ঢাকা, শুক্রবার 27 July 2018,১২ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এ সরকারের পতন ছাড়া জনগণের মুক্তি আসবে না

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ আয়োজিত প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের উপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে পেশাজীবী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, সরকার দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। এমন কোনো খাত নেই, যেখানে দুর্নীতি তারা করেনি। শেয়ারবাজার লুট, ব্যাংক লুট, সোনা ল্টু, কয়লা লুট করেছে সরকারের দোসররা। এ সরকার চোরের সরকারে পরিণত হয়েছে। এ সব সত্য কথা বলতে গেলেই সরকারের রোষাণলে পড়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। দেশের কোথাও মানুষের নিরাপত্তা নেই। এ সরকারের পতন ছাড়া জনগণের মুক্তি আসবে না। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হয়ে রাজপথে নামলেই এ সরকারের পতন নিশ্চিত।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মাহমুদুর রহমানের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত পেশাজীবী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ্যাব নেতা প্রকৌশলী আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, এগ্রিকালচারিস্টস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এ্যাবের জহিরুল ইসলাম, শামীমুর রহমান শামীম, প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান চুন্নু, প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শাহজাহান মিয়া সম্রাট, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, জিয়া নাগরিক ফোরামের (জিনাফ) সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, কল্যাণ পার্টির নেতা সাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, দেশের সকলকে সংঘবদ্ধ হয়ে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপরে যে হামলা হয়েছে সেটা ন্যাক্কারজনক কথা। এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আজ হামলার তিন-চার দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটা জাতির জন্য আরো বড় লজ্জাজনক। অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

নোমান বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র নেই। সরকার দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। এমন কোনো খাত নেই যেখানে দুর্নীতি হচ্ছে না। শেষপর্যন্ত ব্যাংক লুট সোনা লুট কয়লা লুট করেছে তারা। যারা এসব লুট করছে তারা সবাই সরকারের লোক। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে এ সরকারের পতন জরুরি। দেশ বাঁচাতে ও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আমরা সংগঠিত হয়ে রাজপথে নামলেই এ সরকারের পতন নিশ্চিত।

তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান সৎ ও নিষ্ঠাবান সম্পাদক। আপসহীন নেতা হিসাবে শুধু দেশে নয়, বিদেশেও আপসহীন নেতা হিসাবে পরিচিত। এজন্য সরকার পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা করে মানুষের কণ্ঠ রোধ করতে চায়। সরকারি দল ছাড়া ময়দানে সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বেশি দিন নেই। রাস্তার মানুষদেরই জয় হবে। 

বক্তারা বলেন, সরকারের দমননীতি ও দলননীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। পত্রিকার সম্পাদকের ওপর হামলা করে পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল বন্ধ করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার বদলা হবে বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারকে বিদায় করে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। দেশের মানুষের জান মালের কোনো নিরাপত্তা নেই। সার্বক্ষণিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর অত্যচার সহ্য করা যাবে না। সময় এসেছে দানব সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ