ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিত্যনতুন পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে খুলনা শিশু হাসপাতাল

খুলনা অফিস : ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত যে কোন শিশুর অস্বাভাবিক বুক ধড়ফড়, খাওয়ার ও খেলার সময় ঘনঘন শ্বাস কষ্ট, নিউমোনিয়া, ওজন কমে যাওয়া বা নীল হয়ে যাওয়াসহ শিশুর যে কোন সমস্যা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার খুলনা শিশু হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একদিনের ফ্রি হার্ট ক্যাম্প। এ ক্যাম্পে সকাল নয়টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চিকিৎসা দেবেন পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট ডা. তাহেরা নাজরিন। খুলনা শিশু হাসপাতালে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ ফ্রি হার্ট ক্যাম্প। এভাবে নিত্যনতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া পদ্মার এপারের বেসরকারি পর্যায়ের এ হাসপাতালটি নতুন করে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। হাসপাতালটির বহি:বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪শ’ থেকে ৬শ’ রোগীর চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি আড়াই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছে।
নগরীর রতন সেন স্মরনিতে অবস্থিত এ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, বেসরকারি পর্যায়ের এ হাসপাতালটিতেই একমাত্র থেলাসেমিয়া রোগীদের জন্য হেমোগ্লোবিন ইলেকটা ফরেসিস করা হয়। যেটি খুলনায় আর কোথাও নেই। সপ্তাহে অন্তত ১০জন রোগীর এ পরীক্ষা হয় বলেও তিনি জানান।
খুলনা শিশু হাসপাতালের সূত্রটি জানায়, এ হাসপাতালটিতে রয়েছে ৫০০ এমএম এর ডিজিটাল এক্সরে মেশিনসহ আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য শিশু বিকাশ কেন্দ্র, নিউনেটাল ওয়ার্ড, এনআইসিইউ বিভাগ, চক্ষু, ইএনটি, দন্ত, কিডনি, পেডিয়াট্রিক সার্জারী বিভাগসহ আধুনিক অপারেশন থিয়েটার। গরীব রোগীদের জন্য পাঁচটি জেনারেল ওয়ার্ডে ফ্রি চিকিৎসারও ব্যবস্থা রয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহের জন্য রয়েছে নিজস্ব ফার্মেসীও। যেটি ইউএএসএইডের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া অক্সিজেন সরবরাহ, আধুনিক স্টোরও রয়েছে ইউএসএইডের অর্থায়নে। বেসরকারি হাসপাতাল হলেও সরকার থেকেও দেয়া হয় বিভিন্ন প্রকার অনুদান। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এম্বুলেন্স দেয়ার পাশাপাশি বছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকার আর্থিক অনুদান দেয়া হয় বলেও হাসপাতালের সূত্রটি জানায়। দূরের রোগীদের জন্য পৃথক বিশ্রামাগার, নিজস্ব ক্যান্টিন ব্যবস্থার ফলে রোগীর ভিজিটরদের জন্য সময় দেয়াও অনেকটা সহজ হচ্ছে।
হাসপাতালটি পরিদর্শনের সময় দেখা গেছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ আধুনিক কনফারেন্স রুমের কাজ এগিয়ে চলছে। আধুনিক ইনকিউবেটর রুম, বেবী ওয়ার্মআপ এবং এলইডি ফটোথেরাপী মেশিনও আসছে শীঘ্রই।
নগরীর জোড়াগেটা এলাকার একজন ব্যবসায়ীর একটি পুত্র সন্তান জন্মের পর গত ১৮ জুলাই এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটি অস্বাভাবিক প্রকৃতির হলেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেকটা সুস্থ বলে এ প্রতিবেদককে শিশুটির চাচী জানিয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের রোগী প্রতি ১০ লাখে হয়ত একজন দেখা যায়। খুলনা শিশু হাসপাতালে এমন রোগী এটিই প্রথম। শিশুটি এখনও স্বাভাবিক না হলেও চিকিৎসকরা আশা করছেন হয়ত দ্রুত সুস্থ হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ