ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুমেক হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স সঙ্কট : ভোগান্তি চরমে

খুলনা অফিস: খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স সঙ্কটে রোগী আনা-নেয়ায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সরকারি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বেসরকারিভাবে এই সুবিধা নিতে গিয়ে রোগীর স্বজনদের বাড়তি অর্থ গুণতে হয়। হাসপাতালে গাড়ি সংরক্ষণের কোনো জায়গা না থাকায় অব্যবহৃত নষ্ট গাড়িগুলো মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জানা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে ঢাকায় যেতে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে ৮ হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়। সেক্ষেত্রে বাইরের এ্যাম্বুলেন্সে ব্যয় হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এছাড়া শহরের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৩শ’ টাকা। আর বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্সের জন্য ব্যয় হয় ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকা।
ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন মো. হাবিবুর রহমান জানান, কিছুদিন আগে সরকারি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে বাগেরহাটে গিয়েছি ১২শ’ টাকায়। কিন্তু এখন বাইরে থেকে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে হয় দুই হাজার টাকায়। তিনি বলেন, খুলনায় হাসপাতালে রোগী আনা-নেয়ায় স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সরকারি এ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকায় বাইরের এ্যাম্বুলেন্স নিতে হয়। সেক্ষেত্রে ওই সব এ্যাম্বুলেন্সের মান নিয়েও প্রশ্ন আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫শ’ শয্যার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের পদ রয়েছে ৬টি। কিন্তু সেখানে ড্রাইভার রয়েছে মাত্র দুইজন। এর মধ্যে একজন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আর রোগী আনা-নেয়ার জন্য কমপক্ষে ৪টি এ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলেও এখানে চালু রয়েছে মাত্র একটি।
হাসপাতাল চালুর পর থেকে ১৪/১৫ বছরের মধ্যে নষ্ট হয়েছে ৯টি এ্যাম্বুলেন্স। সর্বশেষ দুইটি গাড়ির মধ্যে একটি নষ্ট হয়েছে ২০১৩ সালে। বর্তমানে একটি মাত্র গাড়ির ওপর ভরসা করে চলছে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ এই সরকারি হাসপাতাল। এদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের গাড়িটিও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ ব্যবহৃত এই গাড়িটি প্রায়ই নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। সেসময় তত্ত্বাবধায়ককে রিক্সাভ্যানে করে হাসপাতালে যাতায়াত করতে হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকদের ব্যবহারের জন্যও আলাদা কোনো গাড়ি নেই।
এ্যাম্বুলেন্সের চালক মো. হায়াত আলী জানান, হাসপাতালে গাড়ি সংরক্ষণের কোনো জায়গা না থাকায় অব্যবহৃত নষ্ট গাড়িগুলো মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে দুইটি এ্যাম্বুলেন্স ও একটি গাড়ি রাখার সেড তৈরি করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ঢাকায় জানানো হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ