ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে নৌকা বিজয়ের গুঞ্জন

কক্সবাজার সংবাদদাতা: কক্সবাজারে গতকাল পৌরসভা নির্বাচন’১৮ সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে একাধিক গোলযোগের ঘটনা ঘটলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গত তিনদিন ধরে গোটা জেলায় বৃষ্টি। বুধবারও সেই বৃষ্টি অব্যাহত ছিলো। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়ে নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজার পৌরসভাসহ গোটা জেলা। পানিবন্দী এমন পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা মার্কার বিজয়ের গুঞ্জনই যেনো শোনা যাচ্ছে সর্বত্র। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানই অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত করা গেছে।   
দিনভর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সকাল ৮টা থেকে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে যায় বিকাল ৪টা পর্যন্ত। কিছু ভোটাররা ভোট দিতে পারলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে কেন্দ্রের কাছাকাছি গিয়ে নির্দিষ্ট সীমানার ভেতরে ঢুকতে না পারায়; প্রয়োগ করতে পারেনি অসংখ্য নারী-পুরুষ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার। কেন্দ্রে কেন্দ্রে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের একতরফা আধিপত্যের কারণে নৌকা মার্কার এজেন্ট ছাড়া বাকি ৪মার্কার মেয়র প্রার্থীদের এজেন্টরা কেন্দ্র ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় বেলা ১২টার আগে। ফলে ইচ্ছামাফিক জাল ভোট প্রয়োগের সুবিধা লুটে নৌকা মার্কার এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর অনুসারিরা। নিয়মানুযায়ি বিকাল ৪টায় ভোট গ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে শুরু হয় গণনার পালা। এরআগে দফায় দফায় নির্বাচন প্রহসনের হয়েছে দাবি করে ভোট বর্জন করে ধানের শীষ মার্কার মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, নাগরিক কমিটির ব্যানারে নারিকেল গাছ মার্কার (সতন্ত্র) মেয়র প্রার্থী জামায়াত নেতা বর্তমান মেয়র সরওয়ার কামাল, লাঙ্গল মার্কার মেয়র প্রার্থী জাতীয় পার্টি নেতা রুহুল আমিন সিকদার ও হাতপাকা মার্কার মেয়র প্রার্থী ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতা মাওলানা জাহেদুর রহমান। কক্সবাজার পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৮৩হাজার ৭শ’ ২৮জন। ওয়ার্ড রয়েছে ১২টি। এ নির্বাচনে মোট কেন্দ্র রয়েছে ৩৯টি।      
সরওয়ার কামালের প্রত্যাখান ও পুনঃ নির্বাচন দাবি
বুধবার বেলা ২টায় নিজ বাসভবনে কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে নাগরিক কমিটি মনোনিত মেয়র পদপ্রার্থী সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল এক সংবাদ সম্মেলনে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা ও অসুবিধার অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেন। অভিযোগে আ’লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কর্তৃক সবকটি কেন্দ্রে দলীয় লোকজন দিয়ে প্রভাবিত করে কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান, এজেন্ট বের করে দেয়া এবং সিলমারা ব্যালট জোরপূর্বক বাক্সে ভর্তির প্রতিবাদে নির্বাচন প্রত্যাখানের ঘোষণা দেন এবং অবিলম্বে পুনঃরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, এবিসিঘোনা কেন্দ্রের জনৈক প্রিসাইডিং অফিসার নিজেকে আ’লীগের কর্মী দাবি করেছে। তিনি আরো বলেন, আমার সংবাদ সম্মেলন চলাকালে অন্তত দশটি কেন্দ্রে ভোট ডাকাতির খবর আমার কাছে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভোট দেয়ার জন্য ব্যালট পেপার পায়নি ভোটাররা। তিনি বলেন, কক্সবাজারের ইতিহাসে আজকের পৌর নির্বাচন একটি নতুন কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। অতীতে এহেন নির্লজ্জ নির্বাচন কক্সবাজারবাসী প্রত্যক্ষ করেনি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রহসনমূলক নির্বাচনের আয়োজন করেছে; যা দেখে পৌরবাসী বিস্ময়ে হতবাক হয়ে পড়েছে এবং ৫ জন মেয়রপ্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া ৪জন প্রার্থীই নির্বাচন প্রত্যাখান করেছেন। আমরা নির্বাচনের পূর্বে বারবার যা আশংকা করেছিলাম পৌরবাসী আজ তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে যারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন আমার নির্বাচনের জন্য কাজ করেছেন কষ্ট করেছেন আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কমিটির আহবায়ক গোলাম কিবরিয়া, সাবেক কক্্সু ভিপি ছৈয়দ করিম প্রমুখ।
অভিযোগ সত্য নয় দাবি আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মুজিবুর রহমানের
অন্যদিকে অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেছেন, ভোটগ্রহণে আওয়ামী লীগ কোনো অনিয়ম করেনি। প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতর থেকে সুষ্ঠুভাবে ভোট নেয়া হচ্ছে। এতে নৌকা প্রতীকের লোকজন কোনো প্রভাব বিস্তার করে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে না। নাগরিক কমিটির মনোনিত প্রার্থী, বর্তমান মেয়র সরওয়ার কামাল ও বিএনপির মনোনিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম সকাল থেকে থেকে অভিযোগ করে আসছেন- অনেক কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালেট কেড়ে নিয়ে নৌকায় সীল মারা হচ্ছে এবং ব্যালেট ডাকাতি করে আওয়ামী লীগের লোকজন নৌকায় সীল মারছেন। মুজিবুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোট ডাকাতির অভিযোগের জবাবে বলেন, ‘ভোটারদের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা আছে। সুষ্ঠু ভোটেই আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো। ফলে আমার কোনো ব্যালেট ডাকাতির প্রয়োজন নেই। আমি সব কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে দেখছি কোথাও এখনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি। আমরা শেষ সময় পর্যন্ত সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করে যাবো।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ