ঢাকা, শুক্রবার 27 July 2018,১২ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চারদিকে অস্বস্তিকর অন্ধকার পরিবেশ --মির্জা ফখরুল

গতকাল বৃহস্পতিবার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জিয়া শিশু একাডেমি আয়োজিত জাতীয় শিশু শিল্পী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের মাঝে উপস্থিত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের চারদিকে কেন জানি একটা অস্বস্তিকর, অন্ধকার পরিবেশ। আমরা যদি গোটা বিশ্ব, পৃথিবীর দিকে তাকাই তাহলে যুদ্ধ, বিগ্রহ, হত্যা, অন্যায় চলছে। দেশে খবরের কাগজের পাতা যখন উল্টাই তখন দেখি এখানে আমাদের শিশুদের ওপর নির্যাতন চলছে, আমাদের মায়েরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, আমাদের ভাইয়েরা নির্যাতন নিপীড়নের মুখে পড়ছে। তখন সত্যিকার অর্থেই আমরা ব্যথিত হই, বিপর্যস্ত হই। কখনও কখনও মনে হয় আসলে কি অন্ধকার চারদিকে। আলো কি নেই? অবশ্যই আলো আছে। আর এই আলোর সন্ধানেই আমরা যাবো।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন হলরুম সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি অভিনয়ে জাতীয় শিশু শিল্পী প্রতিযোগিতা ‘শাপলাকুড়ি’ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জিয়া শিশু একাডেমি এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়া শিশু একাডেমি আজকে আমাকে একটি ভিন্ন জগতে নিয়ে এসেছে। যদিও এই জগতটি আমার  শৈশব,  কৈশোর ও যৌবনের। আমি এই জগতেরই একজন মানুষ ছিলাম। আমার সামনে এখন বসে আছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার ছটকু আহমেদ। সৌভাগ্য হয়েছিল ছটকু আহমদের সঙ্গে ঠাকুরগাঁও নাট্য জগতে এক সঙ্গে কাজ করার। সেই জীবন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই আজ এখানে এসে মনে হয়েছে আমি সেই ভিন্ন জগতে উপস্থিত হয়েছি।

বিএনপি মহাসচিব অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আজকে এখানে শিশুরা যে পারফর্মেন্স রেখেছে তা দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। জিয়া শিশু একাডেমি ‘শাপলাকুড়ি’ দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছে; উদীয়মান শিশুদের খুঁজে বের করে নিয়ে এসে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যাতে ভালো করতে পারে সেই চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশ বাংলাদেশ। আমরা যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করতে রক্ত দিয়েছেন। যে দেশটাকে আমাদের সুন্দর করে গড়ে তোলার কথা, কিন্তু কি হচ্ছে ? তারপরও শিশুদের জন্য বাসযোগ্য করতে আমাদেরও দায়িত্ব তেমনি শিশুদেরও তৈরি হওয়ার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।

শিশুদের উদ্দেশ্যে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তোমরা উড়ে যাও, পাখা বন্ধ করো না। একদিন না একদিন তোমরা তীরে পৌঁছাবেই। নিশ্চয়ই আমরা হাস্যোজ্জ্বল শিশুদের দেখতে পাবো। একটা ভালো বাংলাদেশ দেখতে পাবো।

উদ্বোধনের আগে হুমায়ুন কবিরের লেখা ও শিল্পী ইভান শাহরিয়ার সোহাগের পরিচালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে শাপলাকুঁড়ির একঝাঁক ক্ষুদে শিল্পী। শাপলাকুঁড়ির শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন শেষে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিল্পী মো: খুরশীদ আলম, ফাতেমা তুজ জোহরা, জিনাত রেহানা, চলচ্চিত্রকার সোহানুর রহমান, ছটকু আহমেদ, শিল্পী ইভান শাহরিয়ার সোহাগ, অভিনেত্রী মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক নির্বাচনে বিজয়ীরাই ২য় রাউন্ডে ক ও খ বিভাগে- সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি অভিনয়ের বিভিন্ন শাখার বিষয়ভিত্তিক নির্বাচনে অংশ নেবে। এখান থেকে নির্বাচিত হবে ১ম, ২য় ও ৩য় বিজয়ী। সংগীত, নৃত্য ও অভিনয়ের সর্বোচ্চ ৭৫ জন ক্ষুদে শিল্পীকে নিয়ে ৩৬টি পর্বের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে ‘শাপলাকুঁড়ি চ্যাম্পিয়ন’। পুরস্কার হিসেবে চ্যাম্পিয়নের জন্য থাকবে ৬ লাখ টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ