ঢাকা, শুক্রবার 27 July 2018,১২ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হুমায়ূন আহমেদ এর আধুনিক কবিতা মানস

এ কে আজাদ : শিক্ষক হুমায়ূন আহমেদ (১৪ নভেম্বর ১৯৪৮- ১৯ জুলাই, ২০১২) প্রথমতঃ একজন ঔপন্যাসিক। তবে  সেই সাথে ছোট গল্পকার, নাট্যকার, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তা গগণচুম্বী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা উত্তরকালে তাঁকেই সবচেয়ে জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হিসেবে গণ্য করা হয়। শুধু তাই নয় একবিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে, শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় সাহিত্যিকদের তালিকায় নির্দ্বিধায় উঠে আসে তাঁর নাম। ১৯৭২ সাণে  প্রথম উপন্যাস “নন্দিত নরকে” প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা কথা সাহিত্যের আকাশে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবই আবিষ্কৃত হন তিনি।  এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। তাঁর মৃত্যু অবধি বাংলাদেশের একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বি  কথাসাহিত্যিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন তিনি।  তাঁর জীবদ্দশাতেই বাংলা একাডেমি পুরষ্কার, একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারসহ অসংখ্য  পুরষ্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন এই প্রথিতযশা সাহিত্যিক। 

যাহোক,  কথা সাহিত্যের বিশাল বাগানের মাঝে  দুএকটি কবিতার ফুলও ফুটিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। লিখেছেন বেশ কিছু গীতি কবিতা। “উড়াল পঙ্খী রে যা যা তুই উড়াল দিয়া যা, আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা চালা ভাঙা বেড়ার ফাঁকে,  মরিলে কান্দিস না আমার দায়, চাঁদনী পসর রাইতে যেন আমার মরণ হয়,  যদি মন কাঁদে- প্রভৃতি তাঁর লেখা জনপ্রিয় গান। গান মূলতঃ গীতিকবিতা। যে কবিতাকে সুর ও যন্ত্র সহযোগে কণ্ঠে গাওয়া হয় তাই হলো গান। এগুলোকে হুমায়ূন আহমেদের কাব্য শক্তির পরিচায়ক বলা যায় নিঃসন্দেহে। তাছাড়াও হাতে গোণা কয়েকটি আধুনিক কবিতাও প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে। কথা সাহিত্যের ঝলকানিতে তাঁর অপ্রকাশিত কোন কবিতা বা কাব্যগ্রন্থ আছে কি না  সে প্রশ্ন রয়ে গেছে অগোচরে। থাকুক। তবে প্রকাশিত কয়েকটি কবিতাই বহমান প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য। 

মানব জীবনে আলো অন্ধকারের খেলা। অন্ধকার এসে কখনো জীবনকে অতীষ্ঠ করে তোলে। তাই বলে হাতাশায় থেমে যায় না আশাবাদী মানুষ। মনের মুকুরে সাজিয়ে আশার পুতুল। অন্ধকার যত গাঢ় হয়, সূর্যোদয়ও তত কাছে আসে। তাই তো হুমায়ূন আহমদে লিখেছেন- 

 

একটা ঝকঝকে রঙিন কাচপোকা

হাঁটতে হাঁটতে এক ঝলক রোদের মধ্যে পড়ে গেল।

ঝিকমিকিয়ে উঠল তার নকশাকাটা লাল নীল সবুজ শরীর।

বিরক্ত হয়ে বলল,রোদ কেন?

আমি চাই অন্ধকার।চির অন্ধকার

আমার ষোলটা পায়ে একটা ভারি শরীর বয়ে নিয়ে যাচ্ছি-

অন্ধকার দেখব বলে।

আমি চাই অন্ধকার। চির অন্ধকার

একটা সময়ে এসে রোদ নিভে গেল

বাদুড়ে ডানায় ভর করে নামল আঁধার।

কি গাঢ়, পিচ্ছিল থকথকে অন্ধকার !

কাচপোকার ষোলটা ক্লান্ত পা বার বার

সেই পিচ্ছিল আঠালো অন্ধকারে ডেবে যাচ্ছিল।

তার খুব কষ্ট হচ্ছিল হাঁটতে

তবু সে হাঁটছে-

তাকে যেতে হবে আরও গভীর অন্ধকারে।

যে অন্ধকার-আলোর জন্মদাত্রী। [কাচপোকা]

 

স্বপ্ন নিয়েই জেগে থাকে মানুষ। স্বপ্ন নিয়েই বেড়ে ওঠে। যুবক বয়স থেকে একদিন বৃদ্ধ হয়। পরিণত মানুষকে কবি হুমায়ূন আহমেদ তুলনা করেছেন বৃক্ষের সাথে। একটা বৃক্ষ যত বড় হয়, মানুষের প্রত্যাশাও বৃক্ষের কাছে তত বাড়ে। মানুষ গাছের পাতা থেকে শুরু করে ডালপালা সবই ব্যবহার করে। এমনকি এক সময় গাছ কেটেও মানুষ তার প্রয়োজন মেটায়।  একদিন ফুরিয়ে যায় বৃক্ষ কিন্তু  বেঁচে থাকে রঙিন পৃথিবী। 

“তিনি” কবিতায় হুমায়ূন লিখছেন- 

 

এক জরাগ্রস্থ বৃদ্ধ ছিলেন নিজ মনে

আপন ভুবনে।

জরার কারণে তিনি পুরোপুরি বৃক্ষ এক।

বাতাসে বৃক্ষের পাতা কাঁপে

তাঁর কাঁপে হাতের আঙ্গুল।

বৃদ্ধের সহযাত্রী জবুথবু-

পা নেই,শুধু পায়ের স্মৃতি পড়ে আছে।

সেই স্মৃতি ঢাকা থাকে খয়েরি চাদরে।

জরাগ্রস্থ বৃদ্ধ ভাবে চাদরের রঙটা নীল হলে ভাল ছিল।

স্মৃতির রং সব সময় নীল।

 

এই জীবন বড় বিচত্র রকমের। এখানে কেউ কাঁদে,  কেউ হাসে। কারও ঘরে আনন্দের উৎসব, কারও ঘরে কান্নার রোল। কেউ নিজেকে বিলীন করে অন্যের সুখের জন্য কাজ করে। আবারও কেউ মোমের মত নিজেকে পুড়িয়ে আলোকিত করে অপরকে। হাসি কান্নার এই জীবনের প্রতিচ্ছবি যেন হুমায়ূনের “অশ্রু” কবিতায়- 

 

আমার বন্ধুর বিয়ে

উপহার বগলে নিয়ে

আমি আর আতাহার,

মৌচাক মোড়ে এসে বাস থেকে নামলাম

দু’সেকেন্ড থামলাম।।

টিপটিপ ঝিপঝিপ

বৃষ্টি কি পড়ছে?

আকাশের অশ্রু ফোঁটা ফোঁটা ঝরছে?

 

আমি আর আতাহার

বলুন কি করি আর?

উপহার বগলে নিয়ে আকাশের অশ্রু

সারা গায়ে মাখলাম।।

হি হি করে হাসলাম।

 

আধুনিক নগর জীবনের ঘাত প্রতিঘাত, মেধার অবমূল্যায়ন, অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং একে অপরের প্রতি হিংসা বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাবের প্রকাশ যেন “রাশান রোলেট” কবিতা। 

 

টেবিলের চারপাশে আমরা ছ’জন

চারজন চারদিকে ; দু’জন কোনাকুনি

দাবার বোড়ের মত

খেলা শুরু হলেই একজন আরেকজনকে খেয়ে ফেলতে উদ্যত।

আমরা চারজন শান্ত, শুধু দু'জন নিঃশ্বাস বন্ধ করে বসে আছে।

তাদের স্নায়ু টানটান।

বেড়ালের নখের মত তাদের হৃদয় থেকে

বেরিয়ে আসবে তীক্ষ্ম নখ।

খেলা শুরু হতে দেরি হচ্ছে,

আম্পায়ার এখনো আসেনি।

খেলার সরঞ্জাম একটা ধবধবে সাদা পাতা

আর একটা কলম।

কলমটা মিউজিক্যাল পিলো হাতে হাতে ঘুরবে

আমরা চারজন চারটা পদ লিখবো।

শুধু যে দু'জন নখ বের করে কোনাকুনি বসে আছে

তারা কিছু লিখবে না।

তারা তাদের নখ ধারালো করবে

লেখার মত সময় তাদের কোথায় ?

প্রথম কলম পেয়েছি আমি,

আম্পায়ার এসে গেছেন।

পিস্তল আকাশের দিকে তাক করে তিনি বললেন,

এ এক ভয়ংকর খেলা,

কবিতার রাশান রোলেট -

যিনি সবচে ভালো পদ লিখবেন

তাকে তৎক্ষণাৎ মেরে ফেলা হবে।

আমার হাতে কলম কম্পমান

সবচে সুন্দর পদ এসে গেছে আমার মুঠোয়।

 

 

জ্যোৎস্নাকে বড় ভালবাসতেন কবি হুমায়ূন । জ্যোৎস্নারপ্রতি তাঁর এই গভীর অনুরাগই যেন তাঁর কাব্য প্রীতির পরিচায়ক। তিনি লিখেছেন - “আমার ভাঙা ঘরে ভাঙা চালা ভাঙা বেড়ার ফাঁকে/ অবাক জ্যোৎস্না ঢুইকা পড়ে হাত বাড়াইয়া ডাকে।”

তিনি আরও লিখেছেন- ও কারিগর, দয়ার সাগর,  ওগো দয়াময়, চাঁদনী পসর রাইতে যেন  আমার মরণ হয়। “শেষ ইচ্ছাটাও যেন চাঁদের জ্যোৎস্নারই কাছে। প্রতিটি মানুষের ভেতরেই একটা বৈরাগী মন বাস করে। সে মনের চাওয়া এই অন্ধকার জীবনের ঘর সংসার ছেড়ে কেবলই পালানো। কিন্তু তার জন্য চাই পূর্ণিমার জ্যোৎস্না। 

“গৃহত্যাগী জ্যোৎস্না” কবিতায় হুমায়ূন লিখছেন-:

 

প্রতি পূর্নিমার মধ্যরাতে একবার আকাশের দিকে তাকাই

গৃহত্যাগী হবার মত জ্যোৎস্না কি উঠেছে ?

বালিকা ভুলানো জ্যোৎস্না নয়।

যে জ্যোৎস্নায় বালিকারা ছাদের রেলিং ধরে ছুটাছুটি করতে করতে বলবে-

ও মাগো, কি সুন্দর চাঁদ !

নবদম্পতির জ্যোৎস্নাও নয়।

যে জ্যোৎস্না দেখে স্বামী গাঢ় স্বরে স্ত্রীকে বলবেন-

দেখ দেখ নীতু চাঁদটা তোমার মুখের মতই সুন্দর !

কাজলা দিদির স্যাঁতস্যাতে জ্যোৎস্না নয়।

যে জ্যোৎস্না বাসি স্মৃতিপূর্ন ডাস্টবিন উল্টে দেয় আকাশে।

কবির জ্যোৎস্না নয়। যে জ্যোৎস্না দেখে কবি বলবেন-

কি আশ্চর্য রূপার থালার মত চাঁদ !

আমি সিদ্ধার্থের মত গৃহত্যাগী জ্যোৎস্নার জন্য বসে আছি।

যে জ্যোৎস্না দেখামাত্র গৃহের সমস্ত দরজা খুলে যাবে-

ঘরের ভেতরে ঢুকে পরবে বিস্তৃত প্রান্তর।

প্রান্তরে হাঁটব, হাঁটব আর হাঁটব-

পূর্নিমার চাঁদ স্থির হয়ে থাকবে মধ্য আকাশে।

চারদিক থেকে বিবিধ কন্ঠ ডাকবে- আয় আয় আয়।

 

এই জীবনে সংসারে সুখ নেই যেন কোথাও। আধুনিক মানসে সর্বব্যপী অতৃপ্তি বাস করে। পুরুষ নারী মিলেই এই জগৎ সংসার।  এক জন নারীকে ছাড়া পুরুষ, আবার পুরুষকে ছাড়া নারী চলে না। কিন্তু নিগুঢ় সুখের মাঝেও যেন কোন্ দিক দিয়ে ঢুকে পড়ে অশান্তির সর্প। হিন্দু পুরাণে বর্নিত বেহুলা লখিন্দরের উদাহরণ টেনে কবি বলেছেন- 

 

তার সঙ্গে আমার দেখা কপাটহীন একটা অস্থির ঘরে।

ঘরটা শুধু ওঠে আর নামে।

আমি তাকে বলতে গেলাম - আচ্ছা শুনুন, আপনার কি মনে হচ্ছে না

এই ঘরটা আসলে আমাদের বাসর ঘর ?

আপনি আর কেউ নন, আপনি বেহুলা।

যেই আপনি ভালবেসে আমাকে কিছু বলতে যাবেন

ওম্নি একটা সুতা সাপ এসে আমাকে কামড়ে দেবে।

আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন। দয়া করে কিছু বলবেন না।

[বাসর]

তবে এত কিছুর মাঝেও, এই সংসারটা যে সুখেরই হয়ে ওঠে। হাসি কান্নার মাঝেই সুখ। হতাশা যাতনার মাঝেই লুকিয়ে থাকে বিস্ময়ের শান্তি। ---

 

 

শোন মিলি।

দুঃখ তার বিষমাখা তীরে তোকে

বিঁধে বারংবার।

তবুও নিশ্চিত জানি, একদিন হবে তোর

সোনার সংসার।

উঠোনে পড়বে এসে একফালি রোদ

তার পাশে শিশু গুটিকয়

তাহাদের ধুলোমাখা হাতে - ধরা দেবে

পৃথিবীর সকল বিস্ময়। [সংসার]

 

বড় অসহায় মানুষের জীবন। যৌবনে যে শক্তি, সামর্থই থাকুক না কেন বয়স কালে বড় অসহায়। একদিন যৌবন শক্কি শেষ হয়ে যায়,  রোগে শোকে বড় একাকী জীবন যাবনই যেন ক্ষয়িষ্ণু জীবনের পরিণতি।

কবির ভাষায় ---

 

আমি যাচ্ছি নাখালপাড়ায়।

আমার বৃদ্ধ পিতা আমাকে পাঠাচ্ছেন তাঁর

প্রথম প্রেমিকার কাছে।

আমার প্যান্টের পকেটে সাদা খামে মোড়া বাবার লেখা দীর্ঘ পত্র।

খুব যতেœ খামের উপর তিনি তাঁর প্রণয়িনীর নাম লিখেছেন।

কে জানে চিঠিতে কি লেখা - ?

তাঁর শরীরের সাম্প্রতিক অবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা ?

রাতে ঘুম হচ্ছেনা, রক্তে সুগার বেড়ে গেছে

কষ্ট পাচ্ছেন হাঁপানিতে - এইসব হাবিজাবি। প্রেমিকার কাছে

লেখা চিঠি বয়সের ভারে প্রসঙ্গ পাল্টায়

অন্য রকম হয়ে যায়।

সেখানে জোছনার কথা থাকে না,

সাম্প্রতিক শ্বাসকষ্ট বড় হয়ে উঠে।

প্রেমিকাও একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর

রোগভুগের কথা পড়তে ভালবাসেন।

চিঠি পড়তে পড়তে দরদে গলিত হন -

আহা, বেচারা ইদানিং বড্ড কষ্ট পাচ্ছে তো ...। 

[বাবার চিঠি]

 

 

প্রতিটি জীবকে একসময় মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয়। এই ভবের সুন্দর জীবন ছেড়ে একদিন যেতে হয় সাড়ে তিন হাত মাটির ঘরে। একদিন বার্ধক্য আসে, রূপ, রঙ  রস মুছে যায় জীবনের পাতা থেকে। তবুও যেন এই পৃথিবীর মায়া ছাড়তে চায় না মন। মনের ভেতরে বড় আশা- আহা চিরদিনই যদি এই পৃথিবী থাকতো রঙিন! কিন্তু তাই কি হয়? হয় না। তবুও রঙিন পৃথিবীর মায়ায় দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে থাকে মন। মানুষের মনের এই দোদুল্যমানতা, আশা হতাশার প্রতিফলন যেন হুমায়ূন “কব্বর” কবিতায়- 

 

তিনি শায়িত ছিলেন গাঢ় কব্বরে

যার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ বেঁধে দেয়া,

গভীরতা নয়।

কব্বরে শুয়ে তাঁর হাত কাঁপে পা কাঁপে

গভীর বিস্ময়বোধ হয়।

মনে জাগে নানা সংশয়।

মৃত্যু তো এসে গেছে, শুয়ে আছে পাশে

তবু কেন কাটে না এ বেহুদা সংশয়?

উক্ত কবিতাগুলো বিশ্লেষণ করলে এক অসামান্য কাব্য প্রতিভার স্বাক্ষর পাই হুমায়ূন আহমেদ এর মাঝে। আধুনিক কবিতার বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে - অবচেতন মনের সচেতন চেতনা, চিন্তা ও ভাবের উৎকর্ষতা, গবেষণা ধর্মী জীবন মনোভাবের প্রকাশ, -ভাব কল্পনার গগণ চুম্বিতা, জীবন ও জগৎ সম্বেন্ধে যুগপৎ ইতিবাচ ও নেতিবাচক ধারণা পোষন ও প্রকাশ- এ সবই আধুনিক কবিতার বৈশিষ্ট্য তার কবিতায় বিদ্যমান। বিশেষ করে আধুনিক মানসের অতৃপ্তি, অপূর্ণ আকাঙ্খা, তা যেন ছুয়েছে কবিদেরকেও। তাদের মাঝে একটা মনোভাব কাজ করে যে-   দুনিয়ার যে আনন্দ হর্ষ তাকে যেন ছুঁইতে পারিনি এখনো, পৃথিবীর যে বিস্ময় তার সম্বন্ধে যেন অনুভব করতে পারিনি কিছু। সব কিছুই যেন অধরাই থেকে গেল। কাজ করে আধুনিক মননের সংশয়, কাজ করে দ্বন্দ্ব। আধুনিক কবিতা যে অতীত স্মৃতির সাথে বর্তমানের একটা সম্মেলন। অতীতের অভিজ্ঞতাই যেন আধুনিক  কবিতা-মানসকে করে তোলে কম্পমান। চিন্তার উৎকর্ষতা, মানবিকতা, বাঁধা ধরা গদ থেকে বেরিয়ে মুক্ত ছন্দের ব্যবহার, প্রাত্যহিক জীবনের অনুষঙ্গ, শব্দের কাঁরিকুরি, খানিকটা দূর্বোদ্ধতা এবং চিত্রকল্পের অপরিসীম ব্যবহারই যেন আধুনিক কবিতার বৈশিষ্ট্য।  সেদিক থেকে বিশ্লেষণ করলে হুমায়ূন আহমেদের কবিতাগুলোকেও আধুনিক কবিতার স্তরে ফেলা যায় নিঃসন্দেহে।

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে একথাই প্রতীয়মান হয় যে কথা সাহিত্যে  হুমায়ূন আহমেদের ব্যাপক ভূমিকা ও অবদান পরিলক্ষিত হলেও, তিনিও মনের গভীরে ধারণ করতেন এক আধুনিক কাব্য মনিষা। তাঁর ভেতরেও পরিস্ফুটন ঘটেছিল কাব্যকলির। হয়তো সময়ের তালে ষোলকলায় পূর্ণ হয়নি হুমায়ূন আহমেদের কাব্য চন্দ্রের। তবে তাঁর কবিতাও আধুনিক কবিতারই  দৃষ্টান্ত বটে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ