ঢাকা, শুক্রবার 27 July 2018,১২ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে নোংরা নির্বাচন -শাহবাজ

নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন মুসলিম লীগের শাহবাজ শরীফ

২৬ জুলাই, দ্য ডন, জিও নিউজ : পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে মুসলিম লিগ (নওয়াজ)। ‘ব্যাপক অনিয়মের’ অভিযোগ করে দলটির প্রধান শাহবাজ শরিফ বলেছেন, ‘এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়।’

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘এটা পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে নোংরা নির্বাচন।’ শাহবাজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই। নওয়াজ শরিফ বর্তমানে কারাবন্দী।

গত বুধবার পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে এগিয়ে কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পিটিআই পেয়েছে ১১৩টি আসন, মুসলিম লিগ (নওয়াজ) পেয়েছে ৬৪টি, পিপলস পার্টি পেয়েছে ৪৩টি আসন। ২৭২টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য একটি দলকে ১৩৭টি আসন পেতে হবে।

গত বুধবার লাহোরে সংবাদ সম্মেলন করেন শাহবাজ শরিফ। এ ছাড়া দিবাগত রাতে টুইটারেও নিজের ক্ষোভের কথা জানান তিনি।

শাহবাজ বলেন, ‘জনগণের রায় নিয়ে স্থূল কারচুপি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গরমের মধ্যেও ভোটাররা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু যখন গণনা শুরু হলো, আমি দেখলাম ভয়াবহ অবস্থা।’

শাহবাজ অভিযোগ করেন, ঠিকমতো ফল ঘোষণা করা হচ্ছিল না। তার দলের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়।

শাহবাজ বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানিয়েছি। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও এসব অভিযোগ করেছে। আমরা তাদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।’ তার দল গণতান্ত্রিক উল্লেখ করে শাহবাজ বলেন, ‘ফল যাই হোক, আমরা মেনে নিতাম। কিন্তু জনগণের রায়কে এভাবে অশ্রদ্ধা করাটা সহ্য করার মতো না।’

তবে শাহবাজ শরিফের অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই তা সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করে কমিশন।

দলীয় এজেন্ট বের করে দেওয়া প্রসঙ্গে কমিশনের সচিব বাবর ইয়াকুব ফাতেহ জানান, যেসব রাজনৈতিক দল ভালো করেনি, সেসব দলের এজেন্টরা নিজেরাই ভোটকেন্দ্র ছেড়ে চলে যায়।

এছাড়া ভোট দানের সময় ব্যালট পেপারে সিল দিতে গিয়ে তা প্রকাশ্যে প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির সভাপতি ইমরান খানের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩০ জুলাই উপস্থিত হতে ইমরানকে নোটিশ পাঠিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।  বুধবারেই ইমরান খানের বিতর্কিত ভোটদানের বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জিওটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তানের নির্বাচনী আইনের ১৮৫ ধারা অনুযায়ী গোপনে ভোট প্রদান সম্পন্ন না করলে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদ- ও এক হাজার রুপি জরিমানার শাস্তি হতে পারে।

২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তানের নির্বাচন। জাতীয় পরিষদের পাশাপাশি দেশটিতে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটের দিন নিজের ভোট প্রদানের সময় ইমরান খান সংবাদ মাধ্যমের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে ভোট দেন। কিন্তু পাকিস্তানের নির্বাচনী আইনে এটি নিষিদ্ধ। ভোট দেওয়ার কথা গোপন ব্যালতে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা হয়।

এদিকে পিটিআইয়ের মুখপাত্র ফয়সাল জাভেদ ইমরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, ভোট দেওয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে চলে আসায় ইমরানের কোনও দোষ নেই। সেখানে তাকে ঘিরে সংবাদ কর্মীরা দাঁড়িয়েছিলেন। তারা ভিডিও গ্রহণ করেছেন। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তারই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইমরান খান বুথে না গিয়ে নির্বাচনি কর্মকর্তার টেবিলেই ব্যালট পেপারে সিল দেন।

ষড়যন্ত্র ও কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার নির্বাচন কমিশনের

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) জানিয়েছে,  ষড়যন্ত্র, কারচুপি বা কোনও চাপে নয়, কারিগরি জটিলতার কারণে ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ইসিপি সচিব বাবর ইয়াকুব এই তথ্য জানিয়েছেন।

বুধবার দিবাগত রাতে পিটিআইর অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় ইমরান খানকে ‘উজিরে আজম’ সম্বোধন করে অভিনন্দনও জানিয়েছে তারা। কিন্তু নওয়াজ শরিফের মুসলিম লীগ আর বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টিসহ শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলো ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে ফল প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসিপি প্রধান সরদার রাজা খান নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, ঠিকমতো কাজ করেছি বলেই প্রমাণিত হয়েছে। শুধু কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কিন্তু পুরো ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি নেই। বিলম্ব চলছে এবং এই বিষয়ে আমাদের করার কিছু নেই।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনার সময় ইয়াকুব জানান, ফল ঘোষণায় বিলম্বের ঘটনায় কোনও ষড়যন্ত্র বা চাপ নেই। ফল পাঠানোর ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণেই তা প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে।

ইয়াকুব বলেন, আরটিএস ব্যবস্থাটি পাকিস্তানে পরীক্ষা করা হয়নি।

সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ ৯০০ কোটি রুপি!

পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের (ইসিপি) সাধারণ সম্পাদক বাবর ইয়াকুব ফতেহ মোহাম্মদ বুধবার জানিয়েছেন, দেশটির সেনাবাহিনী ২০১৮ সালের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ৯০০ কোটি রুপি বরাদ্দ পেয়েছে। বিগত দুটি নির্বাচনে দেওয়া বরাদ্দ ছিল এর তুলনায় অনেক কম। ২০১৮ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে, যাদের মধ্যে সেনা সদস্যরাও ছিলেন।

পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদপত্র ডন লিখেছে,  বিগত দুইটি  নির্বাচনের মোট খরচেরও প্রায় তিন গুণ বেশি যে এই নির্বাচনে ব্যয় হবে তা আগে থেকেই জানা গিয়েছিল। এই খরচের বড় একটি অংশ  সেনাবাহিনীর হাতে গেছে নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশ জুড়ে সেনা সদস্য মোতায়েনের জন্য। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের মোট খরচ হয়েছে  ১৮৪ কোটি রুপি। ২০১৬ সালে এসে নির্বাচন অনুষ্ঠানের খরচ দাঁড়ায় ৪৭৩ কোটি রুপিতে, যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় ১৫৭ শতাংশ বেশি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বরাদ্দ পেয়েছিল ১২ কোটি রুপি। ২০১৩ সালের নির্বাচনে বাহিনীটির হাতে গিয়েছিল ৭৫ কোটি ৮০ লাখ রুপি। আর এবার সেটা এসে ঠেকেছে ৯০০ কোটি রুপিতে।

নির্বাচনী ব্যয়ের আরেকটি বড় খাত আমদানি করা জলছাপ দেওয়া ব্যালট পেপার। এ ধরণের ব্যালট পেপার পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হলো। এছাড়া নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ভাতাও এবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০১৩ সালে প্রিজাইডিং অফিসারের ভাতা ছিল তিন হাজার রুপি। এবার তা আট হাজার রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ