ঢাকা, শুক্রবার 27 July 2018,১২ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হারলে জেতা যায়

আখতার হামিদ খান : [১] এ আবার কেমন কথা যে, হারলে জেতা যায়? হারতো হারই। এর আবার জিত কিসের? হ্যাঁ, আমিও একথার সাথে একমত। তবে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণে চিন্তা করলে অবশ্য এ চিত্রটা পাল্টে যেতে পারে। ধরা যাক, সবল রুস্তম আলী দুর্বল ফেলু মিয়ার একগালে কষে চড় মেরেছে। ফেলু মিয়া চড় খেয়ে এক হাতে আক্রান্ত স্থান বা আঘাত প্রাপ্ত স্থান চেপে ধরে কাঁদছে। প্রতিবাদ জানাবার ভাষা তার নেই। তবে সে যদি দশ জনকে এ ঘটনা অবহিত করে বা এ সংক্রান্ত কোনো বিচার-সালিশী বসে তাহলে নিরপেক্ষ বিচারে দোষী সাব্যস্ত হবেন ঐ রুস্তম আলী। সকলের সামনে হয়তো রুস্তম আলীর শাস্তি পেতে হতে পারে, মাফ চাইতে পেতে হতে পারে বা জরিমানা হতে পারে। তাছাড়া সর্বাগ্রে ভুল স্বীকারসহ অনুতপ্ত হতে হবে। কারণ কী? কারণ আইন হাতে তুলে নিয়েছে সেই রুস্তম আলী তথা কথিত পালোয়ান, ফেলু মিয়া নয়। এক্ষেত্রে যদি রুস্তমের হার হয় তাহলে চূড়ান্ত বিচারে কিন্তু জিত হল ঐ ফেলুর। 

সারা পৃথিবী জুড়ে দুর্বলরা আজ মার খাচ্ছে। তাই বলে কি দুর্বলরা শেষ হয়ে গিয়েছে? সবল বা শক্তিশালীরা কি আধিপত্য বিস্তার করে রাজত্ব কায়েম করেই যাচ্ছে? না তা কিন্তু নয়। কারণ দুর্বলদের সংখ্যা সবলদের তুলনায় অনেক বেশী। মুষ্টিমেয় সবলরা দুর্বলদের কয়টা আঘাত হানবে- কতজনের উপরই বা আঘাত করবে? আর কতোদিনই বা এটা চলতে থাকবে? না, এটা চলতে পারে না। এটা কোনোদিন চলেও না। ব্রিটিশরা দু’শ বছর এদেশ শোষণ-শাসন করে গেছে। এরপর ২৩ বছর পাকিস্তান। আবার ত্রিশ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ স্থান পেয়েছে। স্বীকৃতি পেয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে। এসব কিছু তাড়াতাড়ি বা রাতারাতি হয় না। সময় সাপেক্ষে হয়। অর্থাৎ আমি বলতে চাইছি যে, একতাবদ্ধ কোনো গোষ্ঠী, শ্রেণী বা জাতি যতই দুর্বল হোক তারা সাময়িকভাবে হারলেও একসময় জিতে যাবেই। স্বয়ং আল্লাহপাক পবিত্র কুরআন মাজীদে বলেছেন, ‘তোমরা ধৈর্য্য ধর, আমি ধৈর্য্যধারণকারীদের পছন্দ করি’। কবি বলেছেন, ‘বিপদে মোরে রক্ষা করো, এ নহে মোর প্রার্থনা, বিপদে যেন করতে পারি জয়’। খেলার মাঠে দুই প্রবল প্রতিপক্ষের হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই ঠিকই হয়। কিন্তু দু’পক্ষ জিতে না। একপক্ষ জিতে এবং অপরপক্ষ হেরে যায়। যাকে বিজয়ী দল ও বিজিত দল বলা হয়। যারা হেরে যায় তারা পরাজয়ের মধ্যে একধরনের বিজয়ের স্বাদ পায়। পরাজিত দল ভ্রান্তিগুলো চিহ্নিত করে নবোদ্যমে কঠিন অনুশীলন করে একসময় প্রতিপক্ষের উপর আক্রমণ করে। তাদের রক্ষণব্যুহ তছনছ করে দেয়। ছিনিয়ে আনে বিজয় মালা। পরীক্ষায় ফেল করে যে ছাত্র-ছাত্রী বসে না থেকে কঠোর অধ্যবসায় করে সে অবশ্যই তাক লাগানো রেজাল্ট অর্জন করতে সক্ষম হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্কের মাঝে ফাটল ধরতেই পারে। তাই বলে এটা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। একসময় না একসময় এরও অবসান হয়। যে কোনো একজনকে অনুতপ্ত হতে হয়, নমনীয় হতে হয়। আর এতে জাত যায় না কিছুই। বরং ভালো থাকা যায়, বড় হবার পথ খুলে যায় কোনো না কোনো ভাবে। সুখ নামের পাখিটা আবার ফিরে আসে তার আপন নীড়ে।

অনেক সময় বন্ধু-বান্ধবের মাঝেও অনাকাক্সিক্ষতভাবে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ভুল বুঝাবুঝি হয়। কথা কাটাকাটি হয়। আবার একটা সময়ে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। এখানেও কোনো এক পক্ষের নমনীয় হতে হয়। বা হতে হয় অনুতপ্ত। যিনি নমনীয় বা অনুতপ্ত হলেন প্রকৃতপক্ষে তিনি কি পচে গেলেন? তিনি কি ছোট হয়ে গেলেন? তার কি জাত মান সবই গেল? মোটেই না; বরং বাস্তবিক তিনি জিতে গেলেন তাঁর নম্রতা, ভদ্রতা ও বুদ্ধিমত্তার ফলে। বিজনেস পার্টনার বা ব্যবসায়ে অংশীদারের ক্ষেত্রেও এমনটি হতে পারে। এখানে অবশ্য বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কারণটাই মুখ্য ব্যাপার। বিশ্বাসে যদি কোনো কারণে চিড় বা ফাটল ধরে তাহলে এ শ্রেণীর মাঝে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটতে পারে। অনেক সময় পরিস্থিতি মামলা-মোকদ্দমার পর্যায়ে চলে যায়। অনেক টাকা-পয়সা খরচ হয়। একটা সময় এরও হয়তো আপোষ রফা হয়। এক্ষেত্রে আর কিছু না হোক আর্থিক ক্ষতির বিনিময়ে লোক চেনা যায় এবং এ অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে খুব কাজে লাগে।

চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে অবশ্য যা ঘটে তা হচ্ছে বসের কাছে কান কথা (চুগলী) বলে। একজন অপরজনকে ডাউন দিয়ে বিভিন্ন সুবিধা (যেমন পদোন্নতি, ক্ষমতা কুক্ষিগত করা, বসের নাম ভাঙিয়ে খাওয়া বা দাপট দেখিয়ে চলা ইত্যাদি) আদায়ের প্রয়াস পায়। কিন্তু যার ক্ষতি হলো অর্থাৎ যিনি পরিস্থিতির শিকার হলেন (Victim of circumstances)  অথবা হারলেন তিনি কিন্তু নির্দোষ (Innocent) বা আংশিক দায়ী। ফলে তাকে সাময়িক বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে (প্রয়োজনে) বিভাগীয় তদন্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক সময় প্রকৃত অবস্থা জানা যায়। তখন নির্দোষ ব্যক্তির জয় হয়। 

বাক যুদ্ধ বা অযথা বিতর্ক ভালো নয়। এখানেও বাধে বিপত্তি। তর্ক-বিতর্কের ফলে এক পর্যায়ে হাতাহাতি, মারামারি, এমনকি খুন-জখম পর্যন্ত হতে পারে। আরে ভাই, যিনি হাঁটু গেড়ে তর্ক করেন তাকে তর্ক করতে দেন এবং প্রতিপক্ষ তর্ক করা থেকে নীরব থাকুন। নতুবা কৌশলে ঐ স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাওয়াই উত্তম। তর্কবাজ তর্ক করে জিতলেও দশ জনের কাছে তিনি হেরে যান। পক্ষান্তরে, প্রতিপক্ষ তর্কে হেরেও জিতে যান।

সুতরাং, একবার হারলেও ঐ হারের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে জেতার চেষ্টা করলে জয় অবশ্যই পাওয়া সম্ভব। জোর করে জিতে গিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে হোক এটা কারো কাম্য হতে পারে না। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রে এটা অনুশীলন করা যেতে পারে। সুফল কিছু তো থাকবেই, তবে কুফল বয়ে আনবে না। তবে প্রয়োজনে হারতে হবে। পরে জিত আপনার হবেই হবে।

[২]

ঈদ যাত্রায় বিড়ম্বনা আর বিড়ম্বনা!!

এম.এ হক 

ঈদ যায় ঈদ আসে। বিশ্বের মুসলমানদের জন্য প্রতি বছর দু’টি ঈদ, একটি হলো ঈদুল ফিতর এবং একটি হলো ঈদ-উল-আযহা। এই দু’টি ঈদে অনাথ, ফকির, মিছকিন, গরীব-ধনী, নি¤œবিত্ত, প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তের লোকজন যে পরিমাণ নাড়ীর টানে গাঁও-গ্রামে যায় অন্য কোন জাতি-গোষ্ঠীর লোকজন সে পরিমাণ গাঁও-গ্রামে ঈদের ছুটিতে যান না। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, কায়েস্থ, শিখ ইত্যাদিসহ প্রায় ৩৬ জাতির লোকজন বসবাস করে এই ছোট্ট একটি দেশ বাংলাদেশে। তাই এই দু’ঈদের আনন্দ মা, বাবা, ভাই-বোনদের মাঝে ভাগ-ভাটোয়ারা করে নেয়ার জন্য মূলতঃ গাঁও গ্রামে যাওয়া। কিন্তু সেই আনন্দ কি তারা ঠিক-ঠাকভাবে ভাগ করে নিতে পারছেন? বাংলাদেশে সাধারণত মানুষ নি¤œবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও গরিব। তাই এদেশের জনগণ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের আয়ের চেয়ে ব্যয় অত্যাধিক বেশী। বাংলাদেশের জনগণের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হলো লঞ্চ, বাস, মাইক্রো বাস, সিএনজি, রিকসা, অটো রিক্সা, গাড়ী,টমটম, হোন্ডা ও বরিশালে আছে রিক্সা, অটো রিক্সা, বাস, গাড়ী ও ৮ সীটের মাহিন্দ্র। 

বাংলাদেশের জনগণ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসঃ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাক্কলন তদন্ত অনুযায়ী জানা যায় যে, গ্রামাঞ্চলের ৪৭.১% লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে এবং ২৪.৬% লোকজন চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। ... অন্যদিকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০০৯-এর রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, ৪০% ভাগ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাস করে। ... বিগত ৫০, ১০০ বা ১৫০ বৎসর পূর্বে আয়-বণ্টনের নিম্নসীমায় যত সংখ্যক লোক ছিল, বর্তমানে তার সংখ্যা অনেক কম। .... Expenditures Survey (HEI)  জরিপে বলা হয় যে, দারিদ্র বিমোচন জাতীয় পর্যায়ে বছরে গড়ে হ্রাস পায় ৪.২৫% ভাগ। যেখানে রাজশাহী ও খুলনায় হ্রাসের হার ছিল যথাক্রমে ৮.৬৮% ও ৮.৪% কিন্তু শুধুমাত্র ঢাকায় ছিল ০.৯৮% ভাগ সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

সাভার, টঙ্গী, এবং নারায়ণগঞ্জ বাদে, সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভূক্ত মূল ঢাকা শহরে বসবাস করে কম করে হলেও ৭০ লক্ষ লোক। তার ওপর আবার রুজি-রুটির ব্যবস্থা। মূলত: ঢাকা শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব কত? এর জবাব আদর্শ নগর হিসেবে ‘ভ্যান্কুভার’এর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, ঢাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব সাড়ে ৩গুণ বেশী এবং অন্য দিকে রোড বা রাস্তার স্পেস চার ভাগের এক ভাগ। সেই তুলনায় যাতায়াতের জন্য গাড়ী, বাস, লঞ্চ, সিএনজি, রিকসা, অটো রিক্সার ব্যবস্থা তেমন নয়। এর পরও বিআরটিরি বড় বড় দু’তলা বাস আমদানী করে ঢাকার রাস্তায় ছাড়লে- আমার বিশ্বাস নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারনা। এখানেই শেষ নয় ... ঢাকার রাস্তায় কমসংখ্যক প্রাইভেট কার চলাচলের ফলে, ধুঁয়ো, ধূলো, বালু ও হরেণের আওয়াজের যন্ত্রণাও কমবে বলে ধারনা। 

ঈদে অর্ধকোটি মানুষ থাকছে ঢাকায় www.banglanews24.com/national/news/bd/309797. এই ওয়েব সাইট থেকে পাওয়া। ২০১১ সালের আগস্ট ১৪ ইন্টারনেট সূত্র অনুযায়ী এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, ঢাকা শহরে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৫ হাজার লোক বসবাস করে। ২০১১ সালের হিসাবে দেখা যায় যে, সরকারি চাকরীতে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৮২ হাজার ৭৬৫ জন। তবে বর্তমানে তা সাড়ে ১৩ থেকে ১৪ লাখে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সূত্রঃ উইকিপিডিয়া। 

২০১৪ সালের ২৭ জুলাই প্রতিবেদনে বলেন, এ ঈদ উপলক্ষে ঠিক কত মানুষ রাজধানী ঢাকা ছাড়বে এবার? এর যথার্থ ... গণপরিবহন ছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়িতে এবং অনেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করেও দেশের বাড়িতে যাবে। বাংলানিউজকে জনাব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বাস, ট্রেন ও লঞ্চে যে পরিমাণ মানুষ যাতায়াত করেন। তার একটি তথ্য থেকে ধারণা করা যায় যে, প্রায় ৩০ লাখ লোক সড়ক পথে বাড়িতে যাবে।

২০১৮ সালের ১৭ জুন পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ঠিক কত লোক রাজধানী ছেড়েছে তা কেউই ঠিকমত বলতে পারেনি। তবে যাতায়াতের জন্য একমাত্র পরিবহন- লঞ্চ, গাড়ী, বাস, মাইক্রো বাস, ট্রেন, লোকাল বাস সবই ছিল কানায় কানায় ভর্তি। সবাই চায় ঢাকা ছেড়ে চলে যাই নাড়ীর টানে গাঁও-গেরামে। যাত্রাবাড়ী টার্মিনাল, গাবতলী টার্মিনাল, মহাখালী টার্মিনাল, সদর ঘাট লঞ্চ ঘাট, বাসস্টেশনে কানায় কানায়  মানুষে ভরপুর ছিল। 

লঞ্চে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে যাত্রাÑ

২০১৮ সালের ১৫ জুন, আমি আমার ফেমিলি নিয়ে ঢাকা ছেড়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার জন্য অফিস থেকে বের হলাম বিকাল ৪:১৫ টায়। আর বাসা থেকে বের হই বিকাল ৪:৪৫ মিনিটের সময়। আমার সাথে ছিল ছোট মেয়ে, এক ছেলে, ভাগ্নী এবং আমরা দুইজন। চেয়ারম্যানগলীর মুখে সিএনজি পাওয়ার অপেক্ষায় দীর্ঘ ১ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে যখন কোন সিএনজি পেলাম না, তখন চিন্তায় পড়ে গেলাম। কোথাও কোন গাড়ী পাওয়া গেল না। তখন হাটতে থাকলাম র‌্যাব অফিসের দিকে। র‌্যাব অফিস পার হয়ে গাবতলা রাস্তার অপজিটে দাঁড়ানো ২টি সিএনজি। আমি মেঝ ছেলেকে সিএনজি আনার জন্য পাঠালাম, ছেলে গিয়ে সিএনজি ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করে সদরঘাট ভাড়া কত? ড্রাইভার ভাড়া চাইল একটি ৭শত ও আরেক জন ৫শত টাকা করে। চিন্তা করলাম সদরঘাট যেতে সিএনজিতে আড়াইশত বা তিনশত টাকা করে নিবে, সেখানে এতো টাকা ভাড়া দিব কিভাবে, আমি হাতে যে ভাড়ার টাকা নিয়েছি তাতে যাওয়া যাবে না। ভেবেছিলাম হয়তোবা মগবাজার চৌরাস্তায় গিয়ে গাড়ী, সিএনজি ও রিক্সা পেয়ে যাব। মগবাজার চৌরাস্তায় গিয়ে দেখি ভয়াবহ অবস্থা। কিন্তু মগবাজার গিয়ে দেখি সিএনজি যাবে না, ২/১ জন ড্রাইভার সদরঘাট ভাড়া চায় ৬/৭ শত টাকা করে। ৫ শত টাকা ভাড়া দেয়ার কথা বললে তারা যাবে না। অল্প সময় পর আরেকজন পেসেঞ্জার এসে সিএনজি নিয়ে চলে গেল। সময় দ্রুত গড়িয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আমি ওদের ৪জনকে রিক্সায় করে উঠিয়ে দিলাম। কোথাও কোন রিক্সা নেই, সিএনজি নেই, গাড়ী নেই আর দেখি মানুষের জট আর জট। এভাবে সাড়ে ৫:৪৫ টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলাম মগবাজার চৌরাস্তায়। সিএনজি ছিলনা বললেই চলে। এ কোন দেশে বাস করছি। কেউ যদি ঈদের আনন্দ বাবা, মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ভাগ করে কাটাবার ইচ্ছা থাকলেও অনেকের পক্ষে কাটানো সম্ভব নয়। কারণ বাংলাদেশের ৬০% বা ৭০% পার্সেন্ট লোক বাস করে ঢাকা শহর বা তার আস পাশে। তাদের যাতায়াতের সুন্দর কোন ব্যবস্থা না থাকাই হলো এর মূল কারণ। 

আমি কোন উপায় না পেয়ে সদর ঘাটের উদ্দেশ্যে ২ সন্তান, ১জন ভাগ্নী ও আমার স্ত্রীকে এক রিক্সায় উঠিয়ে দিলাম। আমি একা অন্য এক ব্যক্তির সাথে ১৫/২০ মিনিট পরে রিক্সায় রওয়ানা হলাম গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাঝারের কাছে নামার জন্য। রিক্সা ভাড়া নিলো ১ শত টাকা। ৪০ মিনিট পরে নামলাম পল্টন মোড়। পরে আগের রিক্সার স্ত্রীর সাথে রিং দিয়ে জানলাম তারা নাকি কাকরাইল মসজিদের পাশে জ্যামে আছে। পল্টন থেকে গোলাপশাহ মাঝার হেটে যাই এবং জ্যাম দেখে সেখান থেকে সদরঘাট লঞ্চঘাট পর্যন্ত হেটে আসছে। আমি হেটে সদরঘাট গেলেও কিন্তু অন্য রিক্সায় থাকা লোকজন সদরঘাট যেতে পারেনি।

আমি দাঁড়িয়ে ঠিক থাকতে না পেরে ভিতরে পশ্চিম দিকে গিয়ে দেখে আমি অন্য গেট থেকে আবার বের হলাম। অপেক্ষায় রইলাম ওদের জন্য। এখন অন্য রিক্সা পাওয়ার অপেক্ষার পালা। আমি সদরঘাট যেয়ে জিজ্ঞাসা করি তোমরা কোথায়? তারা বলল হেটে হেটে আসছি সদরঘাটে। তখন তারা বলে আমরা সদরঘাটে যাওয়ার আগে জজ কোর্টের অপজিটে সরকারী হাসপাতালের কাছে। আমি অনেকক্ষণ অপেক্ষায় থাকার পর তাদের সন্ধান মিলল গেটে। ইফতারীর সময় শুরু হলো। আমি অন্য একজনের কাছ থেকে পানি এনে ইফতার করলাম। তাদের ওয়ালের পাশে বসিয়ে সেজো ছেলেকে খুঁজতে লাগলাম। তাকে ১৫ জুন সকাল ১০ টায় লঞ্চঘাট পাঠাই। সে অগ্রদূত ৭ এ বিছানা করে বসে আছে। আমাদের যেতে দেরী হওয়ায় আমরা আর সে লঞ্চে যেতে পারলাম না। এদিকে আমি সেজো ছেলেকে না পাওয়ায় ভিষন চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমি সদরঘাট গিয়ে দেখি প্রচন্ড জ্যাম আর লোকে লোকারান্য। আমি ঘাট টিকিট কেটে একাএকা ভিতরে ডুকতেই প্রচন্ড চাপ। আমি দাঁড়িয়ে থেকে থেকে তাদের পানে তাকিয়ে সময় পার করছি। সাথে ছিল আমার ছোট মামনি ইভা। সে তো আমাকে ছাড়া রিক্সায় উঠবেই না। আমরা তাদেরকে ঘাটের টিকিট কাটা মাস্টারের রুমের পাশে বসিয়ে আমি খোঁজ করছি আমার সেজো ছেলের খোজে যাই। তাকে তো সকালে পাঠালাম কি অবস্থায় আছে? কোথায় আছে? জানি না। মোবাইল ছিল তাও বন্ধ। টেনশন আরো বেড়ে গেলো। আমি ওদের গেটে রেখে আমি ২ থেকে ৩ বার ভেতরে যাই। ১৫ জুন সদরঘাট লঞ্চঘাটের ভিতরে ছিল লোকে লোকারাণ্য। ভিতরে সাধারণ একটি পুরুষ বা মহিলা ঢুকতে পারেনি। এমন কি আমিও কয়েকবার চেষ্টা করে ফিরে আসি। এতো লোক হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা বলে লঞ্চ ঘাটে যাওয়ার গেট বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ শুনেছি যে, বড় একটি লঞ্চ ঘাট দিতে গিয়ে টার্মিনালে উঠিয়ে দেয় এবং কয়েকজন লোক আহত হয়। কোন লোক নিহত হওয়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি। আমি জানার চেষ্টা করেও জানতে পারলাম না। তবে আহত হওয়ার ঘটনা জানতে পেরেছি। নামও জানতে পারিনি। আর এ ঘটনার খবর সংগ্রহ করার জন্য সাংবাদিক যাওয়ার পর টার্মিনাল মেরামত করছে ওয়ার্কসপের লোকজন। আমরাও সেগুলো দেখে সুন্দরবন ১০ লঞ্চে উঠে বসি চলাচল করার পথে। অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা বা কোন সুযোগ ছিল না। 

কিন্তু আমরা গেলাম রাত সাড়ে ৮টায়। লঞ্চে ভ্রমণের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো যে, লঞ্চের নিচ তলায় খোলা বিছানায় বসলে ভাল লাগে। তাতেও ভয়। তাই আগের মত যাতায়াতের পথে দাঁড়ালাম এবং সবাইকে বললাম এখানেই দাঁড়াতে। আমি আর ওদের নিয়ে নড়াচড়া করলাম না। আমি দাঁড়াতেই বসা একব্যক্তি বললো এখানে দাঁড়াতে পারবেন না, লোকজন হাটাচলা করবে। আমি তখন বললাম ঈদে হাটাহাটি করবে সবার বিছানার উপর দিয়ে। ঐ ব্যক্তি আর উচ্য-বাচ্য  করলো না। আমরা মেয়েকে দেখে এক মহিলা বসতে দিল বিছানায়। আমি ও অন্যদেরকে নিয়ে লঞ্চের খাম্বার সাথে বসে পরলাম। দেখলাম মিনিসেই সবাই যাতায়াতের পথকে বন্ধ করে দিল। রাত ৯টায় লঞ্চ ছেড়ে দিল ঢাকার সদরঘাট থেকে। আমরা সবাই মোটামুটি সিট জোড়াতালি দিয়ে বসে গেলাম। লঞ্চের কোন স্টাফ বা মালিক এসেও কিছু সহযোগিতা করল না। সম্ভবতঃ ১৫ জুন’১৮ সুন্দরবন লঞ্চে প্রায় ১০/১২ হাজার যাত্রী হবে। যাত্রীদের ভাড়াটা ছিল খুবই চড়া। একজন যাত্রী থেকে ২৫০ টাকা হলে ১০/১২ হাজার যাত্রীর ভাড়া হবে ২৫/৩০লাখ টাকা এক রাতে। গরীব, ধনী, নি¤œবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তদের ভাড়া একই রকম। ৬শত টাকার ডাবল কেবিন ২ হাজার থেকে ৫/৬ হাজার টাকা। নরমাল ডেকের টিকিট ছিল নি¤েœ ১৫০ টাকা। এখন ঈদে ২৫০ টাকা করে ভাড়া উঠানো হলো। 

সরকারী ও বেসরকারী, আধা সরকারী অফিসগুলো একই টাইমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি দেয়ায় এ জ্যামের সৃষ্টি হয়। এক সাথে ছুটি দেয়া আর এই আনন্দঘন জনগণকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়াই সংবিধান বহির্ভুত অপরাধ বৈকি? সরকারী আর বেসরকারী অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আগ-পিছ করে ছুটি দিলে বড় ধরণের দুর্ঘটনা থেকে হয়তো জনগণ বেঁচে থাকবে আশা করি ইনশাআল্লাহ। তা না হলে বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণের মধ্যে বড় বড় লঞ্চে আগের চেয়ে ১৫ থেকে ২০গুণ যাত্রী উঠে। তাই সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে ঈদের ৩/৪ দিন আগ থেকে ছুটি দেয়া উচিত এবং বে-সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঈদের ৩/৪দিন ছুটি বাড়িয়ে দেয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। 

২০০৫ সালে ফতুল্লায় ঢাকা টু পয়সার হাটের লঞ্চ হঠাৎ ঘুর্ণি ঝড়ে বা তুফানে উল্টে গেলে তাতে লোক মারা যায় ৭/৮ শত। কিন্তু পত্রিকায় খবর আসে লোক মারা গেছে প্রায় ৩ শত বা তার চেয়ে কিছু বেশী। কিন্তু সুন্দরবন ৬, ৭, ৮, ৯, ১০,১১, ১২ সুরভী ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ লঞ্চ ডুবে যায় বা কোন দুর্ঘটনা ঘটে তাতে প্রায় ৯/১০ হাজার লোক মারা যাবে। তাহলে মৃত্যুর সংখ্যা ১৫/২০ গুণ দাঁড়াবে।

আমরা যথারীতি বরিশাল টারমিনালে পৌঁছলাম আর আমাদেরকে মাইকে বললো যে, যারা ঢাকা যাবেন তারা থেকে যান অল্প কিছু সময়ের মধ্যে লঞ্চ অর্থাৎ বরিশাল টু ঢাকার উদ্দেশ্যে বা গন্তব্যে ছেড়ে যাবে। আমি ১১/১২ বছরের ছেলের টিকিট না কেটে ওর হাতে ১০০/১৫০ টাকা দিয়ে রাখলাম। সবাইতো আগে নামবে তাই আমরাও আগে-ভাগে নামার চেষ্টা করবো। আমার সেজো ছেলে একটি ব্যাগ নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের সাথে নামার চেষ্টা করতেই সুন্দরবন ১০-এর মালিক না কর্মচারী (তা বলতে পারিনা) ছেলেকে এক ধমক দেয় ও ধাক্কা দেয় এবং এমনকি তাকে মারতে উদ্ধত হলে আমি দ্রুত গিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করি কি হয়েছে? ছেলেকে এভাবে ধমক দিচ্ছেন কেন? আমি বললাম আপনি ছেলের সাথে এভাবে ব্যবহার করছেন কেন? আমি তাকে ছেলের ভাড়া দেয়ার কথা বলতেই তারা আমার উপর ক্ষেপে যায়। আমি ছেলের ১০০ টাকা থাকাবস্থায় আরো ১০০ টাকা দিতেই চাই তখন তারা ৪/৫ জন লোক আমার মানিব্যাগের উপর থাবা দিয়ে ফেলে দিতে চাইছে এবং আমাকে ধরে টানাটানি করছে, সম্ভবত: কর্মচারী আমার টাকার মানিব্যাগটি থাবা দেয়, মনে হলো যেন ব্যাগটি খালে পড়ে গেছে। কিন্তু শক্তভাবে ধরে রাখার কারণে আর পড়েনি। আমি তখন তাদের বললাম আপনারা রোজাদার লোকদের সাথে কি ব্যবহার করতে হবে তা জানেন না। রোজার দিনে এমন খারাপ ব্যবহার করছেন কেন? তারা আবারো আমাকে একজনে ধরে নিয়ে ভিতরে যাবে এমন ভঙ্গিমা করছে, আমি বড় গলায় কথা বলা শুরু করি, আপনারা যাত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন, যাত্রীদেরকে অত্যন্ত খারাপ গালাগাল ও খারাপ আচরণ করেন কেন? রমজান মাসে এরকম খারাপ ব্যবহার করেন কেন? তারা আমাকে বলে আমাদের চেন? আমি বলি আমার চেনার কি আছে, আপনাদের লঞ্চে ভাড়া দিয়ে যাব আসবো তাতে আপনাদের চেনার দরকার পড়ে না। তাই বলে কি আপনারা বেশী ভাড়া নিবেন কেন? সেই ছেলেকে আমি ২০০ টাকা ভাড়া দেয়ার পরেও তারা আমাকে খারাপ ভাষা ব্যবহার করে যা ভাষায় ব্যবহার করতে পারিনি। আমি বলি যে, রমজানের দিনে আপনারা খারাপ ভাষা ব্যবহার বা আচরণ করলেন কেন? আপনাদের মধ্যে মনুষত্ব বলতে কিছু নেই কি? তখন অন্য একব্যক্তি এসে আমাকে বলেন, ভাই চলে যান, তাদের ভাষা, ব্যবহার ও আচরণ খুবই খারাপ তাদের সাথে তর্ক করে পারবেন না। আমি অনায়াসে চলে গেলাম। আর ১১/১২ বছরের ছেলের ভাড়া দিলাম ২০০ টাকা। কিন্তু ভাড়া ২৫০ টাকাই চেয়েছিল।  

সুন্দরবন ১০ লঞ্চে যাত্রী হবে প্রায় ১০ হাজার জন, ডেকের ভাড়া ছিল ১৫০ টাকা এখন ভাড়া নেয় ২৫০ টাকা করে এবং কেবিন ভাড়া ১৮শত থেকে ফ্যামিলি কেবিন ভাড়া ৩ হাজার টাকা। অন্য লঞ্চের কেবিন আর ভাড়ার খবর রাখলাম না। সুন্দরবন- ৮, ৯, ১০, ও ১১- লঞ্চের স্টাফদের ব্যবহারও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুবই খারাপ, তারা মানুষকে মানুষ বলে মনে করে না। কোনো লঞ্চে কোন যাত্রীকে বসার ব্যবস্থা, পানি পান করার কোন ব্যবস্থা লঞ্চে নেই। আর ডেকে যাত্রীদের বসার জন্য কোন স্টাফ বা আনসাররা কোন রকম সহযোগীতা করে না। যাত্রীরা যাত্রীরা মারামারি করলেও তারা নির্বিকারে চেয়ে চেয়ে দেখে। ১৫ জুন সুন্দরবন লঞ্চে দেখলাম এক যাত্রী বাথরুমে যাওয়ার সময় একজনের গায়ে পা লেগে যায়। আর যাতায়াতের সময় পা লাগাটাও স্বাভাবিক। আর বাথ রুমে যেতে হলে লঞ্চের পেছনে যেতে হয়। তবে ঈদের টাইমে বাথরুম বা প্র¯্রাব পায়খানা করার জন্য লঞ্চের পেছনে যেতে হয়, কেবিনের লোকজনের জন্য আলাদা আলাদা বাথ রুম আছে কিন্তু ডেকের লোকদের জন্য লঞ্চে কোন বাথরুম আশপাশে নেই। তাই জরুরী কাজ সেরে আসার পথে একব্যক্তির গায়ে পা লাগার সাথে ঐ ভদ্রলোকটি তাকে উঠেই চর লাগিয়ে দেয়, তখন আস পাশের লোকজন থাকা সত্বেও অন্য জায়গার লোকজন গিয়ে মারামারি করে। কিন্তু আশপাশের লোকজন থামালেও ধস্তা-ধস্তি করে ও মারামারি করে। মারামারি শেষ হয়ে যাওয়ার পরে ডিউটিরত আনসাররা এসে চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। কিন্তু আসপাশের লোকজনই থামিয়ে না দিলে হয়তোবা মারামারি আরো দীর্ঘায়িত হতো। আর লঞ্চে মারামারি হলে কি যে অবস্থা হতো তা বলার অপেক্ষা রাখে না।  যাত্রীদের বাথরুম, টয়লেট বা প্র¯্রাবের চাপ থাকায় যাত্রীদের টয়লেটে প্রচন্ড জ্যাম থাকে। পারাবত ৭, ৮, ৯, ১০ ও ১১ এর স্টাফদের ব্যবহারও খারাপ। রমজান মাসে আমি দুই-দুইবার ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে পারাবত ৮ লঞ্চে যাওয়ার সময় যাত্রীদের সদরঘাট থেকে ডেকে ডেকে উঠায় এবং বলে ভাড়া ১৫০/- টাকা করে। আমি কয়েকবার পারাবত লঞ্চে করে ঢাকা টু বরিশাল যাতায়াত করলে ভাড়া নেয় ১৫০/- করে।  সুন্দরবন লঞ্চে বা এ্যাডভেঞ্চার লঞ্চে ঈদ ছাড়াও ঢাকা টু বরিশাল ২৫০/৩০০ টাকা করে ভাড়া নিয়ে থাকে। আর কেউ তার প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।  

উল্লেখ্য যে, সুন্দরবন ১০ লঞ্চে যাত্রী হবে কমপক্ষে ১০ হাজারের উপরে। সুন্দরবন ১১তে পরের দিন ছিল ১০/১১ হাজারের মত। রাতে পদ্মা নদীতে ঝড় তুফানের কারণে লঞ্চে পানি উঠে গেলে যাত্রীদের মধ্যে কান্নাকাটি পড়ে যায়। আল্লাহ হয়তো সেই দিন রক্ষা করেছেন। ২০১৬ সালের ১লা মে ঢাকা থেকে পয়সার হাটের লঞ্চে করে ঢাকা থেকে হাবিবপুর নামার জন্য উঠি। তাতে আমার মেঝ ও সেজো ছেলে, ছোট মেয়ে এবং আমি ও স্ত্রী উঠি। লঞ্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছেড়ে দেয় সদরঘাট থেকে। লঞ্চ ফতুল্লা ছেড়ে মুন্সিগঞ্জের নদীতে বের হওয়ার আগে, সময় সম্ভবত: ৭টা বা সাড়ে ৭টা হবে, তখন প্রচন্ড ঝড় বা কাল বৈশাখী ঝড় শুরু হয়। প্রথম ধাক্কায় লঞ্চ কাত হয়ে যাওয়ায় লঞ্চের কেরানী ও সুকানী লঞ্চ নদীতে বের হওয়ার জন্য চালায়। এর পরে আবার যখন দমকা হাওয়া বইতে থাকে তখন লঞ্চ আবার পর পর কয়েকবার কাত হয়ে যাত্রীদেরকে পাশে সরিয়ে ফেলে, চোখে মুখে কিছুই দেখা যায় না। আমি কেরানী বা সুকানীকে দোতলায় গিয়ে লঞ্চকে পাশে নিতে বললে তারা চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে আরো কয়েকজন লোক কেরানী বা সুকানীকে স্টীয়ারিং রুমে গিয়ে ধমকাতে থাকলে লঞ্চ ফতুল্লা বরাবর পশ্চিম পাড়ে ইটাখোলায় উঠিয়ে দিলে সবার কান্নাকাটি থেমে যায় এবং লঞ্চ উঠে যায় চড়ে। পড়ে অন্য লঞ্চ এসে আমাদের লঞ্চ নামিয়ে দিয়ে যায়। তার কিছু দিন পর থেকেই আমার স্ত্রী ঐ সময় প্রচন্ড ভয় পাওয়ায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় এবং তখন থেকে ডায়াবেটিস ও কিডনী রোগ ধরা পরে।

আমি ২০ জুন রাত ৯টায় বরিশাল থেকে ঢাকা উদ্দেশ্যে পারাবত লঞ্চ ছেড়ে দেয়ার পর আবার যখন ঘাটে ভিড়ায় তখন উঠলাম। সে লঞ্চে উঠে দেখলাম যে, ভাড়া ২৫০/- টাকা করে নিচ্ছে। আমি বললাম ঈদের আগে আপনারা ১৫০/- টাকা করে ভাড়া ছিল এখন এতো ভাড়া বেশী কেন? তখন টিকিট মাস্টার কিছু না বলে চলে যান। অন্য এক যাত্রী ১৫০ টাকার ভাড়ার কথা বলার কারণে তাকে বলেন যে ঈদের কারণে আমরা ভাড়া বেশী নিচ্ছি। এখন সব লঞ্চ ২৫০/- টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে বলে টিকিট মাস্টার বলেন। যা হওয়া উচিত ছিল ১৫০ ও ২০০ টাকা করে। গত কয়েকদিন যাবত দক্ষিণাঞ্চলে পরিবহন ধর্মঘটের কারণেও নাকি যাত্রী দেখে ভাড়া নিয়েছে ২৫০/৩০০ টাকা করে। এভাবে বেশী বেশী ভাড়া লঞ্চ, গাড়ী, ট্রলার, ভ্যান, রিকসা,  সিএনজি, বরিশালে অটো ও মাহিন্দ্রতে ভাড়া বেশী করে নেয়ায় সাধারণ যাত্রীদের উপর জুলুম-নির্যাতন করছে বৈ-কি। বরিশাল টু হারতা, সাতলার গাড়ীতে ভাড়া নিয়েছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা করে। বরিশাল ও ঢাকায় যাতায়াতের মধ্যে বরিশাল থেকে সাতলার গাড়ীতেই আগের ভাড়া নিয়েছে যার জন্য আমি মালিক ও পরিবহন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। আমি ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার পরিবহন সেক্টরের মালিকগণ এবং পরিবহন সেক্টরের মালিকসহ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

২নং হারতা ইউনিয়নসহ পশ্চিম হারতা গ্রামের জনগণের পক্ষে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ