ঢাকা, শুক্রবার 27 July 2018,১২ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

টানা বর্ষণে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ চরমে

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : রাজধানীর গুলিস্তান থেকে ইত্তেফাক মোড় যেতে বঙ্গভবন সংলগ্ন দক্ষিণ প্রান্তের ফ্লাইওভারের নীচের সড়কটি গত চারদিন ধরেই ডুবে আছে। সড়কের পানি ফুটপাত উপচে চলে গেছে দেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বঙ্গভবনের ভেতরেও। কিন্তু পানি অপসারণে কোন উদ্যোগ নেই। সড়কে বড় বড় গর্তসহ অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ময়লা কাদাপানির মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে নিরূপায় পথচারীদের। প্রতিদিন উঁচু-নীচু এ সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে রিকশা, মটরসাইকেল থেকে বাস পর্যন্ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আগারগাঁও থেকে মিরপুর-১০ হয়ে ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত সড়কটিতে দীর্ঘদিন থেকে মেট্রোরেলের কাজ চলছে। এজন্য রাস্তার মাঝখানে কিছু অংশ ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। এতে রাস্তার দুপাশের লেন সরু হয়ে গেছে। ড্রেনগুলোও বন্ধ প্রায়। এ কারণে বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটু পানি জমে যাচ্ছে। ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পড়ছে সব ধরনের যানবাহন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলায় গত চারদিনের টানা বৃষ্টিতে যানজট-জলজটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে। 

মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গত চারদিন ধরে একটানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে রাজধানীসহ সারাদেশে। কখনো মুষলধারে আবার কখনো ঝিরিঝিরি ধারায় বৃষ্টি ঝরছে। এতে গরমের তীব্রতা কমেছে। তবে অতিমাত্রায় বৃষ্টি নতুন ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। একান্ত প্রয়োজন না থাকলে ঘর হতে বের হচ্ছে না মানুষ। কিন্তু স্কুল-কলেজ, চাকরি-ব্যবসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে যারা নগরীতে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন তারা পড়ছেন বিপাকে। বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করতে হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামী এক সপ্তাহব্যাপী বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সপ্তাহের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসবে। আবহাওয়া অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষ ভারতের রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এজন্য দেশে গত চারদিন ধরে একটানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এত বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া খোঁড়াখুঁড়ির কারণেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। এসব সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। 

বঙ্গভবন সংলগ্ন দক্ষিণ প্রান্তের ফ্লাইওভারের নীচের সড়কটিতে গত বছর বৃষ্টি হলেও কোমর সমান পানি জমে যেত। এ বছর বর্ষার প্রথম দিকের বৃষ্টিপাতে এ সড়কে তেমন পানি জমতে দেখা যায়নি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সম্প্রতি ওই সড়কে ইট-বালু ফেলে উঁচু করেছে। এরপর সড়কটি দিয়ে গাড়ি চলার কারণে উঁচু-নীচু ঢেউয়ের মত সৃষ্টি হয়। গত চারদিনের বৃষ্টিতে ওই সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যাচ্ছে। ফুটপাতের ওপরও পানি উঠে যাচ্ছে। পানির মধ্য দিয়ে কোন বাস, প্রাইভেটকার চললেই ঢেউ আছড়ে পড়ছে বঙ্গভনের দেয়ালে। একেতো হাঁটু সমান পানি তার ওপর উঁচু-নীচু রাস্তা হওয়ায় রিকশা-মটরসাইকেল, সিএনজিসহ সব ধরনের গণপরিবহন বিপাকে পড়ছে। গত কয়েকদিনের মত গতকালও ওই সড়কে রিকশা উল্টে পড়তে দেখা যায়। এছাড়া দুপুরের দিকে গাবতলী থেকে সায়েদাবাদগামী একটি বাস আটকে যাওয়ায় পরে যাত্রীদের পানির মধ্যেই নামিয়ে দিতে বাধ্য হয়। পড়ে ঠেলে বাসটি ওঠাতে অনেক বেগ পেতে হয় বাসের কর্মীদের। বাস আটকে যাওয়ায় যানজটে ভোগান্তির শিকার হয় হাজার হাজার মানুষ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: আসাদুজ্জমান জানান, শুধু সড়ক নয়, বঙ্গভবনেও পানি ঢুকে যাচ্ছে। এজন্য এ সড়কটি নিয়ে সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আশা করা যায় আমরা একটি সমাধান করতে পারবো। 

মিরপুরে দীর্ঘদিন থেকে মেট্রোরেলের কাজ চলছে। বৃষ্টি হলেই ওই সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়। গতকালের বৃষ্টিতেও পানি থই থই করতে থাকে। সড়ক থেকে ফুটপাত সর্বত্রই পানি আর পানি। এর মধ্য দিয়ে পায়ে হেটে যাওয়ারও উপায় নেই। তারপরও মানুষকে বাধ্য হয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। সড়কে কোন বাস চলাচল করলেও ঢেউ আছড়ে পড়ছে ফুটপাত থেকে দোকানের মধ্যেও। বাসযাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় কাটাতে হচ্ছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। জনজীবন চরম অসহনীয় হয়ে গড়েছে।

ঢাকা-মাওয়া চার লেনে উন্নিতকরণের কাজ চলায় জুরাইন থেকে পোস্তাগোলা ব্রীজ পর্যন্ত সড়কে ব্যাপক কাজ চলছে। এ কারণে ওই সড়কে কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে। এছাড়া সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হওয়ায় ওই সড়ক দিয়ে পায়ে হেটে যাওয়ারও কোন উপায় নেই। বাস-ট্রাকও চলছে অতি সতর্কতায়। এতে ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীসহ সড়কটি ব্যবহারকারীদের। দীর্ঘদিন থেকেই সড়কটির এ অবস্থা হলেও চার লেনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির কোন উন্নতি হওয়ার আশা নেই এলাকাবাসীর। 

এছাড়া গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারণে মতিঝিল, গুলিস্তান, আরামবাগ, কমলাপুর, ধানমন্ডি, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার হলেও তাদের তৎপরতা খুব কমই লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বুধবার নগর ভবনে বাজেট ঘোষণাকালে প্রশ্নোত্তর পবে সাংবাদিকদের বলেছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। তবে জনগণের চাহিদা অনুসারে সিটি করপোরেশন কিছু পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ