ঢাকা, শনিবার 28 July 2018,১৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৪ জিলক্বদ ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেশবপুর- সাগরদাঁড়ি সড়ক বেহাল ॥ জনদুর্ভোগ চরমে

কেশবপুর (যশোর) : কেশবপুর- সাগরদাঁড়ি সড়কে খাদে আটকে যাওয়া মালবাহী পিকআপ ওঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। -ছবি: সাবদিয়া এলাকা থেকে তোলা

মোল্যা আব্দুস সাত্তার, কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : দূর থেকে দেখলে মনে হবে সড়ক নয় যেন মাটির রাস্তা। গত ২ বছর পর পর বন্যায় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় কর্তৃপক্ষ সংস্কারের নামে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ম্যাকাডাম করে সংস্কার কাজ শেষ করে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক জুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত ভারি পণ্যবাহী ট্রাক-লরি চলাচল করার সময় সড়কের এসব গর্তে আটকে গিয়ে সিমাহীন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে পথচারীসহ হাটুরেদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারি দু’সংস্থা এলজিইডি ও পর্যটন করপোরেশনের দোটানায় পড়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির সংস্কার বা পুননির্মাণ ২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। কেশবপুর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে মহাকবির জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি পর্যন্ত ওই সড়কটির অবস্থান। 

কেশবপুর-সাগরদাঁড়ি সড়ক দিয়ে প্রতিদিন পৌরসভার একাংশ, মজিদপুর, হাসানপুর, বিদ্যানন্দকাটি ও সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের মানুষসহ প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে থাকে। সাতক্ষীরা যেতে হাইওয়ের চেয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ কম হওয়ায় যশোর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করে। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমি সাগরদাঁড়িতে দেশী-বিদেশী পর্যটকসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবি ভক্তরা বনভোজনে আসায় সড়কটি সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া যশোর পুলেরহাট থেকে সাগরদাঁড়ির পাশ দিয়ে একটি সড়ক পাটকেলঘাটার কুমিরা গিয়ে মিশেছে। এ কারণেই বর্তমান কেশবপুর-সাগরদাঁড়ি সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

গত ২ বছরের বন্যায় ওই সড়কের পৌরসভা অংশ প্রায় আড়াই মাস বন্যার পানিতে ডুবেছিল। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষত-বিক্ষত সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাগরদাঁড়ি মধুমেলায় প্রধান অতিথি হয়ে আসেন। তার আগমনের খবরে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উদ্যোগে সড়কটির বড় বড় গর্তগুলি খুড়ে ফেলা হয়। এরপর মন্ত্রী হেলিকপ্টারে সাগরদাঁড়ি আসা চূড়ান্ত হওয়ায় গর্তগুলি ইটের খোয়া দিয়ে ভরে ম্যাকাডাম করে সংস্কার কাজ শেষ করা হয়। এরপর থেকে রাস্তাটি আর কার্পেটিং করা হয়নি। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে ইটের খোয়া উঠে গিয়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়ে মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। গত ২ বছর ধরে সড়কের বড় বড় গর্তে যানবাহন আটকে সীমাহীন যানজটের সৃষ্টি হয়ে চললেও এ যেন দেখার কেউ নেই। এতে একদিকে যেমন যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অন্যদিকে মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে জনগণকে ১০/১২ কিলোমিটার ঘুরে কেশবপুর শহরসহ অন্যান্য স্থানে যেতে হচ্ছে। 

এদিকে, মধুকবির জন্মভূমি সাগরদাঁড়ি পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় গত বছর বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন সড়কটি প্রশস্থ ও পুননির্মাণের ঘোষণায় এলজিইডি, জেলা পরিষদ বা পৌরসভা সড়কটির দিকে আর খেয়াল করছে না। ফলে দোটানায় পড়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার বা পুণনির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। 

কেশবপুর উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুর আলী বলেন, মধুসড়ক আপদকালীন সংস্কারের জন্য একটি প্রাক্কলন তৈরী করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সড়কটি বড় ধরনের সংস্কারের জন্য ইতিপূর্বে একটি প্রাক্কলন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনেও পাঠানো হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওই সড়কের মাপযোগ সম্পন্ন করেছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে কাজ শুরু হবে। আপাতত বড় বড় গর্তে ইট দিয়ে ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। 

জানা গেছে, পর্যটকদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকার সড়ক সংস্কারের জন্য পর্যটন মন্ত্রণালয় ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’ প্রজেক্ট গ্রহণ করেছে। ওই প্রজেক্টে কেশবপুর-সাগরদাঁড়ি সড়কটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে পর্যটন কর্পোরেশনে প্রকৌশলীরা কাজ করছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার সম্পন্ন হলে পর্যটন কর্পোরেশন এলজিইডির মাধ্যমেই কাজটি বাস্তবায়িত হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমান বলেন, রাস্তাটি পুনসংস্কারে ৪ বার টেন্ডার দেয়া হয়েছে। ঠিকাদাররা সিন্ডিকেট করে টেন্ডারে অংশ নিচ্ছেন না। আবারও বাজেট বাড়ানোর এস্টিমেট করে অচিরেই টেন্ডার দেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ