ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিশ্বকাপ ফুটবল এবং বাংলাদেশ!

মোহাম্মদ সুমন বাকী : বিদায় নিয়েছে ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল। বিশ্বকাপ ফুটবল, এটা ক্রীড়ার যে কোনো প্রতিযোগীতায় সবচেয়ে বড় আসর। পাশাপাশি রোমাঞ্চ, উত্তেজনা ছড়াবার ক্ষেত্রে সেরা। তা স্বীকার করবেন সকলে। এবার ইউরোপ মহাদেশের রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বকাপ। দ্বিতীয় বারের মতো শিরোপা জিতে নেয় ফ্রান্স। এই ব্যাপারে পর্যালোচনা করে বলা যায়, এটা ফুটবল বিশ্বে বড় দলের এক তরফা দাপটের মহা আকর্ষণের সমাহার। এর মাঝে রানার্সআপের তালিকায় ক্রোয়েশিয়া নতুন সুপার ডুপার উপহার। যা সুন্দর নৈপূণ্যের ধারায় আবিষ্কার। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে তারা প্রথম পা রাখে। সেটা নয়া টিমের তকমা লাগিয়ে। তা দেশ ভাগ হবার কারণে। তবে তাদের পূর্বের নামটা কিন্তু সবার কাছে খুবই পরিচিত! যা ইতিহাস তুলে ধরতে উল্লেখ করতেই হয়। পরিচিত সেই নামটি হচ্ছে যুগোশ্লাভিয়া। যারা ফুটবল ভুবনের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে শক্তিশালী দল ছিলো। এর ছায়াতলে ক্রোয়েশিয়ার জন্ম। তাইতো পারফরম্যান্সের দাপট তাদের দখলেই নিয়ে নেয়। তারা ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপের ফাটাফাটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ ছড়িয়ে সেমিফাইনাল পর্বে উঠে তাক লাগিয়ে দেয়। তখন ক্রোয়েশিয়া নয়া দল হলেও যুগোশ্লাভিয়ার গাঢ় ইতিহাসের স্মৃতি থাকায় ফুটবলের অভিজ্ঞতাটাও তাদের বৃত্তে ঘুরপাক খায়। সেটা জানা আছে দুনিয়ার কোটি কোটি ক্রীড়া পাগল প্রেমীর। যা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ক্রোয়েশিয়া এবং বিশ্বকাপ সাফল্য একই সূত্রে গাঁথা। নয়া টিম হিসেবে তা ঠিক। আবার ফুটবল ইতিহাসের অভিজ্ঞতার বিচারে সেটা স্বাভাবিক। সবকিছু মিলিয়ে যুগোশ্লাভিয়া বিলীন হবার পর ক্রোয়েশিয়া অনন্য। যা সাফল্য পাবার ছোঁয়াতে। অবশ্যই ঘাসের ময়দানে। সেটা চোখের পাতায় স্মৃতি হয়ে আছে টাটকা আমেজের স্পর্শে। যা গোল বলের সেক্সি উত্তেজনার রব তুলেছে পৃথিবীর চার দিকে। এর ফলে ক্রীড়া ভক্তরা এক কাতারে সামিল হয়েছেন ভালোবাসার বন্ধন সৃষ্টি করে। সেটা যুগ যুগ ধরে। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ফুটবলের আকর্ষণের জোয়ারে গেঁথে রেখে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এমন দৃশ্য বার বার ফুটে উঠেছে। তা বাদ পড়েনি ঘরোয়া আসরে। যা দেখা গেছে বিশ্বের ছায়াতলে। ইটালী, ইংলিশ, স্পেনিশ, আর্জেন্টাইন, কোরিয়া, জাপান, ইন্ডিয়ান হিরো লীগ সে কথা বলে। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের অভিমত কি এই বিষয়ে? গ্যালারির আসনে দর্শকের ঢল নামে। আর কথাই নেই বিশ্বকাপ হলে। এটাতো উত্তেজনার আকর্ষনে মহা উৎসব বটে! সুন্দরী রমনীর পদার্পনে আকর্ষনে ভরা সেই গ্যালারী আলোকিত হয়ে উঠে। তা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে? সেটা যেন গোল বল ভুবনে বাড়তি পাওয়া। এমন ধারাতে ব্রাজিলিয়ানরা এগিয়ে। যা বাস্তবতায় পাওয়া যায় চুল চেরা বিশ্লেষণ করে। ব্রাজিলের সাম্বা গ্যালারির আকর্ষন বাড়িয়ে চলেছে। তা সকলের জানা আছে। অবশ্যই সেটা পেয়েছে ইতিহাসের পাতা নেড়ে চেড়ে। শুধুমাত্র ফুটবলকে ভালোবেসে। লাল-সবুজ পতাকা দেশ পিছিয়ে নেই এই ক্ষেত্রে। যা বার বার ভেসে উঠে দর্শক জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে। আসছে আসছে বিশ্বকাপ আসছে। এ বলে চারদিকে রব উঠে। সে দৃশ্যতো কয়েকদিন আগে সবাই দেখেছেন। আপনারা কি বলেন? এখন তা হয়ে গেছে অতীত! দর্শকের উৎসব মঞ্চ এবং প্লেয়ারদের পারফরম্যান্স কিন্তু ভিন্ন বিষয়। যা অপ্রিয় হলেও উল্লেখ করতে হয়। সেটা বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নের স্বার্থে। তা কি ভাবে? এমন প্রশ্ন মনের মাঝে বার বার জাগে! কোনো প্রকার উত্তর নেই সাদা পৃষ্ঠা ভেসে উঠাতে!! শুধুমাত্র দেশের গোল বলের উন্নয়নের পথে স্থায়ী পরিকল্পনা মুখের ভাষ্যে গেঁথে রয়েছে!!! এ অবস্থায় আবারও প্রশ্ন উঁকি দেয়, ক্রীড়াটি আগের মতো আলোর ধারায় ফিরবে? নাকি বিশ্বকাপ প্রাক বাছাইয়ে সব প্রচেষ্টা শেষ হয়ে যাবে। বিশ্বকাপ চূড়ান্ত পর্ব এবং বাংলাদেশ! এর মানে কি! সোজা উত্তর আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের অভিমত কি? ফিফা টুইট করে বাংলাদেশের ফুটবলে জনপ্রিয়তা বজায় থাকার কারণে। যা গর্ব করার মতো বিষয়। সেটা পজেটিভ সাইড। তা বলা বাহুল্য। এর পাশাপাশি যদি লাল-সবুজ পতাকা দলের নৈপূণ্য প্রসঙ্গে আলোচনা হতো! তখন ব্যাপারটি কেমন লাগতো!! নিশ্চয় ভালো। সুপার ডুপার ও ফ্লপ, এ দু’য়ের মাঝে নৈপূণ্যের বিচরণ ঘটে। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে বাংলাদেশ ন্যাশনাল টিম এক তরফা দাপট দেখাতে পারেনি কখনো। যা সবারই বোধগম্য। পারফর্ম সো করার ক্ষেত্রে ফ্লপ ধারাটা বজায় থাকে ঘুরে ফিরে। মাঝে মধ্যে ভালো খেলেছে। সেটা সালাহউদ্দিন, চুন্নু, এমিলি, সালাম, মোর্শেদী, আসলাম, কায়সার হামিদ, মুন্না, জাকির, আলফাজ, আরমান, সেন্টুদের যুগে। তা ময়দানের যুদ্ধে পরিলক্ষিত হয়েছে। সে সময় বাংলাদেশের আলোচনা ছিলো অন্যরকম! শুধু ঘরের নয়, বিদেশী মিডিয়াও সরগরম থাকতো। বাছাই পর্বে লাল-সবুজ পাতাকা টিমের প্রতিপক্ষ টিম ছিলো দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সৌদী আরব, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, কুয়েত। তাই এই দেশের ক্রীড়া প্রেমীদের চোখ পড়ে থাকতো গোল বলের দিকে। সেটা গত শতাব্দীর সত্তর, আশি এবং নব্বই দশকের কথা। শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে হেরে যেতো ঠিকই, তবে পারফরম্যান্স ছিলো উল্লেখ করার মতো। এর ফলে বাংলাদেশ আলোকিত হতো। এমন পারফর্মে ছন্দপতন ঘটে বিংশ শতাব্দীতে। এখন পর্যন্ত যা বজায় রয়েছে। এতে করে দেশের ফুটবল জৌলুস হারিয়েছে। ফিরে পায়নি সেটা। তা শতভাগ সত্য কথা। বর্তমানে লাল-সবুজ পাতাকা জার্সীধারীরা বাছাই পর্বে অংশ নিচ্ছে কাদের সঙ্গে! যা ভাবা উচিত। তা কেন? সে জন্য কী নৈপূণ্যে এমন পতন! এই প্রসঙ্গে ফুটবল প্রেমী ও সংগীত শিল্পী পৌষী বলেছেন, দেশে ক্রীড়াটির উন্নয়নে পরিকল্পনা নেই। তা থাকলে কক্সবাজার জেলায় এ খেলা আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হতো। সেটা ক্রিকেটের ন্যায়। এখানে নদী সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা ক্রীড়ার বিচরনে কাজ করে চলেছে। অপ্রিয় হলেও সত্য ক্রিকেটের প্রাধান্য বেশি সেখানে!
যা বজায় আছে সাফল্যের কারণে। তার সঙ্গে একই সুরে কথা বলেছেন উশু একাডেমীর কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন। জি এম আরাফাত সাবেক ফুটবলার। সেই আশির দশকে ঢাকা মহানগরী কিশোরলীগে যার সূচনা ঘটে। যিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। আরফাতের মতে, বিশ্বকাপ এবং বাংলাদেশ মানে অলৌকিক স্বপ্ন! যা ঘটে গেলে খোদার অশেষ কৃপা বলে মনে করবো আমি। সে জন্য বাফুফের উচিত তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়াড়দের শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা। সেটা শৃংখলা বজায় রাখবে। ক্ষুদে দর্শক শাকিল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ নেই, আর্জেন্টিনাতো আছে! অবাক করা ভাষ্য!! বাফুফের কর্মকর্তারা কি বলবেন?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ