ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আরব আমিরাতের বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথিদের ড্রোন হামলা

২৭ জুলাই, রয়টার্স, আল জাজিরা : সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি বিমানবন্দরে ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ইরান সমর্থিত বিদ্রোহীদের পরিচালনাধীন আল-মসরিহ টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, সামাদ-৩ নামের ড্রোনটি গত বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরটিতে তিনটি হামলা চালিয়েছে। ওই হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা। আমিরাতের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে দাবি করেছেন এই ধরনের কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ফ্লাইট দেরি হওয়ার তথ্য জানাচ্ছেন। আবু ধাবি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক টুইট বার্তায় জানায়, সরবরাহ যানে বিঘ্ন ঘটলেও তাতে বিমানবন্দর পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটেনি। এই ঘটনার সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের দাবির কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ আল জাজিরা।

তিন বছর আগে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী দখলে নেয় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন হাদি। তার অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

হুথি বিদ্রোহীদের একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, আবুধাবি বিমানবন্দরে হামলা চালানোর আগে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় সশস্ত্র সামাদ-৩ ড্রোনটি। হুথি বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র জেনারেল আবদুল্লাহ আল-জাফরি বলেছেন, এই হামলা প্রমাণ করে সৌদি-আমিরাত যৌথ সামরিক শক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধে নির্বাসিত  প্রেসিডেন্ট মনসুর আল হাদিকে ক্ষমতায় বসাতে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে সৌদি আরব ও আমিরাতের যৌথ সামরিক জোট। হামলার ঘটনা অস্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমিরাতের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। তবে কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করলেও সামাজিকমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, আবুধাবি বিমানবন্দরের অনেক ফ্লাইটই দেরি করছে।

তিন বছর ধরে চলা ইয়েমেন যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে পুরো ইয়েমেন দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ