ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তুরস্কের ওপর অবরোধ আরোপের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের ॥ কড়া জবাব আঙ্কারার

২৭ জুলাই, রয়টার্স, আল জাজিরা : তুরস্কে আটক এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া না হলে দেশটির ওপর অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স অবরোধের হুমকি দিয়ে অ্যান্ড্রু ক্রেইগ ব্রানসন নামের ওই নাগরিককে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে এই হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে তুরস্ক। এর আগে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে ব্রানসনের মুক্তির জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক। ওই চুক্তি অনুযায়ী গত সপ্তাহে তার মুক্তির আশা করেছিল ওয়াশিংটন।

 ২০১৬ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পর সন্ত্রাসবাদ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তুরস্কে আটক হন ৫০ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক অ্যান্ড্রু ক্রেইগ ব্রানসন। ২৩ বছর ধরে তুরস্কে বসবাস করা ব্রানসন ইজমির শহরের একটি চার্চে যাজক হিসেবে কাজ করতেন। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফেতুল্লাহ গুলেনকে ফেরত পেতে চাওয়ার কথা বলে আসছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদলু জানিয়েছে, বুধবার ‘স্বাস্থ্যগত কারণে’ ব্রানসনকে মুক্তি দিয়ে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।

বুধবার উপকূলীয় শহর ইজমিরের কারাগার থেকে ব্রানসনকে বের করে একটি গাড়িবহরে করে নিয়ে যাওয়া হয়। তার আইনজীবী বলেছেন, ব্রানসনকে একটি ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণ ব্রেসলেট পরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 ব্রানসনের ঘটনা সম্পর্কে জানা একটি মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রানসনের মুক্তির জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। গত সপ্তাহে তার বিচার চলার সময়েই তার মুক্তির আশা করেছিল ওয়াশিংটন।

পেশায় খ্রীষ্ট ধর্ম যাজক ব্রানসনকে নিরপরাধ আখ্যা দিয়ে বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার পদক্ষেপ না নিলে তুরস্কের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ অবরোধ আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। 

তবে তুরস্কের ওপর কী ধরনের অবরোধ আরোপ করা হবে তা ট্রাম্প বা পেন্স কেউই বিস্তারিত বলেননি।

তবে এসব হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসলোগু বলেছেন, ‘তুরস্ককে কেউ আদেশ দিতে পারে না। আমরা কারো হুমকি কখনও বরদাস্ত করবো না।’ তুরস্কের  প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইবরাহিম কালিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের বিবৃতি ও তাতে ন্যাটো মিত্র তুরস্কের প্রতি হুমকির ভাষা ব্যবহার অগ্রহণযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই তাদের পদক্ষেপ পুর্নবিবেচনা করতে হবে। আর নিজের এবং তুরস্কের সঙ্গে মিত্রতায় নতুন কোনও ক্ষতি হওয়ার আগে গঠনমূলক অবস্থান নিতে হবে।’ ব্রানসনের বিরুদ্ধে আনা ‘সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য না হয়েও তাদের পক্ষে অপরাধ সংঘটিত করার’ অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১৫ বছরের কারাদ- হতে পারে তার। এছাড়া গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণ হলে আরও ২০ বছরের দণ্ড ভোগ করতে হতে পারে তার। তবে এসব অভিযোগ জোরালোভাবেই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

তুরস্ককে হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না বলে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন।

আঙ্কারার হাতে আটক আমেরিকান যাজককে মুক্তি না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকির জবাবে তুরস্কের পক্ষ থেকে এই জবাব এলো। বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে ইব্রাহিম কালিন এই সতর্ক বার্তা দেন।

বিবৃতিতে ইব্রাহিম কালিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে তার স্বার্থ এবং তুরস্কের সঙ্গে তার জোটের আরো ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আগে দেশটিতে অবশ্যই তার মনোভাব বদলাতে হবে এবং একটি গঠনমূলক অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ন্যাটোর মিত্র হিসেবে আমাদের দেশকে উদ্দেশ্য করে কারো হুমকিসম্বলিত ভাষা আমরা গ্রহণ করব না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ