ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

১২৩ কেন্দ্রের মধ্যে ১১২ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ॥ ৫০টি ‘অধিক ঝুঁকি’

বরিশাল অফিস : এবারে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে ১২৩টি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন দুই লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ ভোটার। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে এরই ম্যধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হিসেব-নিকেশ করে প্রশাসন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ফেলেছে কেন্দ্রগুলোকে। তাদের মতে ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১২টি গুরু ত্বপূর্ণ। এর মধ্যে ৫০টি ভোট কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ৬২টি শুধু গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। বাকি মাত্র ১১টি কেন্দ্র ঝুকিমুক্ত সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি) নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, সাধারণ কেন্দ্রের থেকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দুইজন করে আনসার সদস্য বেশি থাকবেন। সে হিসেবে ওই কেন্দ্রগুলোতে ২৪ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ভোট কেন্দ্রের শান্তি বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করবেন। একজন এসআই, একজন এএসআই, পাঁচজন পুলিশ সদস্য, একজন পিসি, একজন এপিসি ও তিনজন আনসার থাকবেন প্রতিটি কেন্দ্রে। যারা সবাই অস্ত্রধারী। পাশাপাশি সাতজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী আসনার সদস্য লাঠি হাতে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, এসব কেন্দ্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
আর মাত্র পাঁচদিন পরেই অর্থাৎ ৩০ জুলাই বিসিসি নির্বাচন। মোট কেন্দ্রের মধ্যে চারটি ওয়ার্ডের ১১টি কেন্দ্রে ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে।

লেভেল প্লেইং ফিল্ডের
অভাব রয়েছে -সরোয়ার
বরিশাল অফিস : বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের মনোনীত ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরওয়ার বলেছেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ডের অভাব রয়েছে। বিরোধী দলের কথামতো কিছুই হচ্ছে না। প্রশাসনের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশের বদলির বিষয়ে আমাদের কোনো উত্তর নেই। লেভেল প্লেইং ফিল্ড নেই, সেখানে কে গেলো কে আসলো সেটা বিষয় নয়।
গতকাল বুধবার (২৫ জুলাই) বেলা ১২টায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বসিক নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী। সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোট হতে হলে নির্বাচনের আগে কঠিন আইন-কানুন হতে হবে। যাতে বহিরাগতরা না আসতে পারে, ভোট কারচুপি না হয়।
তিনি আরো বলেন, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে, বিভিন্ন বাসায় পুলিশ যাচ্ছে। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সহ-সম্পাদক জসিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদল নেতা কবিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৪ নং ওয়ার্ডে একজন আইনজীবীসহ ৪ জন জামায়াতের কর্মীর উপর বিনা করণে সরকার দলের সমর্থকরা হামলা করে গুরুত্বর আহত করেছে। জামায়াতের সেক্রেটারিসহ নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মোট কথা হচ্ছে গাজীপুর, খুলনায় যে আতঙ্ক ছিলো তা দূর করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন বলেছিলো এখানে গাজীপুর, খুলনার মতো হবে না। কিন্তু আমরা দেখছি নির্বাচনের শঙ্কা দূর করা তো দূরের কথা গ্রেফতার করে তা আরো বাড়ানো হচ্ছে।
সরওয়ার বলেন, ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া রয়েছে। বরিশাল থেকে আমি বার বার নির্বাচিত, কাজেই এখানকার মানুষের কাছে আমি পরিচিত। আমার উন্নয়ন আছে, আমার রাজনীতি আছে এখানকার মানুষের মধ্যে। এখানকার জনগণের সঙ্গে মিলেমিশেই আমি বড় হয়েছি। বরিশালের ভোটাররা ইনশাল্লাহ আমাকে বিমুখ করবে না।
তিনি আরো বলেন, বিগত সময়ে যখন আমি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হয়েছিলাম, তখন কাউকে আমি কর্পোরেশনের এক ইঞ্চি জায়গাও লিজ দেইনি। বিভিন্ন বিভাগ থেকে জায়গা লিজ নিয়ে আমি ১১টি মার্কেট নির্মাণ শুরু করেছিলাম। যা থেকে ট্যাক্স আদায় হয়ে কর্পোরেশনের কর্মচারীদের বেতন হবে। আমার ভবিষ্যতের চিন্তাভাবনা থাকবে একটি আত্মনির্ভরশীল সিটি কর্পোরেশন গড়ার।
গণসংযোগের সময় তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রার্থীসহ নেতা-কর্মীরা ধানের শীষ মার্কায় ভোট চান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ