ঢাকা, শুক্রবার 27 July 2018,১২ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বেজী ও গোখরা

শরীফ সাথী : পড়ন্ত বিকেল। বর্ষার টাপুর টুপুর বৃষ্টির ফোঁটা জানালার পাশে দাদু ও নাতির দেহের পরশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে শীতল বায়ুতে দোলা দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনের মতো আজও নাতির আবদার: দাদু গল্প শোনাও না এই বৃষ্টি ভেজা লগ্নে । দাদু কচি ঘাসের মতো মুচকি হেসে গল্প বলা শুরু করল-গহীন অরণ্যে জনাজীর্ন কুঠিবাড়িতে বাস করতো দুই বেজী  বন্ধু । একজনের নাম ঠুলি, আরেকজনের নাম ফুলি। বাড়ির চারিদিকে ওরা দারুণভাবে খেলা করত। পাশে পুকুরের চতুর্দিকে ফলের গাছ আম, জাম,কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা,পাকা লাল লাল ডালিম আরো কত কিছু সবুজ ছায়া ঘিরে থাকতো। বাতাসের ঢেউয়ে পুকুরের জল থৈ থৈ করত। মাছের দল এঁকে বেঁকে, দুলে দুলে খেলা খেলত। ব্যাঙের ডাকে বর্ষা আসতো। পাখিদের সবুজ শ্যামল ডালে নাচানাচি আর সুর তুলে ডাকাডাকি ছন্দ ফিরে পেতো কুঠিবাড়ি। ঠুলি ও ফুলি শখের বসে বিভিন্ন পশু পাখির বিয়ের জন্ম দিনের অনুষ্ঠান করতো। কি না আনন্দ হতো? ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ, ঝিঁঝি পোকার চিচি ঝিঝি বিভিন্ন মাছদলের লাফালাফি আর পাখিদের সুমিষ্ট গানে ভরে উঠতো কুঠিবাড়ির আঙিনা। খেয়েদেয়ে আনন্দে চলতে থাকে তাদের সুন্দর জীবন।

এবার প্রচন্ড খরা ও পানির স্তর নিচে নেমে পুকুরের জল কমে যাওয়ায় কষ্ট পেতে পেতে দেরিতে বৃষ্টির আগমন। দেরিতে হলেও পুকুর জলে ভর্তি হয়ে ব্যাঙের ও মাছদলের আনন্দের সীমা নেই। সকাল-বিকাল ডাকাডাকি। গাছ থেকে পাকাপাকা ফল পড়ে পানিতে। মাছ নাচে ব্যাঙ নাচে, নাচে ঘুগরো তালে। এভাবেই দিন যেতে থাকে। হঠাৎ একদিন ভয়ংকর এক গোখরা সাপ চুপি চুপি এসে ফস করে একটি ব্যাঙ ধরে নিয়ে গেল, পরের দিন পাখির ছানা ধরে চলে যায়। এভাবে দিন মাস পেরুতে ব্যাঙ ও পাখিদের মধুময় ডাক আস্তে আস্তে কমতে শুরু করলো। ঠুলি ও ফুলি আর ব্যাঙও পাখির ছন্দ-তালে  ঘুমাত। কিন্তু হঠাৎ করে আগের মতো আর পাখির মধুর ডাকাডাকি নেই। তারা ভাবলো ডাক্ এতো কমে যাওয়ার কারণ কি? তাই ব্যাঙ  পাখির সর্দারকে ডেকে পাঠালো। জ্বী মহাশয়,কিছু বলছেন? হ্যাঁ। তোমাদের মায়া মমতা ভরানো মিষ্টি মধুর প্রিয় ডাকাডাকি এতো কম হওয়ার কারণ কি?  পাখি সমস্ত ঘটনা খুলে বললো। ঠুলি ও ফুলি তখন  রেগে অস্থির। মাথা ঠান্ডা করে পাখিদের বুদ্ধি শিখিয়ে দিলো যখনই গোখরা তাদের ধরতে আসবে, তখনই তোমরা সুরে সুরে ডাকবে-“এসেছে এসেছেরে বন্ধু, এসেছে এসেছেরে বন্ধু”। তারপরের দিন গোখরার আসতে দেখে, ব্যাঙ ও পাখির দল মিষ্টি সুরে ডাকতে লাগলো-এসেছে এসেছেরে বন্ধু, এসেছে এসেছেরে বন্ধু? বন্ধু বলে সম্বোধন করায় গোখরা আনন্দেই আটখানা। গোখরা মিছে মিছে হাসে, তালে তালে নাচে আর ভাবে মজায় মজায় খাবো। ঠিক এই সময় ঠুলি ও ফুলি হাজির। সামনে ফুলি ফুলের মতো বিকশিত হয়ে খেলা দেখায় আর পিছন থেকে ঠুলি এক লাফে গোখরোর ঘাড় মটকে দিয়ে, দাঁতের ধারালো কাইচে দিয়ে গলা কেটে দিলো। গোখরা কুপোকাত। মুহুর্তে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেললো। তারপর থেকে আবার আনন্দে গান গাইতে শুরু করলো, ব্যাঙ ও পাখির দল।

 নাতি ফোঁকড়া দাঁতে হেসে উঠে বললো, ঠিক হয়েছে দাদু ভাই--- ঠিক হয়েছে উচিৎ শিক্ষা হয়েছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ