ঢাকা, শুক্রবার 27 July 2018,১২ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৩ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফিরে দেখা ইমরান খানের অতীত

২৬ জুলাই, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল/বিবিসি : নামজাদা ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ ইমরান খান। রাজনীতির শুরুতে তেমন একটা গুরুত্ব পাননি তিনি ৷ তবে সেই পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যেতে থাকে। তার ইতিবাচক ভূমিকায় পাকিস্তানের নানা শ্রেণির মানুষ সমর্থন জানান ইমরানকে।

২০১৮ সালে এসে একেবারেই ভিন্ন চিত্র। রাজনীতির মাঠে শক্ত অবস্থান। ক্রিকেটের ময়দান থেকে রাজনীতিতে আসা পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খানই দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার। অধিনায়ক ইমরান খান রাজনীতি শুরু করেন নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। যদিও তিনি পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে যথেষ্ট সুনামের অধিকারী এবং ১৯৯২ সালে তার নেতৃত্বেই সেদেশ প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ জয় করেছিল, তথাপি রাশভারী রাজনীতিবিদ হিসেবে শুরুতে তেমন একটা অবস্থান তৈরি করতে পারেননি তিনি। পিটিআই সদস্য এবং বায়োটেকনোলজি বিশেষজ্ঞ খাওয়ার সোহেল মনে করেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ এবং রাজনীতিতে স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে ইমরানের কঠোর অবস্থান জনতাকে জাগিয়ে তুলছে, যারা কিনা ক্ষমতাসীনদের কর্মকা-ে যথেষ্টই বিরক্ত ছিল।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকার করাচি প্রতিনিধি ওয়ায়িস তৌহিদ এই প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘সেই লাহোর সমাবেশ থেকেই প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এবং সাধারণ জনতা রাজনীতিবিদ ইমরানকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন, বলাবাহুল্য, পাকিস্তান পিপলস পার্টি কিংবা পাকিস্তান মুসলিম লিগের মত এখনো সংগঠিত নয় ইমরান এর দল। তবুও লাহোর সমাবেশে ইমরান তার জনপ্রিয়তাকে অবশেষে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছেন। তৌহিদ মনে করেন, পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্ম খানকে সমর্থন দিচ্ছে, যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই তরুণরাই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং বেনজির ভুট্টোকে ১৯৭৩ ও ১৯৮৮ সালে ক্ষমতায় এনেছিল। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যা ৬৩ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের কম। তরুণদের সমর্থন ছাড়া পাকিস্তানে কোন রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে সুবিধা করতে পারবে না।

অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, পাকিস্তানের ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো ইমরানকে সমর্থন দিচ্ছে, বিশেষ করে রক্ষণশীল সামরিক বাহিনী। আর এই সমর্থনের কারণ হচ্ছে তালেবান এবং অন্যান্য ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রতি তার ‘নরম' অবস্থান। করাচিতে অবস্থানরত উন্নয়ন গবেষক আমিমা সাঈদ এই বিষয়ে বলেন, তিনি এটি গোপন রাখেননি। ২০০৯ সালে সোয়াতে যখন সরকার এবং তালেবানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয়, তখন প্রথম রাজনীতিবিদ হিসেবে ইমরান এটিকে সমর্থন করেন। জামাত-ই-ইসলামী দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততাও ডানপন্থী কার্যক্রমের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন কেউ কেউ।

চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ ও সাবেক প্লেবয় ক্রিকেটার ইমরান খান তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেন আধ্যাত্মিক গুরুকে। ১৮ ফেবরুয়ারি লাহোরে ৬৫ বছর বয়সী ইমরান এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বুশরা ওয়াত্তোকে বিয়ে করেন। এতে বর-কনের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

টুইটারে পোস্ট করা বিয়ের ছবিতে কনেকে লম্বা অবগুণ্ঠনে দেখা যায়। এক সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট নারীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো ইমরান এখন প্রায়ই আধ্যাত্মিক গুরুদের সান্নিধ্যে যাওয়া-আসা করেন।

পিটিআই এর মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, ইমরান ও বুশরা ‘দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরকে’ চিনেন। বুশরা রাজনীতিবিদদের আধ্যাত্মিক পরামর্শ দেয়ার জন্য ব্যাপক পরিচিত। তবে সে বিয়ে টিকেনি বলে পরে রটনা ছড়ায়।

ইমরান খানের প্রথম স্ত্রী জেমাইমা গোল্ডস্মিথ। ব্রিটিশ ধনকুবের পরিবারের জেমাইমার সঙ্গে ১৯৯৫ সালে তার বিয়ে হয়। ২০০৪ সালে ইমরান-জেমাইমার বিচ্ছেদ ঘটে। তাদের দুটি ছেলে রয়েছে। ইহুদি পরিবারের মেয়ে জেমাইমা পাকিস্তানের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। তাছাড়া ইমরান খানের রাজনীতিতে জড়ানোর বিষয়টিও তিনি মেনে নিতে পারেননি। এরপর ইমরান ২০১৫ সালে রিহাম খানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ১০ মাস পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। রিহাম ছিলেন স্থানীয় একটি টেলিভিশন শো’র উপস্থাপক। এছাড়া তিনি বিবিসি’র আবহাওয়া সংবাদের উপস্থাপিকা ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ