ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শেষ ওয়ানডেতে আজ মুখোমুখি বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

স্পোর্টস রিপোর্টার : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে ম্যাচে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে জিতলে ওয়ানডে সিরিজ জিতবে মাশরাফিরা। আর হারলে টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও হারবে বাংলাদেশ। শেষ ওয়ানডেটি ম্যাচটি অঘোষিত ফাইনালে রূপ নিয়েছে। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পায়। ফলে এ ম্যাচের বিজয়ী দল জিতে নিবে ওয়ানডে সিরিজ। এর আগে টেস্ট সিরিজ জয় করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে আজ ম্যাচ জিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুযোগ আছে বাংলাদেশের সামনে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের বাসেটেরেতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৭টি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫টি ও বাংলাদেশ ২টিতে জিতেছে। মুখোমুখি লড়াইয়েও এগিয়ে ক্যারিবীয়রা। ৩০ ম্যাচের মধ্যে ২০টি জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৮টিতে জয় পায় বাংলাদেশ। ২০১২ সালে সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিলো বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিলো টাইগাররা। এরপর ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিলো স্বাগতিকরা। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪৮ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। ওপেনার তামিম ইকবালের অপরাজিত ১৩০ ও সাকিব আল হাসানের ৯৭ রানের সুবাদে ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৭৯ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ৪ উইকেট শিকারে ৯ উইকেটে ২৩১ রান পর্যন্ত যেতে সমর্থ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে জয় দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করে মাশরাফির দল। দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের পথ তৈরি করে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান শিমরোন হেটমায়ারের ৯৩ বলে ১২৫ রানের সুবাদে ২৭১ রানের লড়াকু স্কোর পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হেটমায়ারের কাব্যিক ইনিংস না হলে  ২শ’ রানের নিচে গুটিয়ে যাবার সম্ভাবনা ছিল  ক্যারিবীয়দের। কারণ হেটমায়ারের মতো দায়িত্ব নিয়ে দলের অন্য কোন ব্যাটসম্যানই খেলতে পারেননি। এ ম্যাচে বাংলাদেশের সফল বোলার ছিলেন রুবেল হোসেন। ৯ ওভারে ৬১ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। জয়ের জন্য ২৭২ রানের বড় টার্গেটে দুরন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। ওপেনার এনামুলক হক বিজয়  বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেন। তার ৯ বলে ২৩ রানে মারমুখী মেজাজে শুরু করে টাইগাররা। প্রথম ১৫ বলে ৩২ রান তুলে বাংলাদেশ। বিজয় ফিরে যাবার পরও রানের চাকা সচল  রেখেছিলেন বাংলাদেশের আরেক ওপেনার তামিম ও তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নামা সাকিব আল হাসান। পাওয়ার প্লে শেষে স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ৭৯ রান রাখেন তামিম ও সাকিব। পাওয়ার প্লে শেষ হবার পরও দলের স্কোর বড় করেছেন তামিম ও সাকিব। কিন্তু দলীয় ১২৯ রানে তামিম ও ১৪৫ রানে সাকিব ফিরে যাবার পর চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু দ্রুতই বাংলাদেশকে চাপমুক্ত করেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুুদুল্লাহ রিয়াদ। ৯৫ বলে ৮৭ রানের জুটি গড়েন তারা। ৩৯ রান করে মাহমুুদুল্লাহ রান আউট হয়ে ফিরে  গেলে সাব্বির রহমানকে নিয়ে ২৩ বলে ৩২ রান যোগ করে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান মুশফিকুর। কিন্তু ৪৯তম ওভারের শেষ বলে সাব্বির ও ৫০তম ওভারের প্রথম বলে মুশফিক ফিরে গেলে ম্যাচ নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। কারন শেষ পাঁচ বলে ৮ রান দরকার পড়ে টাইগারদের। কিন্তু শেষ ওভারের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম বল পর্যন্ত ব্যাট করে মাত্র ৩ রান নিতে পারেন ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন। আর ওখানেই ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ। কারণ শেষ বলে ৫ রান দরকার ছিলো সফরকারীদের। কিন্তু শেষ  ডেলিভারিতে মাত্র ১ রান নিতে পারেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ফলে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৬৮ রান করতে পারে বাংলাদেশ। শেষ দিকে এসে ম্যাচ হার যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের। এতে হতাশ টাইগার দলপতি মাশরাফি। দ্বিতীয় ওয়ানডে শেষে মাশরাফি বলেন, ‘এই ধরনের ম্যাচ হারা সত্যিই হতাশার। বারবার একই ভুল করছি আমরা। কিন্তু ভুল থেকে শিখতে পারছি না। সহজেই এ ম্যাচ শেষ করা উচিত ছিলো আমাদের। শেষ ১৩ বলে ১৪ রান লাগবে। হাতে রয়েছে ৬ উইকেট। এই পরিস্থিতিতে ম্যাচ হেরে যাবার কথা নয়। আর এমনও নয় যে, এই ঘটনা এই প্রথম হল। সাম্প্রতিক সময়ে  বেশ কয়েকবারই এমন ঘটলো। তারপরও আমরা পারছি না। এটা সত্যিই হতাশার। বারবার একই পরিস্থিতির সামনে পড়েও আমরা শিখতে পারছি না।’বারবার একই ভুল করার কারনও বুঝতে পারছেন না মাশরাফি। কোথায় সমস্যা হচ্ছে সেটিও ধরতে পারছেন না ম্যাশ। তিনি আরও বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না  কেন এমনটি হচ্ছে। টেকনিক্যাল নাকি মানসিকভাবে এটি হচ্ছে,  তাও বুঝা যাচ্ছে না। যদি ১২ বলে ২০ রান দরকার পড়তো, তবে ব্যাপারটি হতো অন্যরকম। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৩ বলে ১৪ রান দরকার ছিলো। এ অবস্থাতেও আমরা পারিনি। তাই এই পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা যায় যাচ্ছে না, এটি টেকনিক্যালি নাকি মানসিকভাবে ভুল হচ্ছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ