ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী থেকে গ্রেফতার বিএনপি কর্মীদের নাটোরে এনে চালান দেয়ার অভিযোগ

নাটোর সংবাদদাতা: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর ১১কর্মীকে রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করে এনে নাটোরের অন্তত তিনটি পুরাতন মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী করে জেল হাজতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার নাটোর সদর আমলী আদালত তাদের দুজনের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন এবং বাঁকিদের জামিনের ব্যাপারে আজ বৃহষ্পতিবার শুনানী অনুষ্ঠিত হবে। 
নাটোর সদর থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার নাটোর থানার গত বছরের আগষ্ট মাসের ৫৫ নম্বর মামলার সন্দিগ্ধ আসামী হিসাবে রাজশাহী মহানগরের মেহের চন্ডী এলাকার মৃত ছমির শেখের ছেলে সাবদুল আলী ওরফে সাবদুল (৪৯) ও ডাশমারী এলাকার আবু তাহেরের ছেলে টিপু সুলতান (৫৩) কে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে নাটোর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইভাবে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের ৩৪নম্বর মামলায় রাজশাহী মহানগরীর বুধপাড়া এলাকার মাহিরুদ্দীনের ছেলে মামুনুর রশিদ (৩৮) ও মেহেরচন্ডি এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০) কে এবং মার্চ মাসের নাটোর থানার ৫নম্বর মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী হিসাবে  মেহেরচন্ডির আবু তালেবের ছেলে সোলায়মান আলী (৪৮) ও নামোভদ্রা এলাকার  ফজলুল হকের ছেলে মফিজুল ইসলাম (৪০) কে আদালতের মাধ্যমে নাটোর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার দুপুরেও রাজশাহী মহানগরীর আল আমিন (৩৯) আকরাম হোসেন (২৯) সজল হোসেন (২২) আবুল কাশেম (৪০) ও তহিদুল ইসলাম (৪৭) কে আগের তিনটি মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী হিসাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নাটোর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সবাই নাটোর কারাগারে আটক আছেন।
মামলার এজাহার অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিটি মামলার বাদী পুলিশ কর্মকর্তারা। প্রতিটি মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতা সৃষ্টি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষে গোপনে মিলিত হয়ে বৈঠক করার অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাত আরও আসামী আছে বলে উল্লেখ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ‘অজ্ঞাত’ তালিকার সন্দিগ্ধ আসামী হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ কবে, কখন ও কোথা থেকে তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করেছে তা তাঁদের চালান পত্রে উল্লেখ করেনি।
আসামীদের আইনজীবী ও নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন তালুকদার টগর বুধবার এসব আসামীর জামিন শুনানীকালে আদালতের কাছে অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামীরা সবাই বিএনপি কর্মী এবং রাজশাহী সিটি  কর্পোরেশন নির্বাচনের বিএনপি সমর্থিত ভোটার। তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় সেখানকার বিএনপি সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদেরকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার কৌশল হিসাবে সোমবার রাতে গণ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদেরকে পর্যায়ক্রমে নাটোর থানায় এনে বিভিন্ন বেওয়ারিশ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আদালত গতকাল দুজনের জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করেন এবং বাঁকিদের আজ বৃহষ্পতিবার শুনানীর দিন ধার্য্য করেন।
নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন তালুকদার টগর গতকাল বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার বিএনপি নেতা কর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে সরানোর নতুন কৌশল হিসাবে পুলিশকে দিয়ে গণ গ্রেপ্তার করাচ্ছে। রাজশাহী সিটি কর্পরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে বেকায়দায় ফেলতে এ কৌশল নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনেও এ সরকার একই কৌশলের আশ্রয় নিবে।
নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী জালাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, নাটোর থানার তিনটি নাশকতার মামলার সন্দিগ্ধ আসামী হিসাবে উল্লেখিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি তাদেরকে রাজশাহী মহানগর থেকে গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে বলেন, মঙ্গলবার ভোরে তাঁদেরকে নাটোর সদর থানার কাফুরিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক সাথে একই জায়গা থেকে সব সন্দিগ্ধ আসামীদের কিভাবে পাওয়া গেলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিভাবে পাওয়া গেলো তা সবাই জানে। আপনারা যেভাবে পারেন লিখে দেন। পরে বুধবার সন্ধ্যার আগে নাটোর সদর থানার কাফুরিয়া এলাকায় গিয়ে অনেকের সাথে কথা বললে কোন মানুষই মঙ্গলবার ভোরে এমন আটকের খবর বলতে পারে নাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ