ঢাকা, বৃহস্পতিবার 26 July 2018,১১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১২ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত খামারিরা

শাহজচাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ষাঁড় গরু

এম,এ,জাফর লিটন,শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে: আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সহ¯্রাধিক ক্ষুদ্র খামারি গরু মোটাতাজাকরণে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। পর পর তিন বছর লোকসান গুনে গতবছর ভাল দাম পেয়েছিলেন খামারীরা। ভারত থেকে গরু না আসায় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকার কারণে এ বছর গরুতে ভাল লাভ হবে এমনটি আশা করছেন গরুর খামারিরা। উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের তালগাছি গ্রামের আব্দুল মতিন এ বছরে ৫টি দেশী ও নেপালী গরু পালন করছেন। তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ কোরবানির ঈদে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য পালন করেন। তিনি জানান গরু পালা তার নেশা। গত কয়েক বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভারত থেকে চোরাই পথে গরু আসার কারণে ভাল দামে গরু বিক্রি হয়নি। তিনি আরো জানান, খৈল, ভুষি, ভুট্রা ও খড়-কুড়ার দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পরও তিনি প্রায় ১ যুগ ধরে গরু মোটাতাজাকরণ করে আসছেন। পরিবারে স্ত্রীও তাকে গরু পালনে সহায়তা করেন। হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের বাজিয়ারপাড়া গ্রামের হোসেন আলী এ বছর ৭টি দেশী ও শংকর জাতের ষাঁড় গরু মোটাতাজাকরণের জন্য পালন করছেন। তিনি জানান, ৭টি গরু প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন। বাজার ভাল হলে তিনি ৩০/৩৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরো জানান, প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু পালন করে তিনি আজ স্বাবলম্বি। তার কাছ থেকে অনেকেই ষাড় গরু পালনের বিষয়ে পরামর্শ নিতে আসেন। শাহজাদপুরে সরকারীভাবে বড় ধরনের কোন খামার বা গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প না থাকলেও গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষগুলো বাড়তি লাভের আশায় কোরবানির ঈদের ৬ মাস আগে থেকেই গরু মোটাতাজা শুরু করেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস ছামাদ জানান, শাহজাদপুর উপজেলায় ৩ হাজার ৬০৫ টি ডেইরী ফার্ম রয়েছে । এছাড়া এ অঞ্চলে মৌসুমি খামারও রয়েছে। এ সব খামারে গরু মোটাতাজা করা হয়ে থাকে। এসব মৌসুমি খামারে ও কৃষকের বাড়ীতে ২/৪ টি করে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রায় ২৪ হাজার ষাড় গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। উপজেলার ৯ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত ১৫ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন স্থানের চাহিদা পুরন করবে বলে তিনি জানান। তবে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ হাজার বেশী ষাড় গরু পালন করা হয়েছে। উপজেলার তালগাছি, গাড়াদহ, চরনবিপুর, টেপড়ি, কায়েমপুর, ব্রজবালা, সোনাতনী, ধীতপুর, বানতিয়ারচর, পোতাজিয়া, রেশমবাড়ী, চৌচির, বাড়াবিল, দাবাড়িয়া, দাড়িয়াপুর,পোরজনা, কৈজুরি, পাতালিয়াপাড়া, উল্টাডাব, জামিরতা, বাঘাবাড়ী, চরাচিথুলিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে বেশ কিছু মাঝারি খামার চোখে পড়ে। কথা হয় উপজেলার তালগাছি গ্রামের মাঝারী খামারি নুরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, তাদের গ্রামে প্রায় ৫০টি পরিবার ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেশী, ক্রসবিড, নেপালীসহ বিভিন্ন জাতের গরু মোটাতাজাকরণের জন্য পালন করছে। তিনি নিজেও পালন করছেন ১৫টি গরু। তার খামারে নেপালী, ক্রসবিড ও দেশী গরু রয়েছে। এ বছর বাজার ভাল হলে ১৫টি গরু প্রায় ৮০ লাখ টাকা বিক্রি করা হবে বলে নুরুল ইসলাম ও তার পিতা আলহাজ নাছির উদ্দিন আশা প্রকাশ করেন। তবে গরু মোটাতাজাকরনে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের ডাক্তার, স্বেচ্ছাসেবীদের পরামর্শ অনুযায়ী শুধু সুষম খাদ্য ও ভিটামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করান বলে উক্ত খামারিরা জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ