ঢাকা, শুক্রবার 27 July 2018,১২ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকার পুলিশ দিয়ে যতই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করুক শেষ পর্যন্ত মাঠে আছি : জোট প্রার্থী সরোয়ার

বরিশাল অফিস : বরিশাল সিটি নির্বাচনের একেবারের শেষ সময়ে মেয়র প্রার্থীরা ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরীর অলিগলি সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে গনসংযোগ লিফলেট বিতরন ও উঠান বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মী ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রর্থীর কেন্দ্র এজেন্টদেও বাসা বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। বিএনপি জামায়াতের নেতা কর্মীদের উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গ্রেফতার করাসহ বাসাবাড়ি তল্লাশি চালিয়ে তাদের এলাকা থেকে বিতারিত কাজে লিপ্ত রয়েছে থানা পুলিশ। গতকাল পর্যন্ত পুলিশ বিভিন্ন থানায় ২১ জন বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে আদালত যোগে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। খোজ নিয়ে জানাগেছে, আটকৃতদেও বিরুদ্ধে কোন গ্রেফতারী পরোয়ানা বা মামলা নেই। 

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৭ নং ওয়ার্ডের জামায়াত সমর্থিত জনপ্রিয় কাউন্সিলর প্রার্থী মনিরুজ্জামান তালুকদারকে আটকের ১৫ মিনিট পরে ছেড়ে দিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার ১ টা ২০ মিনিটে নগরীর গির্জামহল্লাস্থ মনিরুজ্জামানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সাদা পোশাক পরিহিত ৫/৬ লোক তাকে কোতয়ালী মডেল থানায় নিয়ে যায়। এরপরে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের ওসি (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেন। এ ব্যাপারে কাউন্সিলর প্রার্থী মনিরুজ্জামান বলেন, ভুল তথ্যে কোতয়ালী থানা পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। পরে ওসি সাহেব সব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে দুঃখ প্রকাশ করে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি সম্পর্কে কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে ফোন করা হলে তিনি মিটিং এ আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

এদিকে পুলিশের এই ধরনের গ্রেফতার অভিযান নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার বাহিরে কিনা পুলিশের কাছে এমন প্রশ্নের জবাবাবে তারা বলেন, পুলিশ বিনা মামলায় কাইকে গ্রেফতার করেনি। কোন ধরনের পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার করার বিধান নির্বাচন কমিশন আইনে নেই তার পরেও গ্রেফতার কেন? এর ব্যাখ্যা জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার ওসি বলেন, মামলা তদন্তাধীন থাকলে আসামী গ্রেফতার করা যাবে। এজাহার ভুক্ত নয় এমন লোককে কোন গ্রেফতার করা হচ্ছে জানতে চাইলে তার কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ধানে শীষের মনোনিত প্রার্থী মজিবর রহমান নগরীর ফিসারীরোডে থেকে তার নির্বাচনী শেষ মুহুর্তে গনসংযোগ শুরু করেন। গনসংযোগের এক প্রর্যায়ে মিডিয়া কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে মেয়র প্রার্থী সরোয়ার বলেন, সরকার তার পুলিশ দিয়ে যতই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করুক আমরা নির্বাচনের শেষ সময় পর্যন্ত মাঠে থাকব।

আমরা আগেও বলেছি সরকারি দলের মেয়র প্রার্থী কোন ধরনের নির্বাচন আচরন বিধি ভঙ্গ করে নির্বাচনের কার্য়ক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেখানেই যাই পুলিশ সেখানে গিয়ে বাধা দিয়ে উঠান বৈঠক সভা ভেঙ্গে দিচ্ছে। সরোয়ার বলেন আমাদের এই নির্বাচন গনতন্ত্র উদ্বার ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তির জণ্য নির্বাচন। এছাড়া পুলিশ আমাদের পুলিং এজেন্ট, দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপতার করা সহ প্রতিরাতে তাদের নেতা-কর্মীদের বাসাবাড়িতে হানা দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দিয়ে এলাকা ছাড়া করার দায়ীত্ব পালন করছেন।

পুলিশ উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে কোন কারন ছাড়াই দলীয় কর্মীদের গ্রেফতার করে নতুন নতুন মামলা জরিয়ে দিয়ে আদালতে চালান দেয়া হচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও সিইসির প্রতি আস্থা রেখে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি কিন্তু তাদের কথার সাথে পুলিশ ও সরকার দলীয় লোকের কাজের কোন মিল খুজে পাচ্ছি না। এতে করে গ্রেফতার আতঙ্কে নির্বাচনের ভোটের পরিবেশ বিগ্নিত হচ্ছে।

সরোয়ার আরো অভিযোগ করেন নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর থেকে এপর্যন্ত ২১ জন নেতা-কর্মীকে আটক করে এদের মধ্যে ধানের শীষের পুলিং এজেন্ট রয়েছে। বুধবার রাতে নগরীর পলাশপুর এলাকায় রাতে কাউনিয়া থানা পুলিশ ধানের শীষ মার্কার পুলিং এজেন্ট মোঃ মুসা সহ বিএনপি কর্মী মোঃ রাসেল ও মোঃ হাবীব নামের ৩ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর বজলুর রহমান বাচ্চু, বিএনপি কর্মী মোঃ বাদশা খন্দকার,মোঃ হানিফ হাওলাদার,জামাল শেখ,কারী আঃ মন্নান ও বেলায়েত হোসেন খোকনের বাসায় হানা দেয় পুলিশ। সরোয়ারের সাথে গনসংযোগে অংশ নেয় সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম,সাবেক মহানগর বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড. আলি হায়দার বাবুল,মহানগর বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক আনাযারুল হক তারিন। পরে চৌহুতপুর এলাকায় উঠান বৈঠক করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদান করার আহবান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ