ঢাকা, শুক্রবার 27 July 2018,১২ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিএনপি’র সাংবাদিক সম্মেলন নির্বাচনের ৪৮ ঘন্টা পূর্বে সেনা মোতায়েন করতে হবে : বুলবুল

রাজশাহী : গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী সিট নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী (বামে) বিএনপির বুলবুল ও (ডানে) আ’লীগের লিটনের জনসংযোগ -সংগ্রাম

 

রাজশাহী অফিস : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি’র মেয়র পদপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নির্বাচনের ৪৮ ঘন্টা পূর্বে সেনা মোতায়েন করার দাবি করেছেন। নির্বাচন কমিশনের অসহযোগিতা এবং বিশেষ দল হতে নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ বাহিনীর অত্যাচার, পক্ষপাতিত্ব ও গণগ্রেফতারের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।

নগরীর মালোপাড়ায় বিএনপি অফিসে অনুষ্ঠিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শাহজাহান মিয়া, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শফিকুল হক মিলন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাড. নিপুন রায়, জেলা বিএনপি সভাপতি এডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু, জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, তানোর পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, বর্তমান সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন ও মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রমুখ। 

মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, ২৬ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী কর্তৃক ২৯টি নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা হলেও এ যাবৎ নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগের নির্বাচন আচরণবিধি লংঘনের কর্মকা-কে সমর্থন করেছে। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লংঘন করে মামলা অথবা ওয়ারেন্ট ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সেই আদেশ লংঘন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীদের যোগসাজসে পুলিশ প্রশাসন গণগ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। এই গ্রেফতার অভিযানে এ পর্যন্ত আমাদের প্রায় ১৫০ জন নেতা কর্মী এবং পোলিং এজেন্টকে অন্যায় ও অমানবিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ এবং নৌকা প্রতীকের নেতাকর্মীরা যৌথ উদ্যোগে বেছে বেছে আমাদের পোলিং এজেন্ট এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কদেরকে গ্রেফতার করে পাবনা, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অধীন বিভিন্ন রকমের জঘন্যতম মামলার আসামী করে কোর্টে চালান করছে এবং রাজশাহী জেলা পুলিশের অধীনে গোদাগাড়ী উপজেলা এবং পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন মামলার গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের নেতা কর্মীদেরকে মিথ্যাভাবে জে.এম.বি ও জামায়াত-শিবিরের সাথে, এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহমূলক পেন্ডিং মামলাতেও জড়ানো হয়েছে। এ ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন, আইনের শাসন লঙ্ঘন, ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। এ সকল ঘটনায় প্রমাণিত হয় বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ৩/৪ দিন ধরে দেখা যাচ্ছে রাজশাহীর কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী দ্বারা বিএনপি’র ১১ নং ওয়ার্ড, ২৩ নং ওয়ার্ড, ২৫নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করে বন্ধ করে দিচ্ছে এবং এসব ন্যাক্কারজনক কাজে পুলিশ প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। প্রচার মাইকগুলোকে প্রচারে বাধা দান, কর্মীদেরকে মারধর এবং প্রচার কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে। এসব অভিযোগ, আচরণবিধি লংঘন ও গ্রেফতারকৃত কর্মীদের তালিকা ক্রমান্বয়ে নির্বাচন কমিশনে জনালেও কোন প্রতিকার হয়নি। রিটার্নিং অফিসারকে লিখিত এবং মৌখিকভাবে বার বার অভিযোগ গিয়ে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বুলবুল দাবি করেন, ভোটের তিন দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। পোলিং এজেন্টসহ বিএনপি’র নেতাকর্মী ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনকারীদের গণগ্রেফতার বন্ধ করতে হবে। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে হবে। ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে। পক্ষগ্রহণকারী পুলিশ প্রশাসনের আক্রমণ হতে নেতাকর্মী ও পোলিং এজেন্টদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ