং এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে সরকার এমব্যারাসড (বিব্রত) হয়।
বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এভাবে যেনো পরবর্তী সময়েও নিয়ন্ত্রণে থাকে ডিসিদের সে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যাতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একই রকম থাকে সে নির্দেশ ডিসিদের দেয়া হয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী জিরো টলারেন্স অব্যাহত রাখতে ডিসিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যেই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, অধিবেশনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আমরা তুলে ধরেছি। বিভিন্ন জেলার দু’একটি সারের গুদামের ব্যাপারে তারা (ডিসিরা) অবহিত করেছেন, আমরা সেগুলো দেখব। এছাড়া সুগার মিলগুলো যেন পুরো বছর চালু থাকে, সেজন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মন্ত্রী-এমপিদের প্রটোকল নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজেদের কাজে মনোযোগী হতে হবে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি ডিসিদেরকে স্পষ্টভাবে বলেছি। আপনারা কোনো চাপের কাছে মাথানত করবেন না। মন্ত্রী-এমপিদের প্রটোকল নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন না। আপনারা যদি কোনো চাপের কাছে মাথানত করেন এবং মন্ত্রী-এমপিদের প্রটোকল নিয়ে ব্যস্ত থাকনে- তাহলে কাজ করবেন কখন!
জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার দলের প্রধান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসিদের যে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি রুলিং পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার সাথে সম্পূর্ণ একমত। অক্টোবরে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর, যে সরকার থাকবে তারা শুধু সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনায় ব্যস্ত থাকবেন। আমাদের কাজ হচ্ছে পদ্মাসেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা নির্বাচনের বছর ঠিকই। নির্বাচনের বছরে ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেটাই আমরা ফলো (অনুসরণ) করছি। তবে আমরা একটা কথা বলেছি, কোনো চাপের কাছে আপনারা নতি স্বীকার করবেন না। এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে সরকার এমব্যারাসড (বিব্রত) হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কোনোভাবেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে দেওয়া যাবে না। নির্বাচনকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত সুচারুভাবে দেখতে হবে, সেটা ডিসিদের বলা হয়েছে। আমার মনে হয় এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ডিসিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যেন কোনোভাবেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কোনোভাবেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে দেওয়া যাবে না। নির্বাচনকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত সুচারুভাবে দেখতে হবে, সেটা ডিসিদের বলা হয়েছে। আমার মনে হয় এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ডিসিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ডিসিদের মতবিরোধ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কিছু কিছু বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের মতবিরোধ দেখা দেয়। তবে সমন্বয়হীনতা নেই।
ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্থানীয় সরকার নিয়ন্ত্রণের ‘কিং’ হচ্ছেন জেলা প্রশাসকরা। জেলা প্রশাসকরা আমাদের যেসব পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিটিই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। তাদের পরামর্শগুলো সক্রিয়ভাবে আমাদের বিবেচনা করতে হবে। কারণ প্রকল্প ও বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব বাধা-বিপত্তি থাকে, সেগুলো আইন করেই হোক আর আলোচনার মাধ্যমেই হোক, সমাধান করতে হয় জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে।
 জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সম্মেলনে কোনো নির্দেশ না দিয়ে ‘গল্প করেন’ বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। আর ডিসিরা কী বলেছেন, সেই বিষয়টি তিনি গোপনই রাখছেন।
বৈঠক শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী খোলাসা করতে চাইলেন না কিছুই। আপনি কী নির্দেশনা দিয়েছেন-এমন প্রশ্নে জবাব এলো, ‘আমি কোনও নির্দেশ দেই না, গল্প করি।’
মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে ডিসিরা কোনো সমস্যার কথা জানিয়েছেন কি না- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘তা তো বলবো না। তবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে সমুদ্র পার ভেঙে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিরোজপুরের ডিসি। বলেছেন, ওই এলাকার বাঁধটা নির্মাণ করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী এই তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘পিরোজপুর অঞ্চলের নদ-নদীতে সামুদ্রিক লোনা পানি চলে আসছে বলেও জানিয়েছেন ডিসি। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এটার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যাগুলো একটি অঞ্চলের হলেও যখন একজন ডিসি কথা বলেন তখন বুঝতে হবে এটি পুরো বাংলাদেশে সমস্যা।’
পাহাড় ধস রোধ ও বন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সহায়তা চেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, পাহাড় কাটা, বনের জমি লিজ নেয়া, বনভূমির অবৈধ দখল, নদী দখল, নদী দূষণ নিয়ে ডিসিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা কিভাবে এগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অবৈধভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ না করলে পাহাড় ধস ঠেকানো সম্ভব নয় জানিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী বলেন, পাহাড় কাটা বন্ধ ও পরিবেশ দূষণ রোধে কি করা যায় যে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
 রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের পাঁচ হাজার একর বনভূমি নষ্ট হওয়ায় পাহাড়ের অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা রয়েছেন। সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার একরের বন নষ্ট হয়েছে। পাহাড় ধসে মানুষ নিহত হওয়ার কারণ দুটি। গাছ কাটা এবং অবৈধ স্থাপনা। কক্সবাজারের অবস্থা আসলে সংকটাপন্ন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ