ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ক্রিকেট ‘অধিনায়ক’ থেকে দেশের ‘অধিনায়ক’

২৭ জুলাই, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, ডয়চে ভেলে : ইমরান খান। পাকিস্তান ক্রিকেট অঙ্গনে এক সফলতার নাম। ১৯৯২ সালে তার অধিনায়কত্বেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের স্বাদ পেয়েছিল পাকিস্তান। ক্রিকেট মাতিয়ে ৯০ এর দশকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্থান ঘটে ইমরানের। দুই দশক পর সেখানেও পেলেন সফলতা। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল না পাওয়া গেলেও ৯৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী বলা যায়, ইমরানই হচ্ছেন পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। সফল ক্রিকেট অধিনায়ক ও আন্তর্জাতিক প্লে বয় হিসেবে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি-অখ্যাতি ছাড়িয়ে এখন পাকিস্তানের ভাবী ‘অধিনায়ক’ তিনি। 

ইমরানের পারিবারিক নাম, আহমেদ খান নিয়াজী ইমরান। ১৯৫২ সালের ৫ অক্টোবর লাহোরে অবস্থাসম্পন্ন এক পরিবারে জন্ম তার। ইমরান খানের জীবনযাপন সবসময়ই জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। ছোটবেলা  থেকেই খেলাধুলার প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট ছিলেন ইমরান। পড়াশোনা করেছেন অক্সফোর্ডে। অনেক বিখ্যাত নারী ও তারকার সঙ্গে ছিল প্রেমের সম্পর্ক। ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন ক্রিকেটার, সর্বকালের সেরাদের অন্যতম। তাই সাধারণ পাকিস্তানিদের তুলনায় তার অভিজ্ঞতা অন্যরকম। ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতানোর পরই তারকা বনে যান ইমরান। ফাইনালে তারা সেবার হারিয়েছিলো ইংল্যান্ডকে, যারা একসময় এই অঞ্চল শাসন করে গেছে। তাই জাতীয়ভাবে নায়কোচিত আসনে বসে যান এই তারকা। বিশ্বজয়ের উৎসবের মধ্যমণিই ছিলেন তখন ইমরান। সেসময় ৩৯ বছর বয়সী ইমরান কাঁধের ইনজুরিতেও ভুগছিলেন। কয়েকবছর পরই পাল্টে যান ইমরান। তার মা ক্যান্সারে মারা যাওয়ার পর একটি ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য লাখ লাখ ডলার সংগ্রহ করেন। এরপর ইসলামি মনাও হতে থাকেন ধীরে ধীরে। কমতে থাকে ক্যামেরার সামনে আসা, পাদপ্রদীপের আলো থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে থাকেন। তার দাবি ছিলো, এমন জীবন কখনোই শান্তি এনে দেয়নি তাকে।

ইমরানের আজকের যে যশ-খ্যাতি, তার সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ক্রিকেট থেকে। ১৯৬৮ সালে ষোল বছর বয়সে লাহোরের হয়ে সারগোরার বিরুদ্ধে প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলেন তিনি। ক্রিকেটের প্রতি ইমরান খানের আগ্রহ এবং লেগে থাকাই তাঁকে দ্রুত স্থান করে দেয় পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলে। ১৯৭০ সালে যখন দলে ডাক পান, তখনও তার পড়াশোনাই শেষ হয়নি। এরপর জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছেন, হয়েছেন অধিনায়কও। ১৯৯২ সালে তার হাত ধরেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের স্বাদ পায় পাকিস্তান। তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় নিজের পছন্দের ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গঠন করতে একেবারে একরোখা ছিলেন ইমরান। বলা হয়, এক পকেটে নিজের পছন্দের দল নিয়ে নির্বাচকদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসতেন। আর অন্য পকেটে রাখা থাকতো পদত্যাগপত্র। নির্বাচকরা তার কথায় রাজি না হলে ইস্তফা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতেন। অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করার সময় সেই ইউনিভার্সিটি টিমকেও নেতৃত্ব দেন তিনি। ক্রিকেটে পাওয়া জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই রাজনীতিতে নামেন ইমরান। তার দলের প্রতীকও ক্রিকেট ব্যাট। দলের নাম পিটিআই হলেও জনগণ একে ক্যাপ্টেন্স বলে সম্বোধন করেন প্রায়ই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ